পরিচয়
গত শনিবার পিকনিক রাত দশটায় গড়ালে আর দুবনা ফেরা হয়নি। আগের প্ল্যান অনুযায়ী আমার মস্কো থাকার কথা ছিল। কথা ছিল মাসুদ আর আমি সারাদিন ভেদেনখায় ঘুরে বেড়াবো। মূল উদ্দেশ্য অবশ্য ছবি তোলা। কিন্তু মাসুদ ডাচা মানে সামার হাউজে চলে যাওয়ায় সেটা বাদ। তাই আমি সকালের ট্রেনে দুবনা ফিরে আসি ভোলগায় সাঁতার কাটব বলে।
আবহাওয়া তেমন সুবিধার নয়। আকাশ মেঘের পর্দা টাঙিয়ে ঘুমাচ্ছে মনে হয়। ভোলগায় গিয়ে দেখি চারিদিক জনশূন্য। জল ঠান্ডা বলে নামব কি নামব না এই দোদুল্যমান অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারছি না। ইতিমধ্যে সূর্য উঁকি দিয়েছে। সূর্যের ছায়ায় কালো শরীর আরও কালো করছি। এমন সময় আলিনা এল
বিজন প্রিভিয়েত। জল কেমন?
দেখে তো ঠান্ডা মনে হচ্ছে। কাউকে না দেখে নামিনি।
রোদ নেই বলে কেউ আসেনি।
এমন সময় একটা কুকুরের আগমন ঘটল। বেশ বড়সড়। একটু পরে মালিকের দেখা পেলাম।
কুকুরটি এদিক সেদিক ঘুরতে শুরু করলো। আমি কুকুর তেমন ভয় পাই না। তবে শেকল ছাড়া কুকুর। কে জানে কি আছে ওর মনে।
রুশ কুকুর অন্যদের খুব একটা পছন্দ করে না।
মনে হল বিদেশি শব্দটা তিনি শেষ মূহুর্তে তুলে নিলেন।
তাহলে তো ওকে এভাবে ছেঁড়ে দেয়া ঠিক হয়নি।
সরি আমি ঠিক এভাবে বলতে চাইনি।
যদিও আমি আলিনার সাথে রুশ ভাষায় কথা বলছিলাম আর ওনার সাথেও এতক্ষণ রুশেই কথা হল, মনে হল উনি ধরে নিয়েছেন আমি রুশ খুব একটা বুঝি না। এরপর শুরু হল ইংরেজিতে দুঃখ প্রকাশ করার পালা। একসময় উনি নদীতে নামলেন। কুকুরটাকে ডাকলেন। কিন্তু ও তেমন সাড়া দিল না।
আমার মনে হয় ছোট বেলায় ও কোন ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে। খুব ভীত।
যখন আনলেন ওর বয়স কত ছিল?
দুই মাস।
সাধারণত তিন মাসের পর বাচ্চাদের নতুন মালিকের কাছে দেয়। দুই মাসে আনলে তো এরকম হবার কথা নয়।
এরপর উনি উঠে এলেন। আমি নামলাম সাঁতার কাটতে। জল বেশ ঠান্ডা। ১৯-২০ ডিগ্রীর মত। তাই অল্প কিছুক্ষণ সাঁতার কেটে উঠে এলাম।
আপনি মনে হয় থিওরেটিক্যাল ল্যাবে কাজ করেন?
না, ইনফর্মেশন টেকনলজি ল্যাবে। তবে কাজ করি থিওরির উপর।
এখন উনি সাবলীলভাবে ইংরেজি বলছেন। নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে কাজ করেন। এক্সপেরিমেন্টের সাথে জড়িত। আমিও কসমোলজির উপর নিজের কাজের কথা বললাম। দেখতে দেখতে আমার যাবার সময় হয়ে এল
বিজন সাহা।
ভ্যালেরি স্ভেৎসব। নিউট্রিনো ল্যাবের আইবিআর -২ এক্সপেরিমেন্টের প্রধান।
কথায় কথায় কথা এগুলো। জানালাম আমি দুবনায় ১৯৯৪ থেকে আর রাশিয়ায় ১৯৮৩ থেকে।
হ্যান্ডশেক করে যখন চলে আসব ওনার ল্যাবে বেড়াতে যেতে বললেন।
প্রথমে যখন উনি এলেন এভাবে কুকুর নিয়ে ঘোরার কারণে এক ধরণের নেগেটিভ মনোভাব তৈরি হয়েছিল। যখন চলে এলাম বেশ পজিটিভ মুড নিয়ে।
নট অলওয়েজ মর্নিং সোজ দ্য ডে।
দুবনা, ২৬ জুলাই ২০২৫

Comments
Post a Comment