মডিফিকেশন

গতকাল এক বন্ধুর কাছ থেকে এক মেইল পেলাম।‌ 

আমি রিভিউয়ের জন্য একটা ম্যানুস্ক্রিপ্ট পেলাম। সেখানে তোমার বেশ কিছু পেপার রেফার করেছে। ভাবলাম তোমার ছাত্র হতে পারে। লেখাটির বড় ধরণের পরিবর্তন দরকার। তোমার মতামত জানতে চাইছি।

ওর পাঠানো মেইল ও লেখকের নাম দেখে অনেকক্ষণ বুঝতে পারলাম না কে সে? পরে বুঝলাম সে আমার কাছে মাস্টার্স কোর্স করছে। আফ্রিকার। শুরু করেছে কয়েক মাস আগে। আপাতত ইন্ট্রোডাক্টরি কোর্স হিসেবে আমার কিছু পেপার দিয়েছি পড়তে। বলেছি আমরা পরে এসব মডিফাই করব।

এরপর এই অবস্থা। সে আমার বিভিন্ন পেপার কেটেছেঁটে এটা বানিয়েছে এবং আমাকে না জানিয়ে একটা জার্নালে সাবমিট করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই নতুন রেজাল্ট নেই আর বিভিন্ন পেপার থেকে নেওয়ার কারণে এক ধরণের জগাখিচুড়ী ব্যাপার হয়েছে। সে যেহেতু এ বিষয়ে আমাকে কিছু বলেনি তাই করার কিছু নেই।

যাহোক আমার বন্ধু লেখাটা আমাকে পাঠালে ব্যাপারটা পরিষ্কার হল। এবং মেজাজটা একটু খারাপ হল। তবে আজ মনে হল ও হয়তো ততটা ভুল করেনি। আমি ওকে ঠিক বোঝাইনি রিসার্চ পেপার মডিফাই করা কি? ভেবেছে কপি পেস্ট একটু এদিক ওদিক করলেই হয়ে যাবে। অল্প বয়সে নতুন কিছু একটা জানলেই মনে হয় বিশাল আবিষ্কার হয়ে গেছে। আমরা তখন পাবলিকেশনের জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠি আর সুপারভাইজার সবসময় বলে এত ব্যস্ততার কিছু নেই, আরেকটু কাজ কর, আরেকটু অপেক্ষা কর। ছাত্র শিক্ষকের চিরন্তন দ্বন্দ্ব। এই সমস্যার মনে হয় সমাধান নেই। আর আমার ছাত্রের সমাধান - মেজর রিভিশন। তাতে ও কাজ করলে করতেও পারে, রিজেকশন রিসার্চ করার খায়েশ এখানেই মিটিয়ে দেবে।

দুবনা, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

Comments

Popular Posts