বুদ্ধির বিড়ম্বনা

সাওনায় বসে আছি। পাশে বসা ভদ্রলোক আবহাওয়া নিয়ে দুঃখ করছেন 
-কি যে দিন কাল পড়ল। শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ সব এক হয়ে গেল। সব আমেরিকার ষড়যন্ত্র। বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র, পারমাণবিক বিস্ফোরণ, শত শত স্যাটেলাইট, ড্রোন - এসব দিয়ে পৃথিবীর বারোটা বাজিয়ে দিল।
ভদ্রলোকের বয়স ৮৫+, বিজ্ঞানী। তাই বিতর্কে জড়ালাম না।
আসলে আজকাল আবহাওয়া যে ভেল্কিবাজি দেখাচ্ছে তাতে স্বাভাবিক ভাবে সেটা ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। গত শীতে একবারের জন্যও শীতের জ্যাকেট ব্যবহার করিনি। এখানে গ্রীষ্ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন আবহাওয়ার জন্য ডজন খানেক জ্যাকেট লাগে। আমাদের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড মত। এবার কয়েক দিন তাপমাত্রা মাইনাস ২৫ এর নীচে থাকায় জ্যাকেট কিনলাম। সাথে সাথে শীত উধাও। মার্চ তো বেশ গরম। প্লাস দশের কাছাকাছি। শীতের জামাকাপড় সরিয়ে ফেললাম। এপ্রিল এল ঠান্ডা নিয়ে। শূন্যের কাছাকাছি। কখনো মাইনাস। বাগানে গাছপালা সবে ঘুম থেকে উঠতে শুরু করেছে। এখন বাঁচবে কি না কে জানে। 

বলা হয়ে হয়ে থাকে হাজার হাজার বছর আগে মানুষ যখন ঝড়, বাদল, চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ব্যাখ্যা দিতে পারত না, তখন তারা শিখণ্ডী হিসেবে ঈশ্বর সৃষ্টি করেছিল। এখন তেলের দাম বাড়লে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটলে বা আবহাওয়া মেজাজ বিগড়ালে, করোনা মহামারী দেখা দিলে মানুষ সেসব আমেরিকা, রাশিয়া, ইরান, চীন বা অন্যান্য দেশের কাঁধে চাপিয়ে দেয়। অজ্ঞতা অজ্ঞাত কারোও কাঁধে চাপিয়ে দেয়া - এটা মানুষের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য। অন্য প্রাণীরা দোষী খোঁজে না, প্রাণ বাঁচাতে পালায়। উত্তর সবাই খোঁজে, শুধু মানুষের অনেকগুলো উত্তর সামনে এনে সঠিক উত্তর হাতড়ে বেড়ায়। এটাই বুদ্ধির বিড়ম্বনা।

দুবনা, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

Comments

Popular Posts