লাভে লোকসান

অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকায়ে যায়। ছাত্রজীবনে খোরশেদ ভাই আমাকে উদ্দেশ্য করে এটা বলতেন। মস্কোয় যখন টাকা উড়ে বেড়ায়, ছাত্ররা লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছে আমি শুধুই ধার দেনায় জড়িয়ে পড়ছি। অনেক দিন পরে হঠাৎ একথা মনে পড়ল। কথা ছিল হাসপাতালে ভর্তি হবার। ছোট্ট একটা অপারেশন হবে। দুই সপ্তাহ ধরে এক গাদি টেস্ট করিয়ে, অনেক ডাক্তার দেখিয়ে সব পারমিশন নিয়ে হাসপাতালে গেলাম। ডাক্তার সব দেখে দুবনায় পাঠিয়ে দিলেন আরও একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে। এতদিন পর্যন্ত আমার ধারণা ছিল জীবনে আর কিছুতে ভালো হই আর না হই রুগী হিসেবে আমি অতুলনীয়। কিন্তু আমার এই বিশ্বাস ধরা খেয়ে গেল। গুলিয়া অবশ্য খুশি। আমি নিয়মিত ডাক্তার দেখাই সেটা ও একেবারেই পছন্দ করে না। আর আমি কোথাও গেলে নাকি ওর ডিপ্রেশন শুরু হয়। তাই আমাকে সব সময় অনুপস্থিতির ট্যাক্স (ঘুষ) দিতে হয়। এবার পাঁচ দিনের জন্য মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে তবে এক্সিট ভিসা মিলেছিল। আমি ওকে জানাইনি যে বাসায় ফিরছি। রাতে যখন বাসায় ঢুকলাম আর কুকুরগুলো যথারীতি মববাজি শুরু করল, আমাকে দেখে ওর ভূত দেখার অবস্থা।

- তুমি কোত্থেকে?
- ডাক্তার ফিরিয়ে দিল।
- আমি কিন্তু সব টাকা খরচ করে ফেলেছি। তাছাড়া আমাকে এই ভাবে চমকে দেবার জন্য উল্টো জরিমানা করব।

রুশরা বলে আক্রমণ হল সবচেয়ে ভালো প্রতিরক্ষা। ডিপ্রেশনের সময়সীমা পাঁচ থেকে কমে দুই দিনে দাঁড়িয়েছে কিন্তু টাকা ফেরত দেবার কোন লক্ষণ নেই। চারিদিকে শুধু লস আর লস।

দুবনা, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

Comments

Popular Posts