কথোপকথন

গত সোমবার আমার পিএইচডি স্টুডেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম 
- তোমার টোটাল স্বাধীনতার কী অবস্থা?

ওর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড। যখন কসমোলজির উপর পিএইচডি করতে চাইল একটু অবাক হলাম। তবে খুব আগ্রহ দেখে শেষ পর্যন্ত রাজি হলাম কাজ করতে। নিয়মিত যোগাযোগ করত, এক্সট্রা ক্লাসে এটেন্ড করত কিন্তু নতুন কিছু ক্যালকুলেশন করতে বললেই সমস্যা। কিছুতেই পেপার লেখাতে পারি না। শেষ পর্যন্ত যাও লিখল কাঁটছাঁট করে কিছু রইল না। এরপর ও দুই সপ্তাহের জন্য আমেরিকা চলে গেল। এল প্রায় তিন মাস পরে। মাঝে মস্কো গেলে যখন দেখা করল কাজের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলল আমি তাকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দিতে পারি কি না। এ কথা শুনে আমার ইয়েলৎসিনের কথা মনে পড়ল। উনি বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রধানদের বলেছিলেন, 
যতটুকু স্বাধীনতা হজম করতে পার নাও। 

আমি অতি সাধারণ পদার্থবিদ। এত স্বাধীনতা দেব কোত্থেকে? বললাম 
- ঠিক আছে। কিন্তু তুমি যা লেখ সেটাকে এন্ডোর্স করব যদি তা ফিজিক্যালি ও ম্যাথেম্যাটিক্যালি সাউন্ড হয়। 

তখন তার যে আইডিয়া ছিল আমি নাকচ করে দেই। আজ জিজ্ঞেস করলে বলল 
- ফাইভ ডাইমেনশনাল প্রবলেম নিয়ে ভাবছি।
- কালুজা ক্লেইন জাতীয় কিছু একটা?
- ঠিক তা নয়, আমি অন্যভাবে করতে চাই।
- ভাল। তবে যাই কর সেটা যেন প্রচলিত তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক না হয় আর হলে তার পেছনে শক্তিশালী যুক্তি থাকে।
- আমাদের সবসময় কেন পেছনের দিকে তাকাতে হবে?
- রাস্তা ভুল হলে যেন পেছনে ফিরতে পারি।
- কিন্তু আমি যদি সম্পূর্ণ নতুন কিছু করতে চাই?
- দেখ, রাশিয়ায় পিএইচডি ডিগ্রি হোল্ডারকে বলে কানদিদাত নাউক, বিজ্ঞানী পদপ্রার্থী। এখানে আমরা কিছু কিছু নতুন কাজ করি আর নিজেরা কাজ করতে শিখি। এটা অনেকটা এরকম। ধর তোমার বাবার একটা ব্যবসা আছে। তুমি সেটাকে এক্সটেন্ড করতে পার। আবার একেবারে নতুন কিছু করতে পার। নতুন কিছু করা রিস্কি। তাই ভালো হয় যদি তুমি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা এক্সটেন্ড কর আর যদি এক্সট্রা অর্থ উপার্জন হয় সেটাকে নতুন ব্যবসায় নিয়োগ কর তাতে রিস্ক কম। না, আমি তোমার ভাবনার স্বাধীনতা খর্ব করছি না। তবে সেটা যাতে ফলপ্রসূ হয় সেটা দেখার দায়িত্ব আমার। স্বাধীনতা সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে না পারলে পরাধীন হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তবে তোমার বিভিন্ন কাজকর্ম দেখে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। তখন মেলায় গেলে যা চোখে পড়ত সেটাই পছন্দ হয়, কিনতে ইচ্ছে করত। দশ হাতে সব নিতে চাইতাম। কিন্তু হাত তো মাত্র দুটো। তুমি নতুন কিছু পড়ে মনে কর এটাই তোমার গবেষণার বিষয়। কোনটাতে মনস্থির করতে পার না। সমস্যা এখানেই। কিছু একটা বেছে নিয়ে লেগে থাকতে হবে, সেটাকে এট্সপ্লোর করতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা পরিস্থিতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আর হ্যাঁ, যেকোনো পণ্যের মত আইডিয়াও একটা পণ্য। সেটা যদি বিক্রি করতে না পার তাহলে তার মূল্য নেই। এ জন্যেই পেছন দিকে তাকানো দরকার। তোমার আইডিয়া অন্যেরা গ্রহণ করছে কিনা সেটা দেখাও গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দুবনা, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Comments

Popular Posts