মনিকা
আজ ছিল মনিকার জন্মদিন। ১৯৯৪ সালে এই দিনে ও এসেছিল আমাদের ঘরে। তারপর একে একে একত্রিশ বছর পার হয়ে গেছে। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আমরাও একটু একটু করে বড় হয়েছি। তবে সেই প্রথম দিনের, প্রথম দেখার রেশ এখনও কাটেনি।
আজ কথা ছিল গুলিয়া আর আমি মস্কো যাব। মনিকা ডেকেছিল। কোন পার্কে ঘোরা বা মস্কো নদীতে নৌকা ভ্রমণ। পরে কোন ক্যাফেতে ডিনার করে দুবনা ফেরা। এটা যে নন স্টার্টার সেটা আগে থেকেই জানতাম। কেননা এক ব্রিগেড কুকুর রেখে গভীর রাতে বাড়ি ফিরলে ওরা বাড়ি মাথায় তুলবে। তাছাড়া আমার নিজেরও একটু ঠান্ডা লাগায় সকালে মনিকাকে বললাম যাওয়া হচ্ছে না। শনিবার বা রবিবার যাওয়া যেত। তবে আগামীকাল মনিকা ক্রিস্টিনা আর সেভা মিশার সাথে যাবে কোন এক বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে। এরপর মনিকা আর মিশা যাবে জর্জিয়া বেড়াতে।
এদিকে আমার অফিসে কিছু কাজ ছিল। এই এক ব্যাপার। আমরা এখন সবাই ছুটিতে। অথচ সবাই অফিস করছি। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী আর গণিতবিদদের এই এক সমস্যা। আমরা অফিসে যাই বিশ্রাম নিতে। ওখানে বৌ ছেলেমেয়ে নেই, কুকুর বিড়াল নেই। চারিদিকে প্রিয় বই, কাগজ কলম আর একাকীত্ব।
অফিস থেকে ফিরে গুলিয়াকে নিয়ে দোকানে গেলাম। আমার প্রস্তাব ছিল কোন ক্যাফেতে যাওয়া। ওর রাজি হল না। ওর প্রিয় কিয়েভস্কি কেক (যেকোনো জন্মদিনে এমনকি আমার জন্মদিনেও ওর নাকি কেক পাওনা। ছেলেমেয়েদের ব্যাপারটা বুঝি, আমার জন্মদিনে ও কেন কেক পাবে সেটা এখনও পর্যন্ত বোধগম্য হল না)। সাথে ওয়াইন আর বিশাল এক তরমুজ। কেক খাওয়া শেষ, মনিকার স্বাস্থ্য পান শেষ। তরমুজের কপালে কষ্ট আছে। অত্যাচার চলবে সারারাত। দোষ ওর। কোরবানির গরুর মত ওকে এত বড় হতে কে বলেছিল?
ডিম পাড়ে হাঁসে খায় বাগডাসে
জন্ম নেয় মনিকা ফুর্তি করে বাবা মা।
দুবনা, ০৭ আগস্ট ২০২৫

Comments
Post a Comment