সময়
রুশরা বলে আকাশে বলাকার চেয়ে নিজের খামারে মুরগি ভাল (আমি অনুবাদটি একটু অন্যভাবে করলাম যদিও মোদ্দা কথা এটাই)। অনেক দিন আগে এক সিনিয়র বন্ধু আমাকে তার বাসায় নিমন্ত্রণ করেন। আমাদের মধ্যে তখন বন্ধুত্বের একটু টানপোড়েন চলছিল। যদিও জানতাম তিনি আমাকে খুবই আন্তরিক ভাবে গ্রহন করবেন তবুও নিজের গুরুত্ব জাহির করতে সেই নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করি। তিনি কিছু না বললেও কষ্ট পেয়েছিলেন। পরে মনে হল নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে কোন অজুহাতে না গেলে সেটা অনেক ভদ্রোচিত হত, সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হত না। কিন্তু ঐ সময়ে প্রতিবাদী ছিলাম, মনে হয়েছিল সত্য কথা বললে সেটা বেশি সমাদৃত হবে। এর কিছুদিন পরে মস্কোর এক কেউকেটা ব্যবসায়ী আমাদের অনেককে তার বাসায় আমন্ত্রণ জানায়। জানতাম আমার সেই সিনিয়র বন্ধু সেখানে থাকবেন। সাধারণত এসব অনুষ্ঠানে না গেলেও সেদিন গেলাম শুধু দেখাতে যে কেউকেটা লোকেরাও আমাকে ডাকে। সারা মস্কোর প্রায় সবাই সেখানে উপস্থিত ছিল। সেই লোক এত ব্যস্ত ছিল যে অধিকাংশ মানুষের সাথে সৌজন্যমূলক হাই হ্যালো করার ফুরসত ছিল না তার। তখন মনে হল কেউকেটা লোকেরা ডাকলেই নিজেকে গর্বিত মনে করার কারণ নেই। অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত ভাবে অপমানিত না হলেও নাজুক অবস্থায় পড়তে হয়। সেদিন সিনিয়র বন্ধুর ওখানে অনেকেই ছিল, তারা আমার অনুপস্থিতি খেয়াল করেছে, এমনকি মুখের উপর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করায় অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছে। ফলে কেউকেটা ব্যবসায়ীর অনুষ্ঠানে তারা আমাকে এড়িয়ে গেছে। সময় বড়ই নির্মম। সব ভুলেরই মাশুল দিতে হয়। সেটা অতীতে যেমন সত্য, বর্তমানেও তাই। আর যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সেই ভুল করে তত বেশি লোক সেজন্য পস্তায়।
ভালদাই থেকে দুবনার পথে, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Comments
Post a Comment