মসলা

গত পরশু রাতে সেভা এলো দুবনায়। গুলিয়া আর আমি আস্তাশকভ ও নীলভ পুস্তিন গেছিলাম এক দিনের ট্রিপে। সেভা এসেছিল কুকুরদের ওপর খবরদারি করতে। এটা আসলে গুলিয়ার মানসিক শান্তির জন্য। ও মস্কো গেলে আমাকে হাজার বার বলে যায় কুকুরদের রেখে যেন কোথাও না যাই। কিন্তু আমি ঠিকই অফিস করি, ছবি তুলি, ভোলগার তীরে ঘুরে বেড়াই। সেভা আর আন্তন আমার এই শিক্ষা খুব ভালো ভাবে রপ্ত করেছে।

শুক্রবার সেভাকে জিজ্ঞেস করলাম 
- কি রান্না করব?
- হাড় আর চর্বি ছাড়া মাংস।
অফিস থেকে ফেরার পথে মাংস কিনলাম। ভদ্রমহিলা বলে দিলেন ঘন্টা দুয়েক ধরে রাঁধতে হবে।‌ আমাদের খাবার আগেই করা ছিল। মাংস সবজি মানে শুয়োরের মাংস আলু, বেগুন, ক্যাপসিকাম, গাজর, শসা, টমেটো, পিঁয়াজ, রসুন এসব দিয়ে একসাথে করা আর রুটি দিয়ে খাওয়া। সেভার জন্য অনেক যত্ন করে করলাম গরু আলু পেঁয়াজ দিয়ে আর গ্রেচকা। ও এসে পৌঁছুল রাত দেড়টার দিকে। খাবার নিয়ে চলে গেল। বলেছিল শনিবার রাতের ট্রেনে মস্কো ফিরে যাবে।‌ আমরা যখন দুবনার পথে সেভার ফোন 
- পাপ, তোমাদের আসতে অনেক দেরী?
- না। কিমড়ি চলে এসেছি। আর আধা ঘন্টা। তুই কোথায়?
- এখন বাসায়। রাতে সাইকেল চালাতে যাব। 

বুঝলাম ও মস্কো ফিরছে না। আমরা ফিরলে জিজ্ঞেস করল কোন গরম পোশাক আছে কি না। এখন দুবনায় রাতে ১২-১৩, এমনিতেই ঠান্ডা, সাইকেল চালালে তো আরও বেশি। আন্তন বরাবরই আমার জামাকাপড় পছন্দ করে, ওর ছোট হলেও নিয়ে যায়। সেভা ঠিক উল্টো। বললেও নেয় না। কয়েকটা জ্যাকেট বের করে দিলাম। একটা পছন্দ করল। রাত একটার দিকে সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে গেল। বলল ফিরবে সকালে। 

সকালে বলল, ও আন্তনের ওখানে গতকাল দুপুরে খেয়েছে। আরও বলল, আমি খুব ছোট ছোট করে মাংস কাটি আর অনেক মসলা দেই। তাই ও খেতে পারেনি। 

সকালে উঠে ভাবলাম আবার চেষ্টা করা যাক। বেশ বড় বড় করে শুয়োরের মাংস কেটে সেদ্ধ করলাম। পরে একটু লবণ, কালো মরিচের গুঁড়া,আর এসব শুকিয়ে গেলে একটু তেল, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম আর রসুন দিয়ে দিলাম। এতে রাঁধতে সময় বেশি লাগলেও কাটাকাটি কম। এমনকি আমার নিজেরও পছন্দ হল খাবারটা। মাংসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। অনেক দিন পরে গুলিয়া জিজ্ঞেস করল না এটা মাছ না মাংস? আর সেভা বলল প্রচন্ড টেস্টি। এর আগে ও অবশ্য নিজে থেকেই বলল আমি রওনা হবার আগে যেন ওর কিছু ছবি তুলি। তাই নদীর ধারে গেলাম ছবি তুলতে। আমি যাচ্ছি মস্কো, সেভা আন্তনের সাথে বনে মাশরুম তুলতে। ওরা যখন ছোট ছিল আমরা মাঝে মধ্যে ফেরি পার হয়ে ওদিকে যেতাম। 

বললাম থেকে যেতে। তাইনা অবশ্য ওর অপেক্ষায় থাকবে। আসলে বাড়িতে কুকুর বিড়াল থাকলে এই এক সমস্যা। ওদের রেখে খুব বেশি দিন কোথাও থাকা যায় না।

তারিখ লিখতে গিয়ে মনে পড়ল ১৯৮৩ সালের ০৬ সেপ্টেম্বর মস্কো এসেছিলাম। তখন মস্কো ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজধানী, সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষের তীর্থস্থান।

মস্কোর পথে, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Comments

Popular Posts