মশা ও মাংস
অনেক দিন পরে ক্রিস্টিনা গতকাল দুবনা এসেছিল কয়েক ঘণ্টার জন্য। গত সপ্তাহে আসার একটি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, পরে সেটার সাময়িক সমাধান হলে প্ল্যান বাদ। মনিকার বিড়াল মারা গেছে বেশ কিছুদিন। এরপর থেকে সবাই মিলে বিড়াল খুঁজছি। কালো বিড়াল। এমনকি পেত্রজাভোদস্ক ও স্তাভ্রপোল পর্যন্ত যাবার প্ল্যান ছিল যা মস্কো থেকে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে। যেহেতু মনিকা আর মিশা ছুটি কাটাতে বাইরে যাবে তাই ঠিক হয়েছে এরপর বিড়াল বৃত্তান্ত শুরু হবে। তবে কয়েক দিন আগে পিটার থেকে ফিরে ক্রিস্টিনা মেট্রোয় এক বিড়ালের দেখা পায়। এক মেয়ে ওদের জন্য মালিক খুঁজছিল। ক্রিস্টিনাকে দেখে বিড়াল নাকি ওর কোলে লাফিয়ে পড়ে। কী করা? সবই ঠিক আছে। সমস্যা রঙে। ওর রঙ কমলা। বললাম মনিকার সাথে কথা বলতে। কিন্তু মনিকাকে সারপ্রাইজ দিতে ও বাসায় ফেরে অনেক রাতে, বিড়াল সহ। এ নিয়ে বিশাল সমস্যা। মনিকা বলল, বিড়াল খাওয়াবো আমি, দেখাশুনা করব আমি, তাহলে তোমরা কেন আমাকে না জানিয়ে ওকে নিয়ে এলে। যাহোক সে এক বিরাট গল্প। পরে কোন এক সময় বলা যাবে।
ক্রিস্টিনা এসেছিল দুবনা থেকে ৫০ কিলোমিটার মত দূরে তালদম বলে এক শহরে ওর বান্ধবী ঝেনিয়ার কাছে। ওদের পরিচয় স্কুল জীবনে সামার ক্যাম্পে। সেখান থেকে দুবনায় বান্ধবী সহ। বলেছিল আমি যেন বারবিকিউএর ব্যবস্থা করি। আন্তনকে ফোন করলে ও জানাল ম্যানেজ করবে। ঠিক হল আমরা চারজন যাব। আন্তন, ক্রিস্টিনা, ওর বান্ধবী ঝেনিয়া আর আমি। গুলিয়া কুকুর নিয়ে ব্যস্ত তাই যেতে পারে না। আগের রাতে গুলিয়া জিজ্ঞেস করল কে কে যাবে আর নিজের যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করল। যদিও বলল এখন এসব করলে জরিমানা করতে পারে। আসলে এই সময়ে রাশিয়ার সর্বত্র আগুনের প্রকোপ। তাই বিশেষ জায়গা ছাড়া আগুন জ্বালানো নিষেধ। এসব জায়গায় ছুটির দিনে জায়গা পাওয়া মুস্কিল আর বেশ ব্যয়বহুল। ইতিমধ্যে গুলিয়া যাবে শুনে আন্তন জানাল যে মামা (মা) গেলে সে যাবে না। আমি পড়লাম সমস্যায়। বন্ধুদের লিখলাম জানাতে কোথায় যাওয়া যায়। পরের দিন সকালে আন্তন ফোন করে বলল, ও আমাদের সব আয়োজন করে চলে যাবে। শর্ত একটা ঐ সময় গুলিয়া আসতে পারবে না। ও চলে গেলে আসবে। আমি নিরুপায়।
প্রথমে ভেবেছিলাম বনে যাব। যেহেতু ক্রিস্টিনা আসতে আসতে প্রায় ৫ টা বাজল, তাই গেলাম নদীর ধারে রেস্ট্রিক্টেড এরিয়ায়। গুলিয়া শেষ পর্যন্ত এলো না। আন্তন সব ঠিকঠাক করে দিয়ে বন্ধুদের সাথে চলে গেল। আমরা বারবিকিউ আর মশার কামড় খেয়ে বাসায় ফিরলাম ৮ টার দিকে। পৌনে নয়টায় ক্রিস্টিনারা মস্কোর পথে বেরুলো। আমার ব্যস্ত দিনের সমাপ্তি ঘটলো এভাবেই।
দুবনা, ০৪ আগস্ট ২০২৫
ক্রিস্টিনা এসেছিল দুবনা থেকে ৫০ কিলোমিটার মত দূরে তালদম বলে এক শহরে ওর বান্ধবী ঝেনিয়ার কাছে। ওদের পরিচয় স্কুল জীবনে সামার ক্যাম্পে। সেখান থেকে দুবনায় বান্ধবী সহ। বলেছিল আমি যেন বারবিকিউএর ব্যবস্থা করি। আন্তনকে ফোন করলে ও জানাল ম্যানেজ করবে। ঠিক হল আমরা চারজন যাব। আন্তন, ক্রিস্টিনা, ওর বান্ধবী ঝেনিয়া আর আমি। গুলিয়া কুকুর নিয়ে ব্যস্ত তাই যেতে পারে না। আগের রাতে গুলিয়া জিজ্ঞেস করল কে কে যাবে আর নিজের যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করল। যদিও বলল এখন এসব করলে জরিমানা করতে পারে। আসলে এই সময়ে রাশিয়ার সর্বত্র আগুনের প্রকোপ। তাই বিশেষ জায়গা ছাড়া আগুন জ্বালানো নিষেধ। এসব জায়গায় ছুটির দিনে জায়গা পাওয়া মুস্কিল আর বেশ ব্যয়বহুল। ইতিমধ্যে গুলিয়া যাবে শুনে আন্তন জানাল যে মামা (মা) গেলে সে যাবে না। আমি পড়লাম সমস্যায়। বন্ধুদের লিখলাম জানাতে কোথায় যাওয়া যায়। পরের দিন সকালে আন্তন ফোন করে বলল, ও আমাদের সব আয়োজন করে চলে যাবে। শর্ত একটা ঐ সময় গুলিয়া আসতে পারবে না। ও চলে গেলে আসবে। আমি নিরুপায়।
প্রথমে ভেবেছিলাম বনে যাব। যেহেতু ক্রিস্টিনা আসতে আসতে প্রায় ৫ টা বাজল, তাই গেলাম নদীর ধারে রেস্ট্রিক্টেড এরিয়ায়। গুলিয়া শেষ পর্যন্ত এলো না। আন্তন সব ঠিকঠাক করে দিয়ে বন্ধুদের সাথে চলে গেল। আমরা বারবিকিউ আর মশার কামড় খেয়ে বাসায় ফিরলাম ৮ টার দিকে। পৌনে নয়টায় ক্রিস্টিনারা মস্কোর পথে বেরুলো। আমার ব্যস্ত দিনের সমাপ্তি ঘটলো এভাবেই।
দুবনা, ০৪ আগস্ট ২০২৫


Comments
Post a Comment