তরমুজ


রাশিয়ার জীবন মানেই বিভিন্ন রকমের কৌতুক। কৌতুক এদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও প্রাকবিপ্লব রুশ দেশে এ ধরনের লেখা ছিল কিন্তু সোভিয়েত আমলে কৌতুক এক ভিন্ন অবয়ব পায়। সরকারের কড়া নজরদারিতে মানুষ যে কথা সরাসরি বলতে পারত না সেটা বলত কৌতুক আকারে। সোভিয়েত আমলে কর্মকর্তা বা আমলাদের সমালোচনা করার জন্য এরালাশ বা ফিতিল নামের স্বল্প দৈর্ঘ্যের সিনেমা তৈরি হত আর এসব দেখাত সিনেমা হলে মূল সিনেমার আগে। ছিল ক্রোকোডাইল নামে বিশেষ জার্নাল। আর এমনি সিনেমা ও সাহিত্য তো ছিলই। আর ছিল হিউমার নামের বিভিন্ন অনুষ্ঠান যার লেখক ও পাঠকরা (অভিনেতা) ছিল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী। এখনও তার ঘাটতি নেই। ইদানিং একটা কৌতুক অনেকেই বলছে।

দিমা তার স্ত্রীকে ফোন করে জানতে চাইল
- লেনা, ফ্রিজে একটি কেক ছিল। খুঁজে পাচ্ছি না। তুমি দেখেছ কি?
- ঐ এক টুকরা কেকের কথা বলছ? আমি খেয়েছি।
- আচ্ছা। ওটা তো একটা আস্ত কেক ছিল। বাকি টুকরোগুলো কোথায়?
- আমি কাটিনি। 

এই গল্পটা শুনে ছেলেমেয়েরা সাথে সাথে বলে এটা তাদের মামাকে নিয়ে। গুলিয়া কেক পছন্দ করে। এক কেজি নয় আড়াই কেজির কেক কিনে এক্সপেরিমেন্ট করেছি। তাই বাচ্চারা ছোট থাকতে উটকো ঝামেলা এড়াতে ওর জন্য আলাদা কেক কিনতাম। 

এসব ক্ষেত্রে রুশদের দুটো সুন্দর উত্তর আছে 

যে ভাগ পায়নি সে দেরিতে এসেছে।

ভাগ পাওনি সেজন্য তুমি নিজেই দায়ী।

তবে আজকের গল্প তরমুজ নিয়ে যা গুলিয়ার আরও একটা প্রিয় খাবার। কয়েক দিন আগে দশ কেজি ওজনের একটা তরমুজ নিয়ে কোন রকমে বাসায় ফিরলাম। আগে আমি তরমুজ খুব একটা পছন্দ করতাম না। ইদানিং খাই। তাই আবার নতুন করে একটু বড় তরমুজ কিনি। সবাই একসাথে থাকতে ১২-১৩ কেজির নীচে তরমুজ বাসায় আসত না। অফিসে যাবার আগে খেতে ইচ্ছে হল না। অফিস থেকে ফিরে খাব ভেবে চলে গেলাম। বাসায় ফিরে তরমুজ কোথায় জিজ্ঞেস করায় গুলিয়া বলল
- তরমুজটা খুব একটা যুৎসই ছিল না। ভাবলাম তোমার পছন্দ হবে না তাই পুরোটাই খেয়ে ফেলেছি।

আমার আর সাহস করে জিজ্ঞেস করা হল না ও তরমুজটা কেটে খেয়েছে কিনা। তাই গতকাল যখন আবার তরমুজ নিয়ে এলাম সেটা নিজেই কাটলাম পিছে আস্ত তরমুজ গলায় আটকে যায়।


মস্কোর পথে, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Comments

Popular Posts