কালাপোড়া

কালাপোড়া যারা তেলাপোকা মনে করে ভুল করছেন তাদের আগে এ নিয়ে দুটো কথা বলি। চচ্চরি যে অংশ পুড়ে কড়াইয়ের নীচে লেগে যায় সেটা হল কালাপুড়া। অন্তত আমি ঐ নামেই ডাকতাম।

দেশে থাকতে খাবার দাবার নিয়ে আমার বাছ বিচারের অন্ত ছিল না। মা তাই বলতেন "ঘরে ধান দুয়ারে ধান অন্ধ বিনে যায় প্রাণ।" চিতল, রুই, কই আর কাজলি মাছের বাইরে অন্য কোন মাছ খেতাম না। তবে কালাপোড়া খুব পছন্দ করতাম। মাকে বলতাম কালাপোড়া রাঁধতে। তবে মায়েরা ইচ্ছে করে খাবার পুড়াতে পারে না। তাই সেটা কপালে জুটত কালেভদ্রে। মনে হয় ছোটবেলার সেই অপূর্ণ স্বপ্ন আমি পূরণ করি প্রতিদিন খাবার পুড়িয়ে যদিও সেটা হয় অনিচ্ছায়, স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে। 

গত বৃহস্পতিবার খুব হালকা রান্না। বেগুন ভাজি, কুমড়া ভাজি, রেডিমেড মাছের বরা ভাজি আর শালগমের চচ্চরি। গুলিয়া বাগানে কাজ করছিল। আমি খেয়ে অফিসে চলে যাই।

মাঝে কিছুক্ষণের জন্য বাসায় ফিরে ক্লাবে। রাতে ক্লাব থেকে ফিরলাম বিরাট এক তরমুজ নিয়ে। খেয়াল করলাম চচ্চরিটা পুড়ে গেছে। ভাবলাম গুলিয়া গরম করতে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে। 
তুমি দুপুরে খাওনি?
তুমি খাবার রেখে যাওনি। তাই তরমুজ খেয়েছি।
বা রে, বিভিন্ন ভাজি আর শালগমের চচ্চরি ছিল।
তুমি অফিসে যাবার সময় হিটার অফ করে গেছিলে?

আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না, কারণ আমার জীবনটাই বিশাল এক্স মানে মনে মনে আমি হিটার অফ করতেই পারি! তাই কথা বাড়ালাম না। ইতিমধ্যে গুলিয়া তরমুজ কাটতে কাটতে জিজ্ঞেস করল 

তরমুজ কে বেছে দিয়েছে?
কেন, আমি? মিষ্টি না?

প্রশ্নটা না করলেও চলত।

কবে ঠিকঠাক জিনিসপত্র বাছতে শিখবে?
তোমাকেও কিন্তু আমি বেছে নিয়েছিলাম।
এটাই হয়তো তোমার জীবনের একমাত্র সঠিক চয়েস!

কে জানে বাবা!

মস্কোর পথে, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Comments

Popular Posts