প্রশংসা
গত শুক্রবার রাতে খাওয়া হয়নি। হয়নি কথাটি সত্য নয়, তবে নিয়মিত খাবার খাওয়া হয়নি। পুরো সপ্তাহ কাঁধ ম্যাসেজ করিয়েছি বলে দুপুরের খাবার না খেয়েই চলে গেছি পলিক্লিনিক হয়ে অফিসে আর গুলিয়াকে বলেছি তাড়াতাড়ি চলে আসব। কিন্তু অফিস মানে ব্ল্যাক হোল, ওর আকর্ষণ থাকে বেরিয়ে আসা চাট্টিখানি কথা নয়। ফলে আসতে দেরি, দুপুরের খাবার খাই বিকেল গড়িয়ে।
এর আগে আমাদের গ্রূপে আইসক্রিম নিয়ে কথা উঠল। সোমবার আমি সাধারণত রাত দশটার ট্রেনে দুবনা ফিরি। বাসায় পৌছতে পৌছতে রাত প্রায় একটা। তবে মে দিবস ও বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সেমিনার না থাকায় সাতটার ট্রেনে দুবনা ফিরেছি। দোকান খোলা ছিল বলে দুটো আইসক্রিম কিনে আনলাম। বাসায় ফিরে দেখি গুলিয়া অপেক্ষা করছে। তাই আইসক্রিম ফ্রিজে ঢুকিয়ে অন্য খাবারের ব্যবস্থা। পেটে যেহেতু হাউজ ফুল তাই আইসক্রিমের কথাটা চেপে গেছি। এভাবেই দেখতে দেখতে শুক্রবার চলে এসেছে। অফিসে গিয়ে ডীপফ্রিজে বসে আইসক্রিম কষ্ট পাচ্ছে মনে পড়লেও বাসায় এসে বেমালুম ভুলে গেছি। গুলিয়াকে বলিনি কারণ ও আমাকে ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা করতে দুটো আইসক্রিমকেই মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে।
শুক্রবার তাই আইসক্রিমের শ্রাদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। গুলিয়া ঠিক করল স্যান্ডউইচ খাবে। ফলে সকালে রান্না করা খাবারগুলো বেকার পড়ে রইলো।
শনিবার সকালে গুলিয়া বলল আন্তন পাশের শহর কিমরী গেছে। বাজার থেকে কিছু কিনতে হবে কিনা জানতে চাইছে। ওখানে ফ্রেশ মাংস মেলে। কয়েক কেজি মাংস অর্ডার করলাম। আর নিজেরা গতরাতে ডিনার দিয়ে আজকের লাঞ্চ সেরে নিলাম।
আন্তন এলো বেশ পরে। গুলিয়া গেছে বাগানে গাছপালার সাথে কুশল বিনিময় করতে। আমি মাংসগুলো কেটে ডীপফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখছি। কি মনে করে কিছু মাংস বাইরে রাখলাম রাতে আর সকালে রান্না করব বলে। কুকুরদের লক্ষী ছেলের মত চুপচাপ থাকতে বলে ক্যামেরা নিয়ে চললাম ভোলগার তীরে।
- কখন ফিরবে? নীচে বাগানে গুলিয়া জিজ্ঞেস করল।
- এই ধর আধা ঘন্টা পরে।
ফিরে দেখি গুলিয়া বাসায় চলে গেছে।
- তুমি দুই ঘণ্টার বেশি ঘুরেছ। আমি এসে দেখি কুকুররা রীতিমতো যুদ্ধ শুরু করেছে।
- ট্রাম্প, পুতিন এরাই যুদ্ধ থামাতে পারে না আমি তো কোন কোন ছার।
এরপর লাগলাম মাংসের পেছনে। এটা ছিল স্বৈরশাসনের প্রথম ধাপ, ওদের গরম তেলে ছেড়ে দেয়া। তারপর কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা। সাথে মরিচ ও অন্যান্য মশলা। ভাত বা ঐ জাতীয় কিছুর পরিবর্তে সালাদ।
কাউকে খুব যত্ন আত্তি করলে মানে আসকারা দিলে সে মাথায় ওঠে। মাংস ব্যতিক্রম হবে কেন? গুলিয়া বলল আন্তন এত দূর থেকে মাংস আনল আর আমি নাকি তার বারোটা বাজালাম।
পরের দিন তাই মাংসের জন্য নতুন শাস্তির ব্যবস্থা হল। ওকে গরম জলে ফুটিয়ে সেদ্ধ করে মারব। ঘন্টা দুই সেদ্ধ করার পর তেল, মসলা, গতকালের সালাদ ওখানে চালান হল।
দেখে বুঝলাম গুলিয়ার পছন্দ হয়েছে। কিন্তু মুখ ফুটে বলছে না। অনেক আগে কে যেন বলেছিল যদি রান্না খারাপ হয় বেশি করে নুন দিবি। তাহলে সবাই বলবে নুনটা ঠিক থাকলে রান্নাটা চমৎকার হত। তাই আগ বাড়িয়ে বললাম
- লবনটা মনে হয় একটু কম হয়ে গেছে।
- কে বলল লবন কম। সব ঠিক আছে। রান্নাটা খুব টেস্টি হয়েছে।
আমি মনে মনে একটু হেসে মস্কোর পথে রওনা দিলাম।
মস্কোর পথে, ১৯ মে ২০২৬
Comments
Post a Comment