বুদ্ধি ভরা পেট
অনেক সময়ই বলতে শুনি তোর দেখি পেট ভরা বুদ্ধি। বুদ্ধি কীভাবে পেটে থাকে সেটা কখনোই বুঝতে পারতাম না। তবে এবার মনে হয় হাতেনাতে প্রমাণ পেলাম। গত সপ্তাহে কাজানে ছিলাম কনফারেন্সে। আমি এক প্যান্ট আর এক সোয়েটার পরেই এসব কনফারেন্স পার করে দেই। সাথে এক সেট এক্সট্রা পোশাক থাকলেও ওরা বাক্স বন্দী হয়েই সময় কাটায়, নতুন শহর দেখার সৌভাগ্য ওদের আর হয় না। এবার যে জিন্সটা পরলাম ওটা কোমর থেকে পড়ে যায় বিধায় বেল্ট ব্যবহার করি। তবে ওটা পরে যখন রওনা হলাম তখন জিন্সটা বেশ শক্ত করেই কোমর জড়িয়ে ধরল। তবুও বেল্ট সাথে নিয়ে গেলাম। অবাক কান্ড হল গত পাঁচ দিনে প্যান্ট ক্ষণিকের জন্য হলেও বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। শনিবার দুবনা ফিরলাম ওভাবেই আর রোববার মস্কো ফিরে এলাম ক্লাস নেব বলে। আজ যখন ইউনিভার্সিটি যাচ্ছি পথে প্যান্ট বায়না ধরল যে কোমরে থাকবে না। বেল্ট আনিনি। এক মহা সমস্যা। তাহলে কি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কনফারেন্সে শ' খানেক রিপোর্ট শুনে যে বুদ্ধি অর্জন করেছিলাম সেটা পেটেই ছিল, তাই প্যান্টের অধঃপতন ঘটেনি। আর যখন কনফারেন্স শেষে বুদ্ধির সরবরাহ কমে গেছে প্যান্টের বাঁদরামি শুরু হয়েছে? অবশ্য হতে পারে বেল্টের আঘাত খাবার ভয়েও প্যান্টটি গুড বয় সেজে নিখুঁত সার্ভিস দিয়ে গেছে?
দুবনার পথে, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪

Comments
Post a Comment