গণেশ উৎসব
কয়েক দিন আগে এক বন্ধু মস্কোয় গণেশ উৎসবের অনুষ্ঠানসূচী পাঠালো। আমার ধারণা ছিল দুর্গাপূজাই হল কয়েক দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান। তাই সাত দিন ব্যাপী গণেশ উৎসবের আয়োজন অবাক ও খুশি দুটোই করল। রবিবার শেষ দিন। আমি নিজের কাজে মস্কো যাব কলা বেচতে (সোমবার গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে) সাথে রথ দেখা হবে। বোনাস কিছু দেশি খাবার আর পরিচিত কারো সাথে দেখা হবার সম্ভাবনা। তবে পরিচিত প্রায় সবাই শনিবার যাবে লিখেছে। তাই সেই সম্ভাবনা কম।
মস্কোয় দুর্গাপূজা করে বাঙালি বা পশ্চিম বঙ্গের অবাঙালি ব্যবসায়ীরা। গণেশ পূজা মূলত উত্তর ও পশ্চিম ভারতের লোকজন। তাই পরিচিত মুখ খুব একটা দেখা গেল না। একজনকে পরিচিত মনে করে ডেকে দেখি মুখে তার অন্য মুখোশ। এর মধ্যে খবর পেলাম পাশের ঘরে চা দিচ্ছে। সাথে হালুয়া আর ছানার ডালনা। স্বীকার না করে উপায় নেই যে ওরা এসব আমার চেয়ে ভালো রান্না করে। আর দুধ চা। খেয়াল করে দেখলাম যে ছেলেটি চা দিচ্ছিল রুশ মেয়েদের জিজ্ঞেস করছে হাফ গ্লাস না ফুল গ্লাস, ছেলেদের কিছু জিজ্ঞেস না করে হাফ গ্লাস ধরিয়ে দিচ্ছে। পক্ষপাতিত্ব যে পক্ষেই হোক নিন্দনীয় আর নিজের বিরুদ্ধে গেলে আরও বেশি নিন্দনীয়।
চা খাচ্ছি, হঠাৎ দেখি খুব পরিচিত এক মুখ। হাসিটাও তেমন। রোহিত শর্মা! আরেকটু পরে দেখি যুবরাজ সিং হলে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছে। এগুলো মুখোশ নয় মুখ, যদিও এরা নকল রোহিত বা যুবরাজ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের নাচ দেখে মনে হল নিজের ছেলেমেয়েদের কে জি স্কুলের অনুষ্ঠানের কথা। ভারতীয় দূতাবাসের জেএনসিসির কয়েকটি পারফরম্যান্স ছিল। একসময় আমরা নিজেরাও বিভিন্ন উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতাম। আজকাল এসব হয় না বললেই চলে। ভালোই লাগল সব মিলিয়ে। আসলে এসব অনুষ্ঠানে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই তো দেশীয় সংস্কৃতির সান্নিধ্যে আসা, পরিচিত না হলেও নিজেদের মত মুখের দেখা পাওয়া সেটাই বা কম কিসে। আসার আগে বাসার জন্য শনপাপড়ি কিনলাম, ম্যাঙ্গো শনপাপড়ি। এটা বাড়িতে সবাই পছন্দ করে।
মস্কো, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Comments
Post a Comment