কোতিয়্যা

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাসায় ফিরে দেখি কারা যেন একটা কালো বিড়াল দিয়ে গেছে। এরপর প্রায় সতের বছর পেরিয়ে গেছে। ও কবে যে পরিবারের একজন হয়ে গেছে। অনেক দিন ধরেই অসুস্থ। প্রতিদিন ড্রেসিং করা থেকে কত কি? মনিকাকে বলি তুই যেভাবে কোতিয়্যার সেবা করিস এর অর্ধেক দিয়ে গোটা দুই বাচ্চা মানুষ করতে পারতি। গত দুই তিন দিন হয় ওর অবস্থার অবনতি হয়েছে। মনিকাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি এখন কোতিয়্যার বেঁচে থাকা মরে যাওয়ার চেয়ে কষ্টকর। ক্রিস্টিনা বলছে কতিয়্যাকে শেষ দেখা দেখতে পিটার থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য মস্কো আসবে যদিও পরশু ওর কনসার্ট, বৃহস্পতিবার পরীক্ষা। ওদের এই ভালোবাসা আমি পছন্দ করি, তবে ব়্যাশনাল মনে করি না। যাহোক কয়েক ঘন্টা আগে ক্লিনিকে গিয়ে কোতিয়্যার কষ্টের অবসান ঘটানো হলো। মনিকা আর মিশার সাথে গেলেও ওদের পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরে এলাম। আসলে প্রিয় জনকে, সে মানুষ হোক আর প্রাণী হোক, চিরবিদায় জানানো বেশ কঠিন। মনিকার প্রচন্ড মন খারাপ। যেন পৃথিবী থমকে গেছে। জিজ্ঞেস করলাম রান্না করব কি না। খেতে চাইছিল না। তাই বললাম কোতিয়্যাকে স্মরণ করা দরকার। যাই ভোদকা নিয়ে আসি। ওরা গেল ওয়াইন কিনতে। মিশা রান্না করছে। আজকে কেউ গ্লাসে গ্লাস টোকা দেবে না। সবাই যার যার মত কোতিয়্যাকে স্মরণ করবে। ক্রিস্টিনা করবে পিটারে। আমি মৃত্যুর পরে কিছু আছে বলে মনে করি না। তাই কোতিয়্যার ছোটবেলার কথা মনে করে ওয়াইন খাচ্ছি। এখন আর ও জানালায় বসে মনিকার জন্য অপেক্ষা করবে না। আমি মস্কো এলে সুস্বাদু কিছু চেয়ে আমার চারপাশে ঘুরে বেড়াবে না। তবে চলে যাওয়া সবার মত থেকে যাবে আমাদের স্মৃতির পাতায়, আমাদের গল্পে।

মস্কো, ১৩ এপ্রিল ২০২৫

Comments

Popular Posts