শবের সঙ্গী

মনে হয় ল্যাবে বসেছিলাম। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এদিকে সেদিকে। নাতাশা কি যেন করছে। ও আমার কলিগ।‌ছেলেটি মনে হয় দুবনায় হাসপাতালে কাজ করে। তেষ্টা পেয়েছে। কিভাবে যেন জল আটকে গেছে গলায়। না পারছি গিলতে, না উগড়ে ফেলতে। অথচ সবার ঘরে ফেরার পালা। 

ঘুম ভাঙতেই বুঝলাম তেষ্টা প্রচন্ড পেয়েছে।‌ কোন রকমে রুকস্যাক থেকে জলের বোতলটা বের করে কয়েক ঢোঁক জল গিললাম। 

চারিদিকে নিঃশব্দ। মনে হল শবেরা শুয়ে আছে এদিক সেদিক। নীচে মেয়েদের শব, উপরে ছেলেদের। কখনো নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ, নাকের কনসার্ট। না ঠান্ডা, না গরম। এয়ার কন্ডিশনার কাজ করছে। আমার শরীরটাও অনেকের শরীরের সাথে পড়ে আছে। আমি উপর থেকে সব দেখছি। 

বিশাল এক অজগর নিথর দাঁড়িয়ে আছে। পৃথিবী দুই হাত দিয়ে তাকে জাপটে ধরেছে যেন ও যেতে না পারে। চাকার গড়িয়ে যাবার শব্দ। অজগর রূপী ট্রেনটা চলতে শুরু করল। এতগুলো মানুষকে পেটের মধ্যে পুরে ও যাচ্ছে সেন্ট পিটার্সবার্গে, পিটারে। 

শরীরটাকে নীচে নামিয়ে চললাম বাথরুমের দিকে। সারি সারি মানুষের দেহ। ওদের আত্মারা মনে হয় এখন তারার দেশে বা স্বপ্ন রাজ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাথরুম থেকে ফিরে সন্তর্পণে উপরে উঠে গেলাম। আরো চার ঘণ্টা মরে থাকব বলে। 

পিটার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

Comments

Popular Posts