জুতা কাহিনী
কয়েকদিন থেকেই আবহাওয়ার মন মেজাজ খারাপ। তাপমাত্রা শূন্যের নীচে নামবে, বরফ পড়বে এসব খবর শুধু যে টিভিতে বলছিল তা নয়, এসএমএস করে জানাচ্ছিল। গতকাল যখন মস্কো রওনা দেই তখন ঠিক কী পরব তা নিয়ে ভাবছিলাম। যেহেতু নববর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছি তাই হালকা জুতা পরার ইচ্ছে ছিল। পরে কি যেন ভেবে বসন্তে ব্যবহারের জুতা পরে চলে আসি।
সকালে ঘুম ভেঙে দেখি সেভা বাইরে যাচ্ছে। একটু পরে ফিরে এসে বলল
পাপ, বরফে চারিদিক ঢেকে গেছে। ছবি তুলতে যেতে পার।
আমাকে ক্লাসে যেতে হবে। তাই এসব করার সময় নেই। একটু পরে উঠে ব্রেকফাস্ট করে ভার্সিটির পথে পা বাড়ালাম। পথে সেভার ফোন এল
পাপা তুমি বেরিয়ে গেছে?
হ্যাঁ। কী ব্যাপার?
তোমার জুতা ঠিকঠাক আছে তো। বাইরে জলকাদা। চাইলে আমার জুতা পরে যেতে পার।
অসুবিধা নেই। সব ঠিক আছে।
আমাদের দুজনের পায়ের মাপ ৪৩। তাই পরতে সমস্যা নেই। তবে সেভার এই অফারে একটু অবাক হলাম। আমি পরি দেড়, দুই, তিন হাজার রুবলের জুতা। ও কেনে পঁচিশ, তিরিশ, চল্লিশ হাজারের। অনেক সময় ঘুরতে গেলে পাছে জুতা নোংরা হয় তাই অনেক ঘুরে যায়। গুলিয়াও তাই করে। ও অবশ্য দশ বারো হাজারে সীমাবদ্ধ রাখে আর ঘুরতে গেলে জুতার চিন্তায় ঘোরার আনন্দ মাটি করে। মনিকার আলমারি ভর্তি অসংখ্য জুতা। তাই ততটা কেয়ার করে চলে না। আমি আর ক্রিস্টিনা ঘুরতে গেলে জুতা নিয়ে ভাবি না। জুতা যদি ঘুরতে বাধা হয় সেই জুতা দিয়ে কি ঘন্টাটা করব? তবে সেভার অফার পেয়ে বেশ খুশিই হলাম। খুব কেয়ারিং ও।
দুবনার পথে, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

Comments
Post a Comment