ছবি
আমার নিয়মিত ছবি তোলা শুরু ১৯৮৩ সালে মস্কো আসার পরে। দেশ থেকে বুলগেরিয়ায় কেনা একটি ফেদ ক্যামেরা নিয়ে এসেছিলাম। আজাহার ভাই সারাতে দিয়েছিলেন। পরে জেনিথ ১১, জেনিথ ১৯ আর ২০০৬ থেকে ডিজিটাল যুগে ক্যানন ৩৫০ ডি, ৭ ডি, আর পি। যদিও শুরু থেকেই বেশ গুরুত্ব দিয়ে ছবি তুলতাম তবে ২০০৫ সালে দুবনার ফটোগ্রাফারদের সাথে পরিচয়ের পরে ছবি তোলা ভিন্ন মাত্রা নেয়। ইতিমধ্যে ১০ টি একক প্রদর্শনী, নিয়মিত ক্লাবের প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া। প্রকৃতি, ল্যান্ডস্কেপ, স্টিল লাইফ, আর্কিটেকচার, ম্যাক্রো, এক্সপেরিমেন্টাল, স্ট্রীট, ট্র্যাভেল বিভিন্ন ঘরানার পাশাপাশি পোর্ট্রেট - এক কথায় যা সামনে পাই তার ছবিই তুলি। এক সময়ে বাসায় স্টুডিও করেছিলাম। তবে কখনোই গুলিয়া স্টুডিওতে পোজ দিতে রাজি হয়নি যদিও কোথাও বেড়াতে গেলে ছবি তুলতে আপত্তি করে না। অনেক বার ক্লাবে ডেকেও লাভ হয়নি।
একটা ডকুমেন্টের জন্য ছবি তোলার দরকার ছিল। তাই স্টুডিওতে যাওয়ার কথা ভাবলাম। ভেরাকে ফোন করে পেলাম না। পরে ও নিজেই ফোন করল।
প্রিভিয়েত বিজন। ফোন করেছিলে?
হ্যাঁ, ডকুমেন্টের জন্য ছবি দরকার। তুমি স্টুডিওতে?
না, আমি ছুটিতে। তবে ওখানে লোক আছে। যাও। অসুবিধা হবে না।
অসুবিধার কিছু নেই। তবে আমার অন্য প্ল্যান ছিল। সেটা মনে হয় মাঠে মারা গেল। অন্যান্য কিছু কাজ সেরে গেলাম স্টুডিওতে। ভেরা নেই জেনেও জিজ্ঞেস করলাম
ভেরা আছে?
না। ও ছুটিতে।
গুলিয়াকে দেখিয়ে বললাম
ওর ডকুমেন্টের জন্য ছবি দরকার ছিল।
রেডি হয়ে বসুন।
মেয়েটিকে চেনা চেনা মনে হচ্ছিল। বিশেষ করে চুলের স্টাইল। একটু ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করলাম
তুমি কি ফটো ক্লাব ফোকাসে যেতে?
শুভ অপরাহ্ন বিজন। যেতাম। আমি তোমাকে দেখেই চিনেছি। আমি আকসানা।
ঝুকোভা?
ঠিক।
ও গুলিয়ার ছবি তুলল। বলল দু'মিনিট অপেক্ষা কর। এখুনি করে দিচ্ছি।
তুমি আমাদের গোটা দুই ছবি তুলে দিতে পারবে?
অবশ্যই।
গুলিয়া ব্যাপারটি ঠিক বোঝেনি। একটু আপত্তি করলেও পরে রাজি হল। আকসানা আমাদের দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করল
তোমরা কি কাপল?
হুম।
ও এবার আমাদের দূরত্ব আরেকটু কমালো লাভ স্টোরি টাইপ কিছু তুলতে। বললাম
তুমি গোটা দুই ছবি নাও রিহার্সাল হিসেবে। কনভিন্স করতে পারলে ফটোসেশনে আসব।
ডকুমেন্টের ছবি নিয়ে আমরা বাসায় এলাম। আমাদের ছবি ও মেইল করবে বলল।
বাসায় আসার পর গুলিয়া বার দুয়েক জিজ্ঞেস করল ছবি পাঠিয়েছে কিনা। শেষ পর্যন্ত ছবি পেলাম। গুলিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম
পছন্দ হল?
হ্যাঁ।
যদি আমার সাথে ক্লাবে যাও আরও অনেক ছবি তুলব।
আমাদের পরিচয় ১৯৯১ সালে। কত ফটোগ্রাফার বন্ধু। মানে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। এই প্রথম এরকম কাউকে দিয়ে এক সাথে ছবি তোলা। মনে পড়ল মানিকগঞ্জের বলাকা আর মধুমিতা স্টুডিওর কথা। ওখানে গিয়ে নিয়মিত ছবি তুলতাম বাড়ির লোকজন মিলে।
দুবনা, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবি - আকসানা ঝুকোভা

Comments
Post a Comment