ক্রেডিট

সেদিন মনিকা ফোন করল ক্রেডিট সংক্রান্ত ব্যাপারে। আমাদের কথা শেষ হলে পাশে বসে থাকা গুলিয়া বলল
- এত যে ক্রেডিট নিচ্ছ তুমি মরে গেলে সব কি আমার ঘাড়ে ঝুলবে? তা হবে না। আমিও তোমার পেছন পেছন রওনা দেব, ক্রেডিটের টাকা আদায় করে তারপর ফিরব।
- না না, মরব কেন? আমি মরলে আমার অসুখগুলো সব এতিম হয়ে যাবে না?

সন্ধ্যায় গুলিয়াকে বললাম ভোলগার তীরে হাঁটতে যেতে। ও রাজী হল না। আমি সব্জি রান্না শুরু করলাম দুপুরের শুয়োরটার সঙ্গী হিসেবে। এরমধ্যে শুভ ফোন করল। তাই আঁচটা কমিয়ে দিলাম। অনেক দিন পরে সব্জিরা বিদ্রোহের আগুনে জ্বলে উঠেনি। এরপর গুলিয়া দোকানে গেল। কুকুররা এমনিতে শুকনো খাবার খায়। সপ্তাহে একবার মাছ বা মাংস। 
- তুমি মুরগির রান দুটো ভাঁজ। পানীয় কি আছে?
- কনিয়াক, ওয়াইন, পিটার থেকে তোমার আনা মারোশকার টিংচার।

বেশ ঘটা করে মুরগির পা দুটো নরকের জ্বলন্ত কড়াইয়ে ভাজা হল। রুশরা টোস্ট ছাড়া পান করে না।
- কিসের জন্য পান করব?
- আমাদের জন্য।
- তাহলে ক্রেডিট ছাড়া আমাদের জন্য।

জীবনে ক্রেডিট না থাকলে যে প্রেস্টিজ হ্যাম্পার হয়ে যায় সেটা এদের কেমনে বোঝাই?

দুবনা, ২২ নভেম্বর ২০২৫

Comments

Popular Posts