রথ
রথ মানেই ছোটবেলা। ১৯৬৯ সালে পুরী যাই রথ যাত্রায়। আমি বরাবরই খুব জেদি। আমার জেদের কারণেই পুরীর ট্রেন ফেল। দাদুর বকা। পরের ট্রেনে পুরী যাওয়া। রাস্তায় দেখলাম আমরা যে ট্রেনটা ফেল করলাম তার কয়েকটি বগি উল্টে গেছে।
গতকাল যখন ইন্ডিয়া ডে'র মেলায় তুলির সাথে দেখা, বলল আজকের রথ যাত্রার কথা। শেষ রথ দেখা মনে হয় ১৯৮৯ সালে মায়ের সাথে ধামরাই গিয়ে। আমাদের পাশের গ্রাম রাথুরায় রথের মেলা হয়। ওখানে আমার ছোট বেলায় রথের চেয়েও মেলাটাই বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। যাহোক তুলির কথা শুনে ভাবলাম দেখেই যাই। ক্রিস্টিনাও পছন্দ করে।
আমাদের দেশে মেলা মানে অল্প দাম। এখানে ঠিক উল্টো। গতকাল শুয়োরটা প্রায় রেডিও। তবুও ক্রিস্টিনাকে বললাম না খেয়ে যেতে আর মেলায় গিয়ে খেতে। খাবার ছিল বিভিন্ন ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের। তবে দাম অনেক বেশি নিল। তাই আজ মুরগি রান্না করে ক্রিস্টিনাকে বললাম, ক্রিস্তুশা, চল বাড়িতেই খেয়ে যাই।
গিয়ে দেখি রথ টানা শুরু হয়ে গেছে। আমিও অনেক ছবি তুললাম। ক্রিস্টিনা রথ পর্যন্ত টানল। রথের উপর থেকে ফল ছুঁড়ে দিচ্ছিল। আমরা তিনটে কলা আর একটা কমলালেবু ধরে ফেললাম দু'জনে মিলে।
এরপর অভিষেক নিয়ে গেল ওদের স্পটে। ক্রিস্টিনা স্কার্ট আর পাঞ্জাবি পছন্দ করল। প্যাকেট ধরিয়ে দিলে যখন টাকা দিতে গেলাম মালিক বললেন লাগবে না। মহা মুস্কিল।
এরপর পুরির লাইনে দাঁড়ালাম। এটা আসলে লুচি। সাথে চিনির গুঁড়া। মাথা পিছু একটা করে। এই প্রথম বারের মত রাবন হতে মন চাইল। নয়টা লুচি বেমালুম মিস করলাম। লুচির লাইন ইস্কনের প্যান্ডেলগুলোর পাশে আর এগোয় বেশ ধীর গতিতে। আসলে ওরা সামনাসামনি লুচি ভেজে হাতে ধরিয়ে দেয়। আমার ধারণা ওরা এটা করে জোর করে হরিনাম শোনানোর জন্য।
প্রায় চার ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করে বেশ ক্লান্ত। এদিকে দুবনা ফিরতে হবে। অনেকদিন পরে ছোটবেলায় ঘুরে এলাম
মস্কো, ১৭ আগস্ট ২০২৫

Comments
Post a Comment