অধরা বিজয়
আমার এবারের বিজয় দিবস শুরু হল অদ্ভুত লড়াই দিয়ে। সোমবার মস্কোয় ক্লাস নেই। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত প্রায় একটা মানে মঙ্গলবার। বাসায় ফিরে দরজা খুলতে পারলাম না। না আমি বাইরের দিক থেকে, না গুলিয়া ভেতর থেকে। তালা খুলছেই না। রাতে যে ইমার্জেন্সি কল করব সে উপায় নেই। কুকুরের ডাকে সারা বাড়ির ঘুম ভাঙবে। গুলিয়া বলল বন্ধুদের কারো কাছে চলে যেতে। কিন্তু এত রাতে কাকে ফোন করি? ভিক্টরকে ফোন করলাম। অনেকক্ষণ ধরে রিং হল। উত্তর নেই। যদিও জানতাম গুলিয়া জানলে ঝামেলা করবে তবুও ইরা আর লেনাকে লিখলাম ওরা ঘুমে কি না। অবশেষে ভাবলাম হোটেলে চলে যাই। ওখানে অনেক ভারতীয় আছে। অথবা নীচের সোফায় বসে সময় কাটিয়ে দেব। ওখানকার লোকজন আমাকে চেনে। এসব ভাবতে ভাবতে অনিরূদ্ধকে ফোন করলাম। ও ধরল। সব শুনে বলল
- স্যার আমি বাসায় উঠেছি। চলে আসেন।
যাহোক রাতের সমস্যা মিটল। সোমবার আমার সকাল ৯ থেকে টাইট প্রোগ্রাম। খাবার সময় পাই না। এমনকি বাসায় ফিরে যে একটু খাব সে সময় প্রায়ই হয় না। ট্রেন ফেল করতে পারি। তবে অনিরূদ্ধ খাওয়ালো। সুতরাং এগিয়ে চলল বিজয়ের রথ।
সকালে উঠে ফিরলাম বাসায়। পথে কয়েকটি টেলিফোন নিলাম তালা খোলার জন্য। নেটে পাওয়া যায়। তবে হোটেল বা হাউস এডমিনিস্ট্রেশন থেকে নেয়া রিলায়েবল। ফোন করতেই পাওয়া গেল।
- ঠিকানা কি? ওখানে আপনার রেজিস্ট্রেশন আছে? মালিকানার ডকুমেন্ট আছে?
- আমার নেই। বউয়ের আছে।
- বউ কোথায়?
- আটকা পড়েছে।
ইতিমধ্যে ভিক্টর, লেনা, ইরা সবাই জানতে চাইল ঘটনা কী? ওদের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে তালা ভাঙা হল।
- কত?
- চার টাকা।
চার টাকা মানে চার হাজার রুবল বা পঞ্চাশ ডলার। ওকে টাকা দিয়ে ঘরে ঢুকলাম।
- তুমি আমাকে অন্ধ কূপ থেকে উদ্ধার করলে। এখন আমাকে বিয়ে কর!
- আবারও? মাথা খারাপ?
এই রে এত খড়কুটো জ্বালিয়ে গুলিয়াকে উদ্ধার করলাম এখন বলে কি বিয়ে করতে। সাধে কি কালিদাস বলেছেন কারো উপকার না করতে!
ইশ্ বউয়ের কাছ থেকে মুক্তির এত সুন্দর একটা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল। ধরা দিয়েও বিজয় অধরাই রয়ে গেল!
দুবনা, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

Comments
Post a Comment