চাঁদা
গত কয়েকদিন ধরে মস্কোয় ভীষণ গরম। তাপমাত্রা ৩০ এর কাছাকাছি। তাই ভাবলাম অযথা লম্বা প্যান্ট পরে কি লাভ, হাঁটুর নীচের অংশটা কেটে বিক্রি করে দেই। শীতে আবার কিনে নেব।
দিনের গরমে বেশ মজা। হাতা কাটা গেঞ্জি (টি-শার্ট) আর অর্ধেকটা প্যান্ট (হাফ প্যান্ট)। কিন্তু সমস্যা সন্ধ্যার পরে ঘরে ফেরার সময়।
ছাত্রজীবনে আমাদের বছর দুয়েক পরে দেশ থেকে এক ছেলে এসেছিল মস্কোয় পড়াশুনা করতে। বছর দুয়েক পর ও আমেরিকা চলে যায়। আর ফিরে আসেনি। আমাদের যোগাযোগ ছিল অনেকদিন। একবার ও লিখল
ভালো আছি। একটা রেস্টুরেন্টে কাজ করি। উপার্জন খারাপ না। তবে প্রথম দিন কাজ থেকে ফিরছি, এক আফ্রোআমেরিকান এসেই দিল এক ঘুসি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বলল এটা আমার এলাকা। আজ ২০ ডলার দে। কাল থেকে ১০ ডলার করে দিবি।
এখন আমি রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে ১০ ডলার ওর জন্য আলাদা করে রাখি। কোন সমস্যা নেই।
আজ ভোলগার তীর থেকে ফেরার সময় ওকে মনে পড়ল। কারণ হাফ প্যান্ট পরার আনন্দের জন্য আমাকেও স্থানীয় দস্যুদের চাঁদা দিতে হয়। তবে ওরা ডলার পাউন্ড বা রুবল নেয় না, রক্ত দিয়ে ঋণ শোধ করতে হয়। আর ওরা একা আসে না, আসে ঝাঁক বেঁধে। মশারা রক্তের বিনিময়ে আমাকে আরাম করতে দেয়। হু, যে দেশে যে রীতি।
দুবনা, ২২ মে ২০২৬
Comments
Post a Comment