শিক্ষা
সকালে এসে পিটার পৌঁছলাম। সাড়ে সাতটায় আসার কথা। ছয়টার একটু আগে কন্ডাক্টর বলে গেলেন সবাই যেন প্রস্তুতি নেই। দেখলাম বাথরুমের সামনে লাইন। তাই বসে বসে লিখেছিলাম। কিছুক্ষণ পরে গ্রীন লাইট জ্বলে উঠল। গেলাম টুথ ব্রাশ করতে। হাতে তখনও বেশ সময়। হঠাৎ ট্রেন থামল। ভাবলাম পিটারের আগে কোন স্টেশন। আমি নিশ্চিন্ত মনে দাঁত ঘষে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পরে বেরিয়ে দেখি যাত্রীরা নেমে যাচ্ছে। গুলিয়া একটু রাগ রাগ ভাব নিয়ে আমার অপেক্ষায়। কোন কিছু গোছানো হয়নি। কিন্তু ট্রেন ব্যাটা যদি আগে চলে আসে আমি কি করব?
এর আগে অবশ্য মস্কো থেকে আসার সময় আরেক ঝামেলা। স্টেশনে এসে দেখি আমাদের ট্রেন ছাড়বে চার নম্বর পথ থেকে। বেলগোরাদ - পিটার এই ট্রেনে আমরা উঠব মস্কো থেকে। টাইম টেবিলে লেখা ২১.১৩ ও ২১.২৮। আমাদের ট্রেন ২১.২৮ এ। আমার কেন যেন মনে হল ২১.১৩ তে আরও একটা ট্রেন যাবে। আমরা পরেরটায় যাব। লোকজন ট্রেনে উঠছে। আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি। ২১.২৮ এর ট্রেনের জন্য। গুলিয়া বারবার বলছে ট্রেনে উঠতে। আমি বলছি এটা আমাদের ট্রেন না। গুলিয়ার বলেই যাচ্ছে। বিরক্ত হয়ে লোকজনদের জিজ্ঞেস করলাম। বলল এটা ২১.২৮ এ পিটার যাবে। লাগেজ নিয়ে গেলাম আমাদের বগিতে। তবে কিছুতেই বুঝতে পারলাম না ঝামেলা কোথায়।
মেট্রো থেকে বেরিয়ে ক্যাপুচিনো খেলাম। ক্রিস্তিনা থাকে ৪৫ নম্বর বাড়িতে। কফি খেলাম ২১ নম্বরে। আমার জানা মতে রাস্তায় দাঁড়ালে হাতের ডান দিকে যদি জোড় নম্বর থাকে তাহলে সামনের দিকে গেলে সেটা হবে ভাটি, মানে সেদিকে নম্বর বাড়তে থাকবে। আর বিজোড় সংখ্যা থাকলে উল্টো, মানে সামনে উজান, নম্বর কমবে। আমি সেভাবেই হাঁটতে শুরু করলাম। কিছু দূর গিয়ে দেখলাম একজন কুকুর নিয়ে ঘুরছে, মানে স্থানীয়। তাকে জিজ্ঞেস করলে বললেন উল্টো দিকে যেতে হবে। মহা মুস্কিল। গুলিয়ার রাগ এখন জ্বরের আকার ধারণ করেছে। ও ইতিমধ্যে ক্রিস্তিনাকে ফোন করেছে। ওকে ছাড়া আর এক পাও এগুবে না। ক্রিস্তিনা এলে ওকে প্রথমে মস্কোয় ট্রেনে ওঠা আর পিটারে সবার শেষে ট্রেন থেকে নামার গল্প শোনালো। এতক্ষণে আমি অবশ্য শুভঙ্করের ফাঁকি ধরতে পারলাম। টাইম টেবিলে দুটো সময়ের প্রথমটা ছিল ট্রেন আসার সময়, দ্বিতীয়টা ছাড়ার।
সারাদিন হাঁটতে হাঁটতে শেষে যখন ফান্তানকা আর নেভস্কি প্রসপেক্ট ধরে যাচ্ছি, তখন খেয়াল করলাম পিটারে মস্কোর ঠিক উল্টোটা, মানে সামনের দিকে তাকালে ডান হাতে যদি বিজোড় নম্বর থাকে তাহলে সামনে হবে ভাটি। যত এগিয়ে যাবে বাড়ির নম্বর তত বাড়বে। হতেই পারে। এটা তো আর ফিজিক্সের থিওরি নয় যে সব দেশে সব শহরে এক রকম হবে। কত অজানারে। আসলে জীবনে শিখতে হলে ভুল করতে হয়। হোঁচট না খেলে উঠে দাঁড়ানো যায় না।
পিটার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
Comments
Post a Comment