ক্রিস্টিনা
আজ আমার ক্রিস্টিনার জন্মদিন। এক এক করে ছাব্বিশ বছর পার হয়ে গেল। গতকাল গুলিয়া বলল কেকটা যেন কিনে রেখে যাই। আমি গতকাল মস্কো এসেছি ফিরতে ফিরতে ০৯ ডিসেম্বর উজাড়।
আমি কাল অর্ডার দেব।
দরকার নেই। আজই কিনে রেখে যাও। ওটা পুরোটাই আমার।
কেন আমার বুঝি কোন হাত ছিল না ক্রিস্টিনার জন্মে।
যা ছিল তা ধর্তব্যের মধ্যে নয়।
গুলিয়ার রাজনৈতিক নেতা হওয়া উচিত ছিল। জনতার কাজের ফসল নিজের ঘরে তুলে নিতে ওস্তাদ।
যাহোক, কেক এল। তবে গুলিয়ার সাথে কেকের সম্পর্ক বাঘ আর হরিণের মত - হরিণ সবসময়ই রিসিভিং এন্ডে। প্রশ্ন হল কাল পর্যন্ত কেকটা জীবিত থাকবে কি না। মনিকাও তাই বলল।
বিকেলে গেলাম সেভা আর মনিকাকে নিয়ে ঘুরতে। এর আগে অবশ্য রান্না করেছি। বাজারও করেছি। মনিকা আমাকেই রান্না করতে বলল। মিশা যাবে ওর মায়ের ওখানে কুকুরকে নিয়ে সান্ধ্য ভ্রমণে। ওর বাবা অসুস্থ। ইচ্ছে ছিল পার্ক কুলতুরি যাব নববর্ষের সাজসজ্জা দেখতে। কিন্তু বেশ খিদে পেয়েছে। রান্না না করলে রাস্তায় খেয়ে নেয়া যেত। পথে আবার দোকানে ঢুঁ মারা। ইচ্ছে ছিল কেক কেনার। মনিকা বলল কাল মানে ০৯ তারিখে কিনবে।
পথে ক্রিস্টিনাকে জিজ্ঞেস করলাম কি করবে জন্মদিনে। বন্ধুদের সাথে কোথাও যাবে কি না?
এখনও ঠিক করিনি। যাব হয়তো।
ঠিক আছে। আমি টাকা পাঠিয়ে দেব।
আমাদের বাড়িতে সব ভাইবোনদের জন্মদিনে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হত তা কেউ বাড়িতে থাক বা না থাক। অবশ্য আমরা সাত ভাই এক বোন কোন দিনই একসাথে মিলিত হইনি। আমাদের সবার বড় সুবোধদা ইন্ডিয়া থেকে শেষ বাড়ি এসেছিলেন ১৯৬২ সালে আমার জন্মের দুই বছর আগে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শেষ করে।
আমিও এখানে এই ট্র্যাডিশন চালু রেখেছি। কারো জন্মদিনে যে যেখানেই থাকুক না কেন সবাই যেন নিজের মত করে দিনটি স্মরণ করে।
ক্রিস্টিনাকে আবার জিজ্ঞেস করলাম কি করবে।
বন্ধুরা সবাই ব্যস্ত। জনা দুয়েক আসবে। প্রথমে বারে যাব। তারপর হয়তো অন্য কোথাও।
ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরে শুনলাম কেক কেনা হয়নি। মনিকা যেটা কিনতে চেয়েছিল সেটা শেষ হয়ে গেছে। দু' জনে মিলে দোকানে গেলাম কেক কিনতে। সাথে বিড়ালদের জন্য বিশেষ খাবার। শত হলেও ওরাও তো মানুষ, তার উপর ফ্যামিলি মেম্বার।
ভার্সিটি থেকে বাসায় ফেরার আগে এক বন্ধুর সাথে দেখা করলাম। অনেক দিন পরে চেবুরেকি খেলাম বাইরে। মনে পড়ল সোভিয়েত আমলে পেলিমেনি খাওয়ার কথা। এখানে পানীয় না থাকলেও অনেককেই দেখলাম ব্যাগ থেকে ভোদকা বা কনিয়াকের বোতল বের করে খাচ্ছে। সময় বদলায়। দেশ বদলায়। মানুষ মানুষ থেকে যায়।
মস্কো, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪

Comments
Post a Comment