পিটার যাত্রা
গুলিয়া আজ পিটার গেল দুই দিনের জন্য। ক্রিস্টিনাকে নিয়ে কাল ঘুরবে আর পরশু দুজনে কারেলিয়া যাবে একদিনের ট্যুরে। ওখান থেকে ক্রিস্টিনা যাবে পিটার, গুলিয়া তভের হয়ে দুবনা। রোববার আমি মস্কো যাব। কুকুরদের একা রেখে নাকি যাওয়া যাবে না। আমি ভেবে পাই না জনা দশেক সুস্থ সবল কুকুর একা হয় কীভাবে?
আমি অনেকবার বলেছিলাম মস্কো হয়ে যেতে। তবে তাতে রাস্তা বাড়ে এই অজুহাতে গুলিয়া তভের হয়ে যাবে ঠিক করল। দুবনা থেকে তভের যাওয়ার বাস তেমন নেই বললেই চলে। অনেকেই কিমরি থেকে তভেরের বাসে ওঠে। হঠাৎ একটা বাসের সন্ধান পেলাম। টিকেট কেটে গেলাম স্টেশনে। কি যেন ভেবে আমি গেলাম ওকে বাসে উঠিয়ে দিতে। বাসের টিকির দেখা নেই। ফোন করলাম। বলল ওরা শুধু টিকেট বিক্রি করে। বাসের দায়িত্ব অন্যদের। নম্বর দিল। ওখানে ফোন করলে বলল তাদের টাইম টেবিলে এরকম বাস নেই। আমরা কিমরি এলে ওরা তভের পাঠিয়ে দেবে। শেষ পর্যন্ত গুলিয়াকে কিমরির গাড়িতে উঠিয়ে আমি বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পরে গুলিয়া ফোন করে জানাল ও তভেরের বাসে। এরপর মনে হল যাদের কাছ থেকে টিকেট কিনলাম ওদের কাছে টাকা ফেরত চাওয়া দরকার। ভাবতে ভাবতেই ওদের মেইল পেলাম যেন আমি নিজেই টিকেট ফেরত চেয়েছি। ওরা আমার কার্ডে টাকা ফেরত পাঠাবে। এরপর গুলিয়ার ফোন
আমি ইয়েকাতেরিনার রেস্ট হাউজের দিকে যাচ্ছি।
তভের অনেক পুরানো শহর হলেও বর্তমান রূপ পায় সম্রাগী ইয়েকাতেরিনার সময়ে। মস্কো আর পিটারের মাঝামাঝি হওয়াতে তিনি এখানে রেস্ট নিতেন।
ওর ট্রেন ১৯.০৫। টিকেট ওর হাতে। ই-টিকেট। তারপরেও ফোন করে জানতে হবে
আমার ট্রেন কয়টায়।
তোমাকে টিকেট প্রিন্ট করে দিলাম। ওখানে দেখলেই তো হয়। ১৯.০৫ এ ট্রেন।
আমার ৩ নম্বর বগি। কিন্তু জানি না ওটা মাথার দিকে না লেজের দিকে। তুমি একটু দেখে দেবে?
মাঝের বগিতে উঠে সামনে বা পেছনে চলে যাও বা স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞেস কর।
আসলে এ ধরনের প্রশ্ন আমার মেজাজ খারাপ করে দেয়। গুলিয়া মনে হয় ইচ্ছে করেই এমন সব প্রশ্ন করে। যেমন
তোমার কি মনে হয় এই কুকুরটা আমাদের ঐ কুকুরটার মত দেখতে?
ও অবশ্য এসব কুকুরের নাম বলে। আমি ছাত্রদের নামই মনে রাখতে পারি না, কুকুরদের নাম কিভাবে মনে রাখব? তাই বলি তোমার সব কুকুর দেখতে কুকুরের মত।
তুমি ভালো করে দেখ। ওর চোখ ঠিক আগেরটার মত।
কি বলব? আমি কখনো আগের কুকুরের চোখের দিকে ভালো করে তাকাইনি।
রাত সাড়ে এগারোটায় ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম ক্রিস্টিনার সাথে যোগাযোগ করেছে কিনা? ট্রেন পৌছুবে সাড়ে বারোটায়। পিটারে মেট্রো কাজ করে বারোটা পর্যন্ত। মস্কো থেকে গিয়ে অনেকেই সেটা খেয়াল করে না। তাছাড়া রাত একটার দিকে ব্রীজ তুলে দিতে শুরু করে। ঐ ঝামেলায় পড়লে ভোরের আগে আর বাসায় ফেরা হবে না। রাত দেড়টার দিকে জানতে চাইলাম ওদের খবর কী?
মামা বসে বসে তভের থেকে আনা কেক খাচ্ছে। আমার রান্না নাকি তোমার চেয়েও ভালো।
আমার এ নিয়ে সন্দেহ ছিল না। রান্নার ব্যাপারে আমি যেকোনো লোকের কাছে হেরে যাব। এর মধ্যে দেখি টিকেটের টাকাটা ফেরত এসেছে। এক দিকে ভালো যে টাকাটা ক্লেইম করার আগেই ফেরত দিয়েছে। তবে ওদের কারণে যদি ট্রেন মিস করতাম (আমাদের ইনিসিয়াল প্ল্যান ছিল ১৬.৪৫ এর ট্রেনের টিকেট কাটা, কারণ না সা বাস্টি ১৬.১৫ তভের পৌঁছানোর কথা) তাহলে সেই ক্ষতিপূরণ কারা দিত?
সকালে ক্রিস্টিনা ছবি পাঠাল। গুলিয়া ২০০ বছরের এক ওক গাছের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। লিখলাম
২০০ বছর বাঁচলে মামা গাছকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে এখন ঐ গাছের পাশে মামাকে বেশ স্লীম দেখাচ্ছে।
উত্তর এলো
আগে ২০০ বছর পর্যন্ত তো বাঁচি তারপর দেখা যাবে। তালপাতার সেপাইয়ের পাশে অনেক স্লীম ফিগারও বেমানান লাগে!
দুবনা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আমি অনেকবার বলেছিলাম মস্কো হয়ে যেতে। তবে তাতে রাস্তা বাড়ে এই অজুহাতে গুলিয়া তভের হয়ে যাবে ঠিক করল। দুবনা থেকে তভের যাওয়ার বাস তেমন নেই বললেই চলে। অনেকেই কিমরি থেকে তভেরের বাসে ওঠে। হঠাৎ একটা বাসের সন্ধান পেলাম। টিকেট কেটে গেলাম স্টেশনে। কি যেন ভেবে আমি গেলাম ওকে বাসে উঠিয়ে দিতে। বাসের টিকির দেখা নেই। ফোন করলাম। বলল ওরা শুধু টিকেট বিক্রি করে। বাসের দায়িত্ব অন্যদের। নম্বর দিল। ওখানে ফোন করলে বলল তাদের টাইম টেবিলে এরকম বাস নেই। আমরা কিমরি এলে ওরা তভের পাঠিয়ে দেবে। শেষ পর্যন্ত গুলিয়াকে কিমরির গাড়িতে উঠিয়ে আমি বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পরে গুলিয়া ফোন করে জানাল ও তভেরের বাসে। এরপর মনে হল যাদের কাছ থেকে টিকেট কিনলাম ওদের কাছে টাকা ফেরত চাওয়া দরকার। ভাবতে ভাবতেই ওদের মেইল পেলাম যেন আমি নিজেই টিকেট ফেরত চেয়েছি। ওরা আমার কার্ডে টাকা ফেরত পাঠাবে। এরপর গুলিয়ার ফোন
আমি ইয়েকাতেরিনার রেস্ট হাউজের দিকে যাচ্ছি।
তভের অনেক পুরানো শহর হলেও বর্তমান রূপ পায় সম্রাগী ইয়েকাতেরিনার সময়ে। মস্কো আর পিটারের মাঝামাঝি হওয়াতে তিনি এখানে রেস্ট নিতেন।
ওর ট্রেন ১৯.০৫। টিকেট ওর হাতে। ই-টিকেট। তারপরেও ফোন করে জানতে হবে
আমার ট্রেন কয়টায়।
তোমাকে টিকেট প্রিন্ট করে দিলাম। ওখানে দেখলেই তো হয়। ১৯.০৫ এ ট্রেন।
আমার ৩ নম্বর বগি। কিন্তু জানি না ওটা মাথার দিকে না লেজের দিকে। তুমি একটু দেখে দেবে?
মাঝের বগিতে উঠে সামনে বা পেছনে চলে যাও বা স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞেস কর।
আসলে এ ধরনের প্রশ্ন আমার মেজাজ খারাপ করে দেয়। গুলিয়া মনে হয় ইচ্ছে করেই এমন সব প্রশ্ন করে। যেমন
তোমার কি মনে হয় এই কুকুরটা আমাদের ঐ কুকুরটার মত দেখতে?
ও অবশ্য এসব কুকুরের নাম বলে। আমি ছাত্রদের নামই মনে রাখতে পারি না, কুকুরদের নাম কিভাবে মনে রাখব? তাই বলি তোমার সব কুকুর দেখতে কুকুরের মত।
তুমি ভালো করে দেখ। ওর চোখ ঠিক আগেরটার মত।
কি বলব? আমি কখনো আগের কুকুরের চোখের দিকে ভালো করে তাকাইনি।
রাত সাড়ে এগারোটায় ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম ক্রিস্টিনার সাথে যোগাযোগ করেছে কিনা? ট্রেন পৌছুবে সাড়ে বারোটায়। পিটারে মেট্রো কাজ করে বারোটা পর্যন্ত। মস্কো থেকে গিয়ে অনেকেই সেটা খেয়াল করে না। তাছাড়া রাত একটার দিকে ব্রীজ তুলে দিতে শুরু করে। ঐ ঝামেলায় পড়লে ভোরের আগে আর বাসায় ফেরা হবে না। রাত দেড়টার দিকে জানতে চাইলাম ওদের খবর কী?
মামা বসে বসে তভের থেকে আনা কেক খাচ্ছে। আমার রান্না নাকি তোমার চেয়েও ভালো।
আমার এ নিয়ে সন্দেহ ছিল না। রান্নার ব্যাপারে আমি যেকোনো লোকের কাছে হেরে যাব। এর মধ্যে দেখি টিকেটের টাকাটা ফেরত এসেছে। এক দিকে ভালো যে টাকাটা ক্লেইম করার আগেই ফেরত দিয়েছে। তবে ওদের কারণে যদি ট্রেন মিস করতাম (আমাদের ইনিসিয়াল প্ল্যান ছিল ১৬.৪৫ এর ট্রেনের টিকেট কাটা, কারণ না সা বাস্টি ১৬.১৫ তভের পৌঁছানোর কথা) তাহলে সেই ক্ষতিপূরণ কারা দিত?
সকালে ক্রিস্টিনা ছবি পাঠাল। গুলিয়া ২০০ বছরের এক ওক গাছের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। লিখলাম
২০০ বছর বাঁচলে মামা গাছকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে এখন ঐ গাছের পাশে মামাকে বেশ স্লীম দেখাচ্ছে।
উত্তর এলো
আগে ২০০ বছর পর্যন্ত তো বাঁচি তারপর দেখা যাবে। তালপাতার সেপাইয়ের পাশে অনেক স্লীম ফিগারও বেমানান লাগে!
দুবনা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫


Comments
Post a Comment