বিচ্ছিন্ন ভাবনা
আজকাল স্কুল কলেজের বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রূপে বেশ জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছি, ভার্চুয়াল আড্ডা। যে যখন সময় পায় দু'কথা লিখে যায়, অন্যেরা নিজ নিজ সময়ে পড়ে। যেহেতু সবাই বিশ্বের দেশে দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাই এ এক অন্তহীন আড্ডা। কিন্তু মজার ব্যাপার হল এই আড্ডার অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগের সাথে আগে কখনো দেখা হয়নি। এমনকি অনেকের সাথে একসাথে লেখাপড়া করলেও কখনো কথা হয়নি, বিশেষ করে মেয়েদের সাথে। অথচ এখন এরা সবাই কত কাছের।
সোভিয়েত ইউনিয়নে আমাদের নতুন করে জন্ম হয়েছিল। ভাষা এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি ভিন্ন হওয়ায় সব শুরু হয়েছিল নতুন করে, শিশুর মত। শৈশব আর তারুণ্যের দেশীয় অনেক রীতিনীতি ভুলে গেছিলাম। গতকাল এক বন্ধুর সাথে কথা প্রসঙ্গে এসব মনে পড়ল।
স্কুল কলেজে যদিও মেয়েরা আমাদের সাথে পড়াশোনা করত তবে ওরা ক্লাসে আসত শিক্ষক আসার পরে আর চলে যেত শিক্ষক ক্লাস থেকে চলে যাবার আগে। তাই দেখা হলেও পারতপক্ষে ওদের সাথে কথা হত না, হলেও বাড়ি ফেরার পথে। - আমি ওকে বললাম।
- আমার সেই অভিজ্ঞতাও নেই। আমি কো-এডুকেশনে লেখাপড়া করিনি।
সোভিয়েত ইউনিয়নে ছাত্রজীবনে আমরা ছেলেমেয়েরা পাশাপাশি একসাথে বসে লেখাপড়া করেছি।
আমার ছেলেমেয়েরা পাশাপাশি বসেই ক্লাস করত, করে। অন্যরকম যে হতে পারে সেটা মনেই ছিল না। আমাদের দেশে মহিলা সীট, মহিলা ওয়াগন এসব থাকে। এখানে এরকম কোন ব্যাপার নেই। আসলে ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট/বাথরুম, হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড ছাড়া অন্য কোথাও কোন ভেদাভেদ নেই। আমরা বাড়ি থেকে শুরু করে সর্বত্র ছেলে ও মেয়েদের আলাদা করে রাখব, আলাদা করে দেখব আর সমান অধিকার চাইব - সেটা কি হয়। সমান অধিকারের শুরুটা বাড়িতে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুকাল থেকে শুরু না করলে বড় হয়ে করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোন কিছু একবার অভ্যাসে পরিণত হলে পরিণত বয়সে সেটা বদলানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই সমান অধিকারের চর্চা শুরু করতে হয় বাড়িতে শিশুকাল থেকেই। রাষ্ট্র এখানে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, কিন্তু যতদিন না সেটা সামাজিক ভাবনার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হচ্ছে ততদিন আইন করে খুব বেশি দূর অগ্রসর হওয়া যাবে না। আর এই মনোভাব সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন মেয়েদের স্বাবলম্বী হওয়া। ছেলেদের আয়ের উৎস আর মেয়েদের খরচের খাতায় রেখে এসব হবে না।
মস্কোর পথে, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

Comments
Post a Comment