প্রশিক্ষণ

রাশিয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বছরে একবার হলেও ফায়ার এলার্ট নামক একটি সতর্কতা মূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। আমাদের ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতিক্রম নয়। 

গত সোমবার (১০.১১.২০২৫) ইন্টারভালে বাথরুমে গিয়ে কিছু একটা ঘোষণা শুনে বেরিয়ে এলাম। ইন্টারভালে এমনিতেই করিডোর লোকে লোকারণ্য। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম কি বলছে। আরবি, চাইনিজ, ফ্রেঞ্চ কত ভাষায় যে বলা হচ্ছে। আমি অপেক্ষায় আছি কখন রুশ বা ইংলিশে বলবে। হতে পারে ওরা হয়তো এসব ভাষাতেই বলছিল। তবে আমি যখন কোন বিষয় নিয়ে ভাবতে থাকি তখন কোন শব্দ আমার কানে যায় না, সব শব্দ একটা অর্থহীন নেপথ্য আওয়াজের মত মনে হয়। এমন সময় একদল চাইনিজ কিংবা জাপানি ছেলেমেয়েদের নীচে নামতে দেখে মনে হল ওরা এক্সকারশনে এসেছিল। মাইক দিয়ে ওদের জড়ো করা হচ্ছে।‌ আমাকে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এক ভদ্রমহিলা (মনে হয় ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির শিক্ষক) বললেন 

- তাড়াতাড়ি চলুন। জ্যাকেট নিয়ে বাইরে চলে যান।

আমি ডিপার্টমেন্ট থেকে জ্যাকেট নিয়ে বাইরে গেলাম। বাইরে মানে ভেতরের আঙিনায়। সেখানে প্রচুর ছাত্রছাত্রী। অধিকাংশ জ্যাকেট ছাড়া। তখন তাপমাত্রা মনে হয় ৫-৬। তবে সবাই যদি এক সাথে লাইন দিয়ে জ্যাকেট আনতে যায় তাহলে ঘন্টা খানেক লাগবে জ্যাকেট নিতে।‌ তাছাড়া ওখানে দাঁড়িয়ে আমার মনে হল পুরো ব্যাপারটাই বোকামি। কারণ সত্যিকার আগুন লাগলে আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে সেটা ট্র্যাপ হতে পারে। আবার যদি মেইন গেট দিয়ে বাইরে যেতে হয় সেখানে ভীরের ধাক্কা আর বেরিয়েই বা কোথায় যাওয়া? সোজা ট্রাম লাইনে। এরকম প্রস্তুতিমূলক আয়োজন ভালো কিন্তু সত্যি সত্যি যদি আগুন লাগে তাহলে নিষ্কাশনের পথ নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবা দরকার। 

কেন যেন যখনই ইউনিভার্সিটিতে আগুন সংক্রান্ত কিছু ঘটে, আমার শিবুদির কথা মনে পড়ে। আমাদের ছাত্রজীবনে তাদের কেমিস্ট্রির ল্যাবরেটরিতে একবার আগুন লেগেছিল। তিনি তখন ওখানে ছিলেন। 

এই প্রশিক্ষণ দেখে মনে হল সময়টা ঠিক বেছে নেয়নি।
ঠান্ডা পড়ার আগেই এসব ঝুটঝামেলা মিটিয়ে ফেলা দরকার ছিল। এরপর অনেকেই যদি সর্দিকাশিতে আক্রান্ত হয় অবাক হবার কিছু থাকবে না। 

দুবনার পথে, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

Comments

Popular Posts