সুখ

গতকাল ক্রিস্টিনা মস্কো এলো পিটার থেকে। এক সপ্তাহ থাকবে। আগেই বলা ছিল ছবি তোলার কথা। দুই বোনের প্রস্তুতি পর্ব চলল ঘন্টা তিনেক। সেভাকেও রাজী করানো গেল বাসার পেছনেই কয়েকটি গ্রুপ ফটোর জন্য। আসলে মনিকা ক্রিস্টিনা আর সেভাকে একসাথে পেলে আমি ওদের ছোটবেলায় চলে যাই। সেভা কয়েকটা ছবিতে পোজ দিয়ে তাইনাকে নিয়ে বাসায় চলে গেল। আমরা চললাম আরোও ছবি তুলতে।

প্ল্যান ছিল দনস্কোই মনাস্তিরের দিকে যাব। ওদের পীড়াপীড়িতে গেলাম দুব্রভকায়। ক্রিস্টিনা আসার পরেই রান্না হল। বললাম 

যদি তাড়াতাড়ি খেতে চাও তাহলে আমি রান্না করব। স্বাদের ব্যাপারে কোন গ্যারান্টি দিতে পারব না। সুস্বাদু খাবার চাইলে মিশাকে বল। তবে ঘন্টা তিনেক অপেক্ষা করতে হবে। 

মিশাই রান্না করল। তবে আমরা না খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম। ওরা বলল

ক্ষিদে পেয়েছে। 

ঢুকলাম বার্গার কিংএ। এটা অবশ্য ওরা ঠিক করে কোন দোকানে বেশি ডিসকাউন্ট জমা হয়েছে সেটা দেখে। এরপর ওরা গেল জামাকাপড় দেখতে। আমি শান্ত ছেলের মত বসে আছি তো আছিই। ঘুম পেয়ে যাচ্ছে। ঘন্টা দুই পরে ব্যাগ হাতে বেরুল দুজন। এরপর পাঁচ মিনিটের জন্য ঢুকল পারফিউমের দোকানে। পাঁচ মিনিট কখন যে ঘন্টায় পরিণত হল কে জানে। এরপর ঢুকল আরেক দোকানে। এবার বিরক্ত হয়ে আমিও গেলাম সাথে। যা কিনব না বা যার দরকার নেই সেটাও যে এত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা যায় ওদের না দেখলে বোঝা যাবে না। সেই ছোটবেলার মত। ওরা যে কবে বড় হবে?

আজ আমি যখন ভার্সিটি গেলাম মনিকা হোম অফিসে, ক্রিস্টিনা আর সেভা ঘুমে। সন্ধ্যা আটটার দিকে বাসায় ফিরে দেখি সেভা ঘুমুচ্ছে। মনিকা ক্রিস্টিনা বাসায় নেই। নয়টার দিকে ফোন করলাম। দুই বোন সেন্টারে দোকানে। আমি চললাম দুবনার পথে। ওদের বলেছি দুবনায় আসতে। না হলে গুলিয়াকে পাঠাব ক্রিস্টিনার সাথে দেখা করতে। আমি আসব আগামী রোববার। ওর ফেরার আগে হয়তো কিছু ছবিও তোলা যাবে।

দুবনার পথে, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

Comments

Popular Posts