সরকারি পিঠ
আমি অনেকটা রানারের মত। রানার চিঠি নিয়ে যায়, আমি জিনিসপত্র। ১৯৯৪ সালের ১৮ মে যখন দুবনায় কাজে জয়েন করি গুলিয়া আন্তনকে নিয়ে মস্কো থাকত। মনিকার জন্ম ঐ বছর ৭ আগস্ট। ১৯৯৬ সালে ওরা দুবনা আসার আগে পর্যন্ত দুবনা মস্কো করতাম আর দুবনা থেকে এটাসেটা নিয়ে যেতাম ওদের জন্য। ২০০৯ সালে ওরা মস্কো ফিরে গেলে আবার শুরু হয় দুবনা মস্কো ট্রিপ। দুবনা থেকে ওদের জন্য নিয়ে যেতাম স্থানীয় ফলমূল, নিয়ে আসতাম অফ সিজনের জামাকাপড়। আমার বাসা ছিল গোডাউন। এখন মনিকা সেভা মস্কোয়, গুলিয়াসহ আমি দুবনায়। এখনও সেই কাজ। আমি ওদের জন্য এখান থেকে কিছু নিয়ে যাই আর ভাবি ফেরার সময় হালকা হয়ে ফিরব। কিন্তু ওরাও আমাদের জন্য এটাসেটা দিয়ে দেয় ফলে ভার আর কমে না।
গত শনিবার গেলাম খোলা বাজারে। এক ভদ্রলোক সাথে সাথেই বলে উঠলেন
- দারাগোই (সুপ্রিয়) তুমি এতদিন কোথায় ছিলে? তোমার জন্য গাছের টমেটো নিয়ে এসেছি। নিয়ে যাও।
কি আর করা? রোববার যেহেতু মস্কো যাব সবটুকু নিলাম। পাশ থেকে বৃদ্ধা বললেন
- সিনক (পুত্র) আমার মাশরুম গুলো নিয়ে যাও। বাসায় চলে যাই।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিলাম। কারোও জন্য তেমন কিছুই তো করা হল না। যদি এভাবে কারোও পাশে দাঁড়াতে পারি!
এরপর আরেকজন গাছের আপেল নিতে বললেন। সেটাও নেয়া হল। মস্কো যাওয়ার সময় সাথে থাকে ক্যামেরার ব্যাগ, ওষুধপত্র সহ রুকস্যাকে লেকচার নোট, ইবুক আর ওদের জন্য এসব। ফেরার পথে হালকা হবে ভেবে এটা মেনে নেই। এছাড়া কুকুর বিড়াল তো আছেই। বাসার কুকুর বিড়ালদের মালিক গুলিয়া অথবা ছেলেমেয়েরা। কিন্তু আমার কাছেই ওদের যত আবদার। ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। বাবা মোকাম বা হাট থেকে ফিরলেই কি আনলেন সেটার অপেক্ষা করতাম। আমিও বাসায় ফিরলে কুকুর বিড়ালরা চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। কি এনেছি সেটা জানতে চায়। সবচেয়ে বড় কথা আমি যখন খাই সবাই অপেক্ষা করে কিছু দেব বলে। অথচ অন্যেরা খেতে বসলে ভ্রূক্ষেপ পর্যন্ত করে না। ওদের মনে হয় ধারণা হয় আমিও ওদের একজন অথবা আমি ওদের খাবারে ভাগ বসাচ্ছি। গতকাল আমানের হোটেল থেকে মুড়ি কিনলাম। তবে আজ দুবনার উদ্দেশ্যে রওনা হবার আগে মনিকা জর্জিয়া থেকে আনা ওয়াইনের বোতল ধরিয়ে দেয়ায় সেই সমীকরণে আবার গোলমাল। সরকারি পিঠ বলে কথা!
দুবনা, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Comments
Post a Comment