জন্মদিনের জন্ম কাহিনী

গতকাল আমার জন্মদিন ছিল! জন্মদিন মানেই ছোটবেলা। এখনও মনে পড়ে ২৫ ডিসেম্বর ভোরে স্নান করে যেতাম মটর শাঁক তুলতে। সন্ধ্যায় বন্ধুরা আসত, খিচুরির সাথে সেই শাঁক ছিল প্রধান আইটেম। দিদি যত দিন ছিল আমার জন্মদিনে বাড়িতে এই আইটেম হত। বাড়ির সবাইকে নিয়ে ও আমার জন্মদিন পালন করত আমাকে ছাড়াই। আমারা যখন সবাই একসাথে থাকতাম তখন হইচই করে জন্মদিন পালন করতাম। ২৪ তারিখে শুরু হত ক্রিস্টমাস ট্রি সাজানো। এখন সবাই যে যার মত তাই ওভাবে আর বসা হয় না কেক কাটা ছাড়া। 
জন্মদিনে কিছু লোকের অপেক্ষা করি আজও। ছাত্রজীবনের রুশ বন্ধুদের। ওরা শুভেচ্ছা জানায়। সেই অর্থে আমাদের জন্মদিন আমাদের মধ্যে যোগাযোগটা এখনও রক্ষা করে। গত বছর হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া আমার রুমমেট ঝেনিয়া গতকাল শুভেচ্ছা জানাল - প্রিয় রুমমেট বলে সম্ভাষণ করে। মনে হল যে হারিয়ে যাওয়া কাউকে খুঁজে পেয়েছি। রুস্তেম ফোন করল কাজান থেকে। গ্রিসা ফোন করল। অবাক হয়েছি আবার ভালোও লেগেছে। ও সাধারনত যোগাযোগ রাখে না, তাই ভাবলাম, হয়তো ভাবছে মরে টরে যেতে পারি, তাই খোঁজ খবর নিচ্ছে। কস্তিয়া লিখল। এছাড়া ফেসবুকে আর হোয়াটস্যাপে বন্ধুরা তো লিখলই। সন্ধ্যায় সাঁতার কাটতে গেলে গেনাদি আলেক্সেয়েভিচ শুভেচ্ছা জানালেন। উনি ফেব্রুয়ারিতে ৯৫ থেকে ৯৬ তে পা দেবেন। বললেন, ৬০ - ৬৫ বছর নাকি বিজ্ঞানীদের জন্য খুব সৃজনশীল সময়। দেখা যাক। অনেকেই সুস্বাস্থ্য কামনা করল। সে সব পড়ে মনে হল কয়েক দিন আগে ইরার সাথে আমার কথোপকথনের কথা। 
- প্রিভিয়েত বিজন!
- প্রিভিয়েত! 
- গতকাল তোমাকে পলিক্লিনিকে দেখলাম। শরীর ভালো তো?  
- আমি শরীরের সাথে বন্ধুত্ব করি না। আমরা আলাদা থাকি।
- তা মাঝে মধ্যে তোমাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়? 
- হয় কালে ভদ্রে। 
তাই যারা সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন, তাদের বলব ওসব শরীরকে বলতে বা লিখতে। তবে সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ বিভিন্ন রকমের উইস করার জন্য।
সাঁতার কেটে গেলাম ক্লাবে। আজ এ বছর শেষ বারের মত আমরা বসছি। দেখি ভাসিলি কনিয়াক নিয়ে এসেছে। ইভান ওয়াইন আর আন্দ্রেই অনেকগুলো কমলালেবু। আমিও আরেক বোতল কনিয়াক রাখলাম টেবিলে। অনেকটা সেই গল্পের মত - পিত ইয়েস্ত, ইয়েস্ত নেতু - মানে পানীয় আছে, খাবার নেই। তাই তিন বোতল থেকে কিছু কিছু পান করে রেখে দিলাম। নতুন বছরে যদি কেউ খাবার আনে তবে বোতলগুলোর শ্রাদ্ধ সম্পন্ন হবে।

দুবনা, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫


Comments

Popular Posts