দায় না দায়িত্ব
গতকাল রাতে দুবনা ফেরার পথে ট্রেনের ড্রাইভার নিরাপত্তা কর্মীদের কোন এক বগিতে যাওয়ার জন্য বললেন। কোন যাত্রী ঝামেলা করলে বা কারোও কোন সমস্যা হলে এমনটা হয়। কিছুক্ষণ পরে দেখি একজন ড্রাইভারের ওদিকে যাচ্ছে, পেছনে নিরাপত্তা কর্মী। ককেসাস এলাকার লোক। বয়স চল্লিশের মত। বেশ সুঠাম। কথাবার্তায় বুঝলাম ও ঘুমিয়ে পড়ায় নিজের স্টেশনে নামতে পারেনি। এটা এক্সপ্রেস ট্রেন। পরবর্তী স্টেশন আধা ঘন্টা পরে। ও চাইছে ওকে আগে কোথাও নামিয়ে দেয়া হোক। নিরাপত্তা কর্মী বলছে এটা সম্ভব নয়। আরেক যাত্রীও ওকে বোঝাতে শুরু করল যে ট্রেন চাইলেই যেখানে সেখানে থামানো যায় না। আমি জিজ্ঞেস করলাম
- তোমার কী হয়েছে? পরের শহরে নেমে উল্টো ট্রেনে চলে যাও। এখনও বেশ কিছু ট্রেন যাবে মস্কোর দিকে।
- কিন্তু আমার প্রেশার হাই হয়ে যাচ্ছে।
- তুমি শিওর?
- হ্যাঁ।
- এই নাও ট্যাবলেট।
- জল আছে?
- ওটা জিহ্বার নীচে রেখে দাও। আর শান্ত হয়ে বস।
ও শান্ত হল। এবার আমার টেনশন শুরু হল। কারণ কাউকে ওষুধ দেবার এখতিয়ার আমার নেই। তাছাড়া ওর প্রেশার মাপা হয়নি। ওর কথার উপর ভিত্তি করে দিয়েছি। যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে দোষ আমারই। কোন কোন ক্ষেত্রে এ ধরণের সাহায্য নিজের বিপদ ডেকে আনতে পারে। যাহোক ও শান্ত হয়ে বসে রইল আর রাত ১১.২৫ এ পরের স্টেশনে নেমে গেল। নিরাপত্তা কর্মী ওকে বেশ আন্তরিকতার সাথে বলে দিল কতক্ষণ পরে কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে উল্টো ট্রেন ধরতে হবে। আমিও নিশ্চিন্ত হলাম।
দুবনা, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫

Comments
Post a Comment