অদ্ভুত ইচ্ছে
আজ সকাল সকাল অফিস গেলাম রিনিউয়ালের দরখাস্ত জমা দিতে। সকালে মানে সাড়ে দশটায় কারণ সাধারণত আমি যখন যাই অনেকেই বাসায় ফিরে যায়। মাঝখানে আবার ডাক্তারের সাথে দেখা করতে হবে তাই এই ব্যবস্থা। ইয়ানকে পেলাম না। এডিকের হাতে দরখাস্ত জমা দিয়ে চলে এলাম। এডিক নিজেই বলল ইয়ানের সিগনেচার ও কালেক্ট করে নেবে, না হলে নিজেই সই করে দেবে।
ডাক্তারের ওখানে গিয়ে বসে আছি। আমার সময় এলে দরজায় নক করলাম। কোন সাড়াশব্দ নেই। একটু দ্বিধা করে ধাক্কা দিয়ে দেখি বন্ধ। চলে গেলেন নাকি? মনে মনে ভেবে চললাম নীচে ইনফরমেশন ব্যুরোয় জিজ্ঞেস করব বলে। ভাবলাম কাগজটা আরেকবার দেখি। কী দেখলাম? ঠিক ধরেছেন। আমি তারিখ ভুল করেছি। কি আর করা? বাসায় গিয়ে খেয়েদেয়ে আবার অফিস যাওয়া।
গুলিয়া বলল আমি যেন বনের ভেতর দিয়ে যাই। ও আরোও কয়েকটা গাছ লাগিয়েছে বাসায়। বন থেকে বিশেষ ধরণের মাটি আনতে হবে।
আমি রাস্তায় হাঁটার সময় সাধারণত প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকি। গুলিয়া কথা বলতে পছন্দ করে। কুকুরদের গল্প, বিড়ালদের গল্প, গাছের গল্প। কিছু কিছু কানে ঢোকে। বেশিরভাগ বাতাসে উড়ে যায়।
- আমি মরে গেলে টবের মাটি কিন্তু ফেলে দিও না।
- আমি তোমার সমাধিতে ঐ মাটি ঢেলে দেব?
- তোমার কি মাথা খারাপ? জান কত টাকা ব্যয় করেছি ঐসব মাটি কিনতে?
যাক অন্ততঃ জানা গেল কার শ্রাদ্ধে টাকা ব্যয় হয়। আচ্ছা মরার পরে টবের মাটির কি হবে এসব ভেবে কী লাভ। অদ্ভুত সব ইচ্ছে!
দুবনা, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

Comments
Post a Comment