ব্রাহ্মণ

গতরাতে মস্কো থেকে বাসায় ফিরতে না ফিরতেই গুলিয়া বলল 
- হয় তাড়াতাড়ি খাওয়ার ব্যবস্থা কর, নয়তো তোমাকেই খেয়ে ফেলব।
আমি মস্কো গেলে রেডিমেড খাবার কিনে রেখে যাই। যেহেতু শনিবার রাতে না হলেও রোববার তাড়াতাড়ি ফেরার প্ল্যান ছিল তাই ওভাবেই ব্যবস্থা করে গেছিলাম। যাহোক, ব্যাগটা রেখে দোকানে গেলাম। আগে হ্যাম, সসেজ, নোনা মাছ, ক্যানের মাছ, মাংস বা সামুদ্রিক খাবার কিনতাম। এখন এসব এড়িয়ে চলি। তাই রেডিমেড ফুড মানে ফল। সাথে মুরগি। ফ্রিজ থেকে বের করলে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে তাই সেটা কেনা। সাথে শসা, টম্যাটো আর বেশ বড় এক তরমুজ। রাতে আলু পোড়া (আজকাল প্রায়ই একটা ব্যাগে আলু ভরে মাইক্রোওয়েভে ঢুকিয়ে দেই। পাঁচ মিনিটেই রেডি।) সাথে মুরগি আর সালাদ। তরমুজ আর কাটা হয়নি। আজ অফিস থেকে ফিরে দেখি গর্দান হারিয়ে তরমুজ ছটফট করছে।

- আজকের তরমুজ আগের কেনা দুটোর চেয়ে ভালো। গুলিয়া বলল 
- শেষ পর্যন্ত আমি তরমুজ বাছাই করতে শিখেছ। আরও জিজ্ঞেস করল 
- তুমি কীভাবে তরমুজ বাছাই কর?
 আমি সত্য কথা বললাম, 
- হাতের সামনে যেটা পাই সেটা নিয়ে আসি। 
আর যাবে কোথায়? 
- কেন, তরমুজ টোকা দিয়ে দেখ না?
মহা মুস্কিল? কি বলব? বললাম 
- তোমার সাথে প্রেম করার আগে কি তোমাকে টোকা দিয়ে দেখেছিলাম যে তুমি ভালো কি না?
- কি সব বোকার মত কথা বল?

ঝামেলার শেষ নাই। ভালো তরমুজ কিনলে ঝামেলা, খারাপ তরমুজ কিনলে ঝামেলা। দেশে বলে ব্রাহ্মণের আগে হাঁটলে দোষ, পেছনে হাঁটলেও দোষ। গুলিয়া মনে হয় আগের জন্মে ব্রাহ্মণ ছিল।

দুবনা, ১৭ আগস্ট ২০২৬

Comments

Popular Posts