উপলব্ধি বা প্ল্যান বি
সকালে ঘুম ভাঙতেই ভাবলাম পরিজটা কি দিয়ে করা যায়। আমার মুরগি, শুয়োর, গরু আর মাছের মত পরিজও চক্রাকারে ঘুরে প্শেনো বা বাজরা, গ্রেচকা বা বাকহুইট, অভসিয়ানকা বা ওটমিল, ভুট্টা আর সুজির হালুয়ায়। গত শুক্রবার ভুট্টা করেছিলাম। খাইনি। তাই ওটাই মনে হল। কিন্তু যদি খারাপ হয়? আসলে ঐ দিন ভুট্টার পরিজ করে মনে হল দুধটা নষ্ট হয়ে গেছে। গুলিয়া তখন ওঠেনি। সন্দেহ থাকলে সাধারণত ও চেখে বা শুঁকে দেখে সার্টিফিকেট দেয়। আমাকে হাসপাতালে যেতে হবে। তাই নিজে দুটো স্যান্ডউইচ বানিয়ে খেয়ে চলে গেলাম। পরিজের সামনে তিনটে অপশন ছিল (১)
গুলিয়া খাবে; (২) ফেলে দেবে;(৩) কুকুরদের দেবে। তৃতীয়টা ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ আমাদের বাসায় কুকুর বিড়াল প্রথম শ্রেণীর নাগরিক, আমরা ওদের সার্ভিস মেন।
কিসের পরিজ হবে এটা নিয়ে যখন ভাবছি তখন একটা ক্লু পাওয়া গেল। ঐদিন গুলিয়া যখন পরিজ নিয়ে কিছু বলল না, বুঝলাম হয় ওটা খারাপ হয়নি বা কোন কারণে টের পায়নি। তাই জিজ্ঞেস করলাম পরিজটা খেয়েছে কিনা। ও সম্মতি জানালো। এখন আমি বুঝলাম আসলে দুধের সমস্যা নয় ভুট্টার বিধায় পরিজটা নষ্ট মনে হচ্ছিল। তিন দিন পরে আমি নিজের ভুলটা বুঝতে পারলাম।
তবে এখানেই গল্প শেষ হয়নি। বাসায় ফেরার আগে ভাবলাম তরমুজ বা বাঙ্গি নিয়ে যাই। তরমুজকে বেশ কয়েকবার কিল ঘুষি দেবার পরেও ও যখন মিষ্টি কিনা তা বলল না ভাবলাম বাঙ্গি নেই। দশ বা বারো কেজির তরমুজ মিষ্টি না হলে সেটা হবে ভূতের বেগার খাটা। দামের দিক দিয়ে চার কেজির বাঙ্গি তরমুজকে ছাড়িয়ে গেলেও ওটা বাসায় আনতে শক্তি কম হবে। অন্তত শক্তি বাঁচানো যাবে।
যখন বাঙ্গি ওজন করছি এক পরিচিত লোকের সাথে দেখা।
তুমি কিভাবে বাঙ্গি বাছাই কর?
শুঁকে দেখি।
আমি শুঁকে কোন গন্ধ পেলাম না। বাঙ্গির গন্ডারের চামড়া ভেদ করে গন্ধ কীভাবে নাকে আসবে তার কোন ক্লু না পেয়ে ওটা কিনেই বাসায় এলাম। গুলিয়া বাঙ্গী ধুয়ে (আমি নাকি ভালো ভাবে ধুই না তাই কেউ আমাকে এই কাজটা করতে দেয় না। আমার মনে হয় তরমুজ বাঙ্গি ও অন্যান্য ফল না ধোওয়া অবস্থায়ও আমার হাতের চেয়ে পরিস্কার) খেয়ে বলল
তুমি বাঙ্গি কেনার আগে শুঁকে দেখেছিলে?
আমি শুধু তোমাকেই শুঁকতে পছন্দ করি। কেন কি হয়েছে?
বাঙ্গি একদম মিষ্টি না।
আমি চিনি কিনে এনেছি।
মাথা খারাপ!
হয়তোবা মাথা খারাপ। তারপরেও যে আমার একটা প্ল্যান বি ছিল সেটাই বা মন্দ কিসের? বাংলাদেশের বামপন্থীদের সেটাও থাকে না।
রাশিয়ায় জাকন পদলস্তি বা নীচতলায় সূত্র বলে একটা ধারণা আছে। কেউ কোন দোকানে ১০ টাকা দিয়ে কিছু কিনে দেখল পাশের দোকানে তা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরের দিন দোকানে গিয়ে দেখি এক মধ্য এশিয়ার ছেলে মালামাল ঠিক করছে।
তুমি তরমুজ বেছে দিতে পারবে?
চলুন আমার সাথে।
ও অন্য জায়গায় কয়েকটি তরমুজ বাজিয়ে বলল
এটা নিয়ে যান।
মিষ্টি হবে?
অবশ্যই।
গতকাল বাঙ্গি কিনে বাসায় নিয়ে দেখি একদমই মিষ্টি না।
বলেন কি? নিয়ে আসতেন। বদলিয়ে দিতাম।
জানতাম না।
এখন তো জানলেন।
একটু খারাপই লাগল কথাটা আগে জানতাম না বলে। পরের দিন আবার যখন আরেকটি ছেলে অন্য এক তরমুজ বেছে দিল সেটা তেমন মিষ্টি ছিল না। গুলিয়াকে বললাম
চাইলে বদলিয়ে আনতে পারি।
কোন দরকার নেই। অযথা ঝামেলা।
আসলে আইন শুধু থাকলেই হয় না। সেটা কার্যকর করার জন্য নিজেদের আলসেমি দূর করে কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়।
দুবনা, ১০ আগস্ট ২০২৫

Comments
Post a Comment