সফল দিন?

ফল যদি হয় অপ্রত্যাশিত ভাবে কিছু পাওয়া তাহলে আজ মানে ২৪ মে ২০২৬ ছিল জীবনে সবচেয়ে ফলপ্রসূ দিনগুলোর একটা। 

সকালে অনিন্দ্য মেসেজ পাঠাল, "স্যার আমি দুবনা হোটেলে। আপনার সাথে কখন দেখা করা যাবে?"

অনিন্দ্য দেশ থেকে এসেছে দুবনায় নিউট্রিনো ফিজিক্সের উপর একটি কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করতে। ও এ ব্যাপারে আমাকে গত শুক্রবার জানিয়েছিল। বাড়িতে কতগুলো বই রেডি করে রেখেছিল। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে পৌঁছে দেয়া সম্ভব নয়। তাই ওকে বলেছিলাম বাড়ির আচার থাকলে একটু নিয়ে এসো। 

মস্কো আসার আগে ওর সাথে দেখা করলাম। আচারের সাথে ঘি। আমার দায়িত্ব বাড়ল। ভাত পুড়ালে ঘিয়ের কপালে কষ্ট আছে। ও হ্যাঁ, অনিন্দ্যর সাথে কথা বলে ও ওর ফিজিক্সের প্রতি ভালোবাসা দেখে ভালো লাগলো। দেখা যাক কিছু করা যায় কিনা।

এরপর মস্কো গেলাম। ঝেনিয়াকে ওর থিসিসের উপর রিপোর্ট দিতে হবে। ওকে বললাম গোর্কি স্ট্রিটে দেখা করতে। রিপোর্ট দেবার পর ও বলল কিছু দিন আগে চীন গিয়েছিল। এক প্যাকেট চা ধরিয়ে দিল।

এরপর গেলাম হোটেল কার্লটনে। সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন ও আসাদুজ্জামান মাসুম এসেছে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি আয়োজিত ফ্যাসিবাদ বিরোধী ফোরামে অংশগ্রহণ করতে। আগে সিপিবির নেতারা থাকতেন হোটেল অক্টোবরে। সেদিক থেকে হোটেল কার্লটন প্রমোশন। চন্দন শিখা আপার ভাই। শিখা আপা মস্কোর সেকেন্ড মেডিক্যালে পড়াশুনা করেছেন। দেখা হতেই চন্দন শিখা আপার পাঠানো নারু আর চানাচুর ধরিয়ে দিল। 

এরকম কয়েকদিন চললে দুদকে নাম উঠে যাবার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।

এরপর তিনজনে মিলে রেড স্কয়ারে গেলাম হাওয়া খেতে। বাতাসে সমাজতন্ত্রের গন্ধ নেই। তবে আজ আবহাওয়া ভালো থাকায় পুঁজিবাদী বাতাসও বেশ আরামদায়ক ছিল। গল্প হল দেশের রাজনীতি নিয়ে। সিপিবির আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে। সেসব নিয়ে পরে লিখব। তবে তাৎক্ষণিক অনুভূতি এভাবে প্রকাশ করা যায় 

একজন সত্যিকারের ভালো ডাক্তার এমনকি তার ভুল না থাকা সত্ত্বেও কোন রুগি মারা গেলে নিজেকে অপরাধী বোধ করে, ভাবে কি করলে এধরনের পরিণতি এড়ানো যায়। কিন্তু যে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা শুধুই পেশা সে এই ঘটনা পাশ কাটিয়ে যায়। কারণ ডাক্তারি তার প্রফেশন, প্যাশন নয়। একই ভাবে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ বা রাজনৈতিক দল তাদের কর্মকাণ্ডে দেশের ও মানুষের ক্ষতি হলে, দেশের অগ্রগতি ব্যহত হলে দোষ স্বীকার করে সেটা শোধরাতে চায়, নিজেদের ভুলকে ন্যায্যতা প্রদানের জন্য অজুহাত খোঁজে না। মৃত্যু অনিবার্য জেনেও আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করি মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে বাঁচাতে। প্রশ্ন করি আমরা সবকিছু করেছিলাম কি? সেই প্রশ্নটাই মনে হয় অনুপস্থিত। 

মস্কো, ২৫ মে ২০২৬

Comments

  1. এক সময় সিপিবি করতাম, ভেবেও এখন বিস্মিত হই! তবে, সিপিবি'র কাছে শেখার মূল্য এখনও এতোটাই যে তার বর্তমান 'লাইন' আর কর্মকাণ্ডকে এখন নির্দ্বিধায় বিরোধিতা করতে পারি।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular Posts