স্বীকারোক্তি

আমি এখনও সোভিয়েত স্টাইলেই পরীক্ষা নেই। মানে খাতায় যাই লেখুক এরপর ছাত্রছাত্রীদের খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মৌখিক প্রশ্ন করি আর নম্বর দেই তার ভিত্তিতে। আমি নিজে এমনিতে খুব একটা কথা বলি না, তবে কোন বিষয়ে একমত না হলে তর্কে জড়িয়ে পড়ি। আজ পরীক্ষা নিতে গিয়ে মনে হল আসলে একাজটা আমার জন্য নয়। ছাত্র-ছাত্রীরা ভুলভাল উত্তর দিলে মেজাজ ঠিক রাখা কষ্ট হয়। এখনও সেশন শুরু হয়নি, তবে শীতের ছুটিতে বাড়ি যাবে বলে অনেকেই টিকেট কেটে বসে আছে। তাই চাইছে আগে পরীক্ষা দিতে। দু একজনকে বকলাম কেন আগে টিকেট কাটল। যেহেতু জানি এই সময়ে টিকেটের দাম বেশি ও আগে থেকে কাটলে একটু কম দামে পাওয়া যায় তাই বকতেও খারাপ লাগে। বিশেষ করে যারা সাইবেরিয়া এলাকায় যাবে তাদের টিকেটের দাম ভারত বা বাংলাদেশের টিকেটের দামের মতই। একসময় তাই বিরক্ত হয়ে বলেই ফেললাম 
- তোমরা কি মনে কর যে আমার কান সরকারি যে তোমাদের আবোলতাবোল উত্তর মুখ বুজে সহ্য করতে হবে?
- আপনি যদি প্রশ্ন না করে পাশ নম্বর দিয়ে দেন তাহলেই তো আর আমাদের বকবক শুনতে হয় না।

কথাটা খারাপ বলেনি। কিন্তু নম্বর তো সরকারি মাল নয় যে দরিয়ায় ঢালব। বললাম,
- আমাদের সময় শুধুমাত্র আতলিচনিকরা মানে ভালো ছাত্ররা সেশনের আগে পরীক্ষা দিত আর সেজন্য খুব ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিত। কিন্তু তোমরা তো কোন রকম পাশ নম্বর পেলেই খুশি। তাহলে তো পড়াশোনা না করলেই হয়।
- তাহলে আর্মিতে নিয়ে যাবে। আমার নিজের ফার্ম আছে। ডিগ্রী আমার দরকার নেই। কিন্তু আর্মিতে যেতে চাই না বলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও পড়াশোনা করি।
- হ্যাঁ, তুমি পড়াশোনা করতে চাও না, তারচেয়ে বেশি করে চাও না আর্মিতে যেতে। যাহোক, এই যে সত্য কথাটা বললে সেটাই বা কয়জন বলে?

দুবনা, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

Comments

Popular Posts