পাস্খা

আজ পাস্খা বা ইস্টার। এবার রুশ অর্থোডক্স, ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট সহ খৃষ্টান ধর্মের সবাই একই দিনে পাস্খা পালন করছে। রোম ও কনস্টানিনোপল - এই দুই ধারায় ভাগ হবার পর বিগত কয়েক শ'বছর এরা যথাক্রমে গ্রেগরিয়ান ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে চলছে। ফলে দুই ধারার ইস্টারের মধ্যে শূন্য থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবধান হতে পারে। 

ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন পূজা পার্বণ দেখে বড় হয়েছি। এসব সময়ে বাড়ি ঘর আত্মীয় স্বজন দিয়ে ভরে যেত। সাথে থাকত বিভিন্ন রকমের খাবার দাবার। তাই ঠাকুর দেবতা নিয়ে তেমন কোন মাথাব্যথা না থাকলেও সেই সব আড্ডার জন্য অপেক্ষা করতাম। বাড়িতে ঠাকুর ছিল যাদের তিন বেলা পূজা দিত, সকালে ঘুম ভাঙাত আর রাতে ঘুম পাড়াত। অনেক সময় নিজেও এসব করতাম পুতুল খেলার মত। আর বেশি বেশি করে খাবার দিতাম। আমি রান্নাবান্নার কাজে বরাবরই ফেলটুস। তাই ঠাকুর দেবতা আমার দেয়া খাবার কখনো মুখে তুলত না। ভয় পেত হয়তো। আমি অবশ্য খুব আনন্দের সাথেই ওদের হয়ে সব খেয়ে নিতাম।

সোভিয়েত আমলে বেশ কয়েক বার ফ্রান্স দূতাবাসের উল্টো দিকের গির্জায় গেছি ইস্টারে। পরে ছেলেমেয়েরা যখন ছোট ছিল তখন বাসায় ঘটা করে রঝদেস্তভা বা ক্রিস্টমাস আর পাস্খা বা ইস্টার করা হত। ডিম রং করা, কেক তৈরি, ডিম ভাঙা এসব। ঠিক আমার ছোটবেলার মত। এখন এসব করা হয় না। দোকান থেকেই কিনে আনি। কুলিচ আমার খুব পছন্দ। আর কাগর। এটা মিষ্টি ওয়াইন। গতকাল বসে বসে তাই করলাম। নববর্ষে যদি বারোটা বাজা বলে এক ব্যাপার থাকে এখানে তা নেই। টিভিতে গির্জা থেকে সরাসরি সম্প্রচার চলছিল (ঈদের সময় মসজিদ থেকে হয়) কিন্তু কখন যে খেতে হবে তার আগামাথা কিছুই বুঝলাম না। কুলিচ কেটে আর রেড ওয়াইন দিয়ে ইস্টার উদযাপন করলাম। কুলিচ হল যীশুর মাংস, ওয়াইন তাঁর রক্ত। এখন মস্কো যাচ্ছি সেদ্ধ ডিম নিয়ে। ওরাও কুলিচ কিনেছে।

মস্কোর পথে, ২০ এপ্রিল ২০২৫

Comments

Popular Posts