সাব নির্বাচন ও আনুষঙ্গিক প্যাঁচাল (ই পেচাল)
সাবের নির্বাচন নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। নির্বাচন মানেই জেতার প্রচেষ্টা আর সেটা করতে হলে নিজের সবল দিকটা যেমন তুলে ধরতে হবে, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা নিয়েও তেমনি বলতে হবে। এটাই নির্বাচনের নিয়ম। এটা অনেকটা বক্সের হত। লড়াইয়ের সময় বক্সাররা রিং-এ একে অন্যকে নক আউট করতে পিছ পা হয় না, কিন্তু খেলা শেষে বিজয়ীকে অভিনন্দন জানায়, যেন কিছুই হয়নি এ ভাবে রিং ত্যাগ করে। এটাই স্পোর্টসম্যানশীপ। তাই নির্বাচনে নামলে এসব মেনে নিয়েই নামতে হবে। তবে যেকোনো ধরণের প্রচারণা হতে হবে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত রেগ্লামেন্টের ভেতরে। সেটা লঙ্ঘন করলে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে। সেটা না করে যদি বিভিন্ন গ্রুপে সব গেল, সব গেল বলে লেখালেখি শুরু করি তাহলে নির্বাচনটাই প্রহসনে পরিনত হবে।
নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখায় আবারও সিনিয়র জুনিয়র প্রশ্নটা সামনে চলে এসেছে। আমার মনে হয় যারা নির্বাচন করতে মনস্থির করেছে তারা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে কম-বেশি প্রতিষ্ঠিত, তাই দায়িত্ব কি ও কীভাবে সেটা পালন করতে হয় তা তারা সবাই কমবেশি জানে। এখানে বয়স তেমন ফ্যাক্টর নয়, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তারা সবাই যখন পঞ্চাশের আশে পাশে।
সাবে সব সময়ই চেষ্টা করা হয় নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়ার। এবারও হয়তো ব্যতিক্রম ঘটবে না। তবে আজকের বিভিন্ন সমস্যার মূলে রয়েছে আগে নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়া। কারণ সেটা করতে গিয়ে বিভিন্ন লোকদের বিভিন্ন আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। জনগণের পক্ষে থেকে সেই আশ্বাস দেয়াটা কতটা সঠিক? আমি মনে করি কেউ যদি নির্বাচন করতে চায়, সেটা করতে দেয়া উচিৎ। এমনকি যদি একজন মাত্র প্রার্থী থাকে সাধারণ সভায় প্রকাশ্য বা গোপন ভোটের মাধ্যমে তার বিজয় নির্ধারণ করা উচিৎ। এক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই ৫০% এর বেশি ভোট পেতে হবে। এই নিয়ম করলে কেউ আগে থেকে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে কাউকে বসিয়ে দেবার চেষ্টা করবে না। প্রতিটি নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই হোক আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই হোক নিজের পেছনে জনসমর্থন দেখিয়েই দায়িত্ব নেবে। আর গতবারের ভুল এড়াতে প্রতিটি পদের জন্য আলাদা আলাদা ভোট গণনা করতে হবে, মানে কোন পদে কেউ যদি ভোট না দেয় তাতে করে পুরা ব্যালট পেপার বাতিল বলে ঘোষিত হবে না, একই ভাবে কোন পোস্টে একাধিক ভোট দিলে শুধু ওই পোস্টের ভোট বাতিল হবে।
সময়ের সাথে সংগঠনের কাজের প্রায়োরিটি বদলায়। ধারণা করি যে প্রথম দিকে সাবের প্রধান কাজ ছিল সেই সময় সোভিয়েত ফেরত বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল সেটা মোকাবেলা করা। যেমন ডিগ্রির স্বীকৃতি আদায়, চাকরিসহ অন্যান্য সমস্যা ট্যাকল করা। আর এসব কাজ করার জন্য দরকার ছিল সমস্ত গ্র্যাজুয়েটদের একটি পতাকার নীচে সমবেত করা। অস্বীকার করার উপায় নেই যে সোভিয়েত ইউনিয়নে আমাদের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপ ছিল। দেশে ফেরার পর রাতারাতি সবাই সোভিয়েত ফেরত বিশেষজ্ঞ হিসেবে একই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হলেও সোভিয়েত ভূমিতে নিজেদের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয় সেটা সহজে দূর হবার নয়। অন্তত বিগত নির্বাচনের সময় এ ধরণের বহু কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে, এমনকি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ৩৬ বছর পরেও সেই ভূত আমাদের ঘাড় থেকে নামেনি, সুযোগ পেলেই আমরা তাকে জাগিয়ে তুলতে পিছ পা হব না। তবে বিভিন্ন প্রশ্নে মতভেদ থাকার পরেও এই সংগঠন যে আমাদের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য সেটা নিয়ে কারও দ্বিমত মনে হয় নেই। সেসব কথা মাথায় রেখেই আমাদের আশু কর্তব্যগুলো ঠিক করতে হবে। এজন্যে দরকার সেই নেতৃত্ব, সংগঠন নিয়ে যাদের প্যাসন বা আবেগ আছে, নিজেরা জীবনে সাফল্যের শেখরে উঠলেও যারা সোভিয়েত ও রুশ ফেরত বিশেষজ্ঞদের জীবনে সাবের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত বিধায় সাবের সার্বিক উন্নয়নে নিজের সময় ও শ্রম দিতে প্রস্তুত।
কোন সংগঠনের সভাপতির যোগ্যতা ও সাফল্য নির্ণয় করতে হলে সংগঠনের জন্য তিনি কি করেছেন সেটাই দেখা প্রয়োজন। আগের সভাপতিবৃন্দ নিঃসন্দেহে শিক্ষা, দীক্ষা, পদ পদবীতে এগিয়ে ছিলেন, আছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত যে সাবের নিজস্ব কোন অফিস নেই, ব্যক্তিগত ভাবে অনেকেই দেশ ও দশের সেবা করলেও সংগঠন হিসেবে দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সাব যে তেমন কোন ছাপ রাখতে পারেনি এটা আমাদের ও তাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা। উল্লেখ করা যেতে পারে যে বাংলাদেশের শাসকদের মধ্যে শিক্ষা, দীক্ষা, আন্তর্জাতিক পরিচিতি, গ্রহণযোগ্যতা সব বিষয়ে প্রফেসর ইউনুস ছিলেন চ্যাম্পিয়ন। তিনি কি দেশের সেরা শাসক? যদি না হন, তার প্রধান কারণ দেশের প্রতি তার কমিটমেন্টের অভাব। তাই আসুন ডিগ্রি না দেখে আমরা প্রার্থীর ইন্টিগ্রিটি দেখি, সাবের প্রতি প্রার্থীর কমিটমেন্ট বিবেচনায় আনি। সাব বিশ্ব জয়ের জন্য কমিটি নির্বাচন করছে না, সে চাইছে সেই লোক যে তাকে আরেকটু গতিশীল ও জনমুখী করবে, সাবের আশু সমস্যাগুলো সমাধানে সচেষ্ট হবে। এর জন্য দরকার স্বচ্ছতা। কারণ অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয় অস্বচ্ছতা থেকে। গত বারের নির্বাচনের সময় এমন অনেক তথ্য সামনে চলে এসেছিল যা হত না, যদি সেই কার্যকরী কমিটি সাবের রেজিস্ট্রেশন সহ অন্যান্য বিষয়ে সময় মত সদস্যদের অবহিত করত। মাত্র কয়েক দিন আগে জানলাম যে রাশিয়ান হাউজ কোন কারণে সাবকে সাংগঠনিক কাজে তাদের প্রেমিসি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। সাবের একাধিক গ্রুপ আছে, যেখানে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি হয়। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কেন আমাদের অবগত করা হল না সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।
গত নির্বাচনের সময় থেকেই অধিকাংশ সদস্য সাবের একটি নিজস্ব অফিস থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। অবশ্যই সাবের মত একটি সংগঠনের নিজস্ব অফিস থাকা প্রয়োজন। তবে তার আগে আমাদের অফিস নেবার প্লাস মাইনাস সব ভেবে দেখতে হবে। একসময় আমরা রাশিয়ান হাউজে বসতাম। যেহেতু এটা রাশিয়ান হাউজে ছিল, তাই আলাদা করে খোলার দরকার ছিল না। নিজস্ব অফিস নিলে তা খোলা রাখা ও দেখাশুনা করার জন্য লোক দরকার। এর বাইরেও নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে। সোভিয়েত আলুমনাই এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ শুধু নামের কারণেই অনেকের চক্ষুশূল। দেশে যেভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মবের দ্বারা আক্রান্ত হয় তাতে আমাদের অফিস যে নিরাপদ থাকবে সেটাই বা কে বলল? এছাড়া আমাদের সদস্যরা বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত, তাদের অনেকেই সরকার ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর কুনজরে থাকে। তারা কি অফিসে এসে নিজেদের নিরাপদ অনুভব করবে? তাই অফিস নেবার আগে এসব বিষয় খুব ভালো করে ভেবে দেখতে হবে। রাশিয়ান হাউজে অন্তত এই সমস্যা নেই। তাই সাময়িক ভাবে ওখানে আবার আমাদের বসার ব্যবস্থা করা যায় কি না সেটা নিয়েও রুশ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে হবে। কারণ, অনেকের লেখা পড়ে বুঝতে পারলাম যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন মতেই অনুকূল নয়। এক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়াই সমীচীন বলে মনে করি। তবে আমাদের লক্ষ্য হবে নিজস্ব অফিস। এখানেও সমস্যা হতে পারে। সাব একটি অলাভজনক, নির্দলীয় সংগঠন। আমি মনে করি এটা অরাজনৈতিক সংগঠন নয়, কেননা সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আমাদের অঙ্গীকার – এটাও রাজনীতি। যতদূর জানি সাবের কোন নিয়মিত আয় নেই। তাই নিজস্ব অর্থে অফিস কেনা বা ভাড়া করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোত্থেকে আসবে সেটাও ভাবতে হবে। অনেকেই এগিয়ে আসতে পারেন বা এগিয়ে আসবেন। কিন্তু যখন সাবের নামে কোন কিছু কেনা হবে সাবের প্রতিটি সদস্য হবে এর আইনসংগত মালিক। সেক্ষেত্রে যারা অর্থ দিয়ে অফিস প্রকল্পে অংশগ্রহণ করছে আর যারা শুধু নৈতিক সমর্থন দিচ্ছে তাদের মধ্যে যে আইনি সমস্যা দেখা দেবে না সেটাই বা কে বলতে পারে? যতক্ষণ পর্যন্ত আর্থিক স্বার্থ জড়িত না থাকে ততক্ষণ সবই ঠিক, কিন্তু একবার অর্থ নাক গলাতে শুরু করলে সেখানে হাজারটা অনর্থ জন্ম নেয়। এর মানে হচ্ছে এ ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে হতে ধীরে সুস্থ্যে, বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে এবং সব বিষয় প্রচলিত আইন অনুযায়ী নথিবদ্ধ করে। আর এই সিদ্ধান্ত নেবে কার্যকরী কমিটি সাধারণ সভার অনুমোদন সাপেক্ষে।
এখানে অনেকেই তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করছে। কেউ কেউ এতে আপত্তি জানিয়েছে। আমরা খুব ভাল ভাবেই জানি যে নির্বাচনের আগে যে যাই প্রতিশ্রুতি দিক না কেন, একমাত্র সাধারণ সভায় গৃহীত হলেই তা বাস্তবায়ন করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া যাবে। তারপরেও মনে করি প্রতিটি প্রার্থীর উচিৎ নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা। কারণ এর মধ্য দিয়ে আমরা কোন প্রার্থীর প্রায়োরিটি কি সেটা জানতে পারব। কেউ যদি কোন প্রতিশ্রুতি না দেয় তাহলে তার কোন দায় থাকে না সেটা পূরণ করার। সাবের সভাপতি বা কার্যকরী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা কোন চাকরিতে জয়েন করছে না যে তারা রুটিন মাফিক কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করেই দায়িত্ব সম্পন্ন করবে। আমরা চাই ডায়নামিক লিডারশীপ, যে সাবের সামনে বর্তমান যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে সেটা মোকাবিলা করতে পারবে। আর এটা করার জন্য দরকার প্ল্যান। আসলে নির্বাচনী ইশতেহার যতটা না প্রতিশ্রুতি তার চেয়ে বেশি পরিকল্পনা। তাই খুব ভাল হয় সবাই যদি সংক্ষেপে সাবের আশু কাজ হিসেবে তারা কি কি দেখছে বা করতে চাইছে সেটা ঘোষণা দেয়।
যে কথাটি আমাদের বিশেষ ভাবে মনে রাখতে হবে তা হল, আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের অতীতে নয়। অতীত আমাদের একটি ঠিকানা দিয়েছে, কিন্তু সেটাকে শক্ত ভিতের উপর দাড় করানোর উপর নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যৎ। কি সেটা? নতুনদের সাব সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলা, তাদের বরণ করে নেয়া। সেটা তখনই সম্ভব যখন তারা বুঝবে সাব তাদের কর্ম জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেক্ষেত্রে সাবকে হতে হবে সোভিয়েত ও রুশ গ্র্যাজুয়েটদের ট্রেড ইউনিয়নের মত, যে তার সদস্যদের পেশাগত জীবনে সমস্যায় পাশে দাঁড়াতে পারবে, আইনি সমর্থন দিতে পারবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত গ্র্যাজুয়েট যখন রাজনৈতিক কারণে হেরাজমেন্টের শিকার হয় সাব সেসবের প্রতিবাদ করতে পারেনি, তাদের পাশে দাঁড়াতে পারেনি। আমি বলছি না যে সবাইকে বিনা কারণে জেলে রাখা হয়েছিল। সেটা আদালত ঠিক করবে। কিন্তু এদের বেশিরভাগ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত যেক্ষেত্রে এদের অনেকেই জামিন পেতে পারত। প্রায় সব আমলেই সাবের কেউ না কেউ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু না তারা, না কার্যকরী কমিটি কেউই এসব ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আমরা যদি সাবের প্রতিষ্ঠিত সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে না পারি, কীভাবে নতুনদের পাশে দাঁড়াবো? দাঁড়াবো যে সেটাই বা তারা বিশ্বাস করবে কিসের ভিত্তিতে?
গত নির্বাচনের সময় এসব বিষয় নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আবার বলছি। দেশের বাইরে সাবের যেসব সদস্য আছে তারা কীভাবে ভোট দান করতে পারে সেটা ভেবে দেখার সময় এসেছে। বছরে একবার হলেও এদের নিয়ে অনলাইন মতবিনিময় সভা করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখা যায়। যেসব দেশে সোভিয়েত ও রুশ গ্র্যাজুয়েটরা সংগঠিত তাদের থেকে সাবে কোন বিদেশী প্রতিনিধি রাখা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আমেরিকা, কানাডা, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার নাম করা যেতে পারে। একই ভাবে দেশের যে সমস্ত জায়গায় যথেষ্ট পরিমাণ গ্র্যাজুয়েট আছে যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রুপপুর ইত্যাদি – সেখানে সাবের স্থানীয় কমিটি গঠন করার কথা ভাবা দরকার। কারণ সাব যদি সমাজকল্যাণ মূলক কিছু করতে চায়, যেমন স্বাস্থ্য বা চক্ষু শিবির, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ শিবির, শিক্ষা বিষয়ক কোন আলোচনা সভা ইত্যাদি আয়োজন করতে চায় তাহলে এসব আঞ্চলিক কমিটিগুলো সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সম্ভব যদি আমরা এমন একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করি যেখানে বিভিন্ন জেনারেশনের গ্র্যাজুয়েটদের প্রতিনিধিত্ব থাকে। যেহেতু আমাদের নতুন সদস্যের একমাত্র উৎস বিভিন্ন রুশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাই রাশিয়ান হাউজ, রুশ দূতাবাস – এদের সাথেও কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে রাশিয়ান হাউজ যখন নতুন ছাত্রদের রাশিয়া ভ্রমণের আগে ব্রিফিং-এর আয়োজন করে, সাব নিজদের উদ্যোগে সেখানে উপস্থিত হয়ে সাব সম্পর্কে তাদের জানাতে পারে, রাশিয়ান এলুম্নি এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা রাবের সাথে যোগাযোগ করতে বলতে পারে। একই ভাবে রাবকে অনুরোধ করতে পারে তারাও যেন রাশিয়ার গ্র্যাজুয়েটদের সাব সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। সাব ও রাবের যৌথ উদ্যোগে এমনকি মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে এসব সংগঠন সম্পর্কে তথ্য রাখা যায় কিনা সেটা নিয়েও ভাবতে পারে।
ইতিমধ্যে গ্রুপে সাবের জন্য কিছু শর্ত সাপেক্ষে জমি দানের প্রস্তাব এসেছে। সেটা নিয়েও সদস্যরা বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছে। অনেকের লেখা থেকে জানলাম যে এর আগেও একাধিকবার সাবের জন্য জমি দানের প্রস্তাব এসেছিল। তাই এবারকার প্রস্তাব নতুন কিছু নয়। যদি বর্তমানে কেউ জমি সংক্রান্ত কোন প্রস্তাব দিতে চায় তাহলে সেটা নিজের পাশাপাশি সাবের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমেও গ্রুপে দেয়াটা সমীচীন হবে। তাহলে সেটার গুরুত্ব বাড়বে আর সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক আসন্ন এজিএম-এ বিষয়টি আলোচনার জন্য তুলে ধরতে পারবে। আগে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কিছু তাৎক্ষণিক ভাবে করা সম্ভব হয়নি। এখন মনে হয় কার্যকরী কমিটি এসব প্রস্তাব অনলাইনে সবার বিবেচনার জন্য দিতে পারে এবং অফিস বা রিসোর্ট বিষয়ে একটি উপকমিটি গঠন করতে পারে। এই উপকমিটি গ্রুপের আলোচনার ভিত্তিতে এক বা একাধিক প্রস্তাব পেশ করবে কার্যকরী কমিটি বা সাধারণ সভার অনুমোদনের জন্য। আরও একটা বিষয়। আমাদের প্রথম দরকার অফিস। সেটা ঢাকা শহরে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যদি রিসোর্ট হয় সেটা শুধু পিকনিক বা ঐ ধরণের কোন পারপাস সার্ভ করবে কিন্তু সেটা অফিস হবে না। তবে আমরা যা-ই করি না কেন, সেটা করতে হবে কার্যকরী কমিটির মাধ্যমে। সমস্ত ধরণের আর্থিক লেনদেন কমিটির মাধ্যমেই হতে হবে। অন্তত অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের সেই দিকেই ঠেলে দেয়।
আমাদের সংগঠনের কতগুলো মূল কাজের মধ্যে রয়েছে গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, রাশিয়া ও বাংলাদেশের মৈত্রী দৃঢ় করতে সর্বাত্মক ভাবে চেষ্টা করা। অফিস, পিকনিক, পিঠা উৎসব এসবের মধ্যে দিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় করতে পারি, অন্যদিকে রাশিয়ান হাউজে আয়োজিত বিজয় দিবস, নারী দিস ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে ভিপুস্কনিকদের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক অটুট থাকতে পারে। কিন্তু আমরা যদি জনগণের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার পজিটিভ ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে চাই তাহলে কিছু কিছু সামাজিক কাজের বিকল্প নেই। আমাদের বন্ধুরা অনেকেই ব্যক্তিগত ভাবে সেটা করছে। সাব পারে এসব জনসেবা মূলক প্রকল্প নিজেদের উদ্যগে আয়োজন করতে। এক্ষেত্রে সাবের বিভিন্ন শাখা গড়ে তোলা অপরিহার্য। আসুন আমরা সেই সাব গড়ে তুলে যার সদস্য হয়ে সবাই নিজদের ধন্য মনে করবে, গর্বিত অনুভব করবে।
নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখায় আবারও সিনিয়র জুনিয়র প্রশ্নটা সামনে চলে এসেছে। আমার মনে হয় যারা নির্বাচন করতে মনস্থির করেছে তারা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে কম-বেশি প্রতিষ্ঠিত, তাই দায়িত্ব কি ও কীভাবে সেটা পালন করতে হয় তা তারা সবাই কমবেশি জানে। এখানে বয়স তেমন ফ্যাক্টর নয়, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তারা সবাই যখন পঞ্চাশের আশে পাশে।
সাবে সব সময়ই চেষ্টা করা হয় নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়ার। এবারও হয়তো ব্যতিক্রম ঘটবে না। তবে আজকের বিভিন্ন সমস্যার মূলে রয়েছে আগে নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়া। কারণ সেটা করতে গিয়ে বিভিন্ন লোকদের বিভিন্ন আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। জনগণের পক্ষে থেকে সেই আশ্বাস দেয়াটা কতটা সঠিক? আমি মনে করি কেউ যদি নির্বাচন করতে চায়, সেটা করতে দেয়া উচিৎ। এমনকি যদি একজন মাত্র প্রার্থী থাকে সাধারণ সভায় প্রকাশ্য বা গোপন ভোটের মাধ্যমে তার বিজয় নির্ধারণ করা উচিৎ। এক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই ৫০% এর বেশি ভোট পেতে হবে। এই নিয়ম করলে কেউ আগে থেকে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে কাউকে বসিয়ে দেবার চেষ্টা করবে না। প্রতিটি নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই হোক আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই হোক নিজের পেছনে জনসমর্থন দেখিয়েই দায়িত্ব নেবে। আর গতবারের ভুল এড়াতে প্রতিটি পদের জন্য আলাদা আলাদা ভোট গণনা করতে হবে, মানে কোন পদে কেউ যদি ভোট না দেয় তাতে করে পুরা ব্যালট পেপার বাতিল বলে ঘোষিত হবে না, একই ভাবে কোন পোস্টে একাধিক ভোট দিলে শুধু ওই পোস্টের ভোট বাতিল হবে।
সময়ের সাথে সংগঠনের কাজের প্রায়োরিটি বদলায়। ধারণা করি যে প্রথম দিকে সাবের প্রধান কাজ ছিল সেই সময় সোভিয়েত ফেরত বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল সেটা মোকাবেলা করা। যেমন ডিগ্রির স্বীকৃতি আদায়, চাকরিসহ অন্যান্য সমস্যা ট্যাকল করা। আর এসব কাজ করার জন্য দরকার ছিল সমস্ত গ্র্যাজুয়েটদের একটি পতাকার নীচে সমবেত করা। অস্বীকার করার উপায় নেই যে সোভিয়েত ইউনিয়নে আমাদের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপ ছিল। দেশে ফেরার পর রাতারাতি সবাই সোভিয়েত ফেরত বিশেষজ্ঞ হিসেবে একই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হলেও সোভিয়েত ভূমিতে নিজেদের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয় সেটা সহজে দূর হবার নয়। অন্তত বিগত নির্বাচনের সময় এ ধরণের বহু কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে, এমনকি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ৩৬ বছর পরেও সেই ভূত আমাদের ঘাড় থেকে নামেনি, সুযোগ পেলেই আমরা তাকে জাগিয়ে তুলতে পিছ পা হব না। তবে বিভিন্ন প্রশ্নে মতভেদ থাকার পরেও এই সংগঠন যে আমাদের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য সেটা নিয়ে কারও দ্বিমত মনে হয় নেই। সেসব কথা মাথায় রেখেই আমাদের আশু কর্তব্যগুলো ঠিক করতে হবে। এজন্যে দরকার সেই নেতৃত্ব, সংগঠন নিয়ে যাদের প্যাসন বা আবেগ আছে, নিজেরা জীবনে সাফল্যের শেখরে উঠলেও যারা সোভিয়েত ও রুশ ফেরত বিশেষজ্ঞদের জীবনে সাবের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত বিধায় সাবের সার্বিক উন্নয়নে নিজের সময় ও শ্রম দিতে প্রস্তুত।
কোন সংগঠনের সভাপতির যোগ্যতা ও সাফল্য নির্ণয় করতে হলে সংগঠনের জন্য তিনি কি করেছেন সেটাই দেখা প্রয়োজন। আগের সভাপতিবৃন্দ নিঃসন্দেহে শিক্ষা, দীক্ষা, পদ পদবীতে এগিয়ে ছিলেন, আছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত যে সাবের নিজস্ব কোন অফিস নেই, ব্যক্তিগত ভাবে অনেকেই দেশ ও দশের সেবা করলেও সংগঠন হিসেবে দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সাব যে তেমন কোন ছাপ রাখতে পারেনি এটা আমাদের ও তাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা। উল্লেখ করা যেতে পারে যে বাংলাদেশের শাসকদের মধ্যে শিক্ষা, দীক্ষা, আন্তর্জাতিক পরিচিতি, গ্রহণযোগ্যতা সব বিষয়ে প্রফেসর ইউনুস ছিলেন চ্যাম্পিয়ন। তিনি কি দেশের সেরা শাসক? যদি না হন, তার প্রধান কারণ দেশের প্রতি তার কমিটমেন্টের অভাব। তাই আসুন ডিগ্রি না দেখে আমরা প্রার্থীর ইন্টিগ্রিটি দেখি, সাবের প্রতি প্রার্থীর কমিটমেন্ট বিবেচনায় আনি। সাব বিশ্ব জয়ের জন্য কমিটি নির্বাচন করছে না, সে চাইছে সেই লোক যে তাকে আরেকটু গতিশীল ও জনমুখী করবে, সাবের আশু সমস্যাগুলো সমাধানে সচেষ্ট হবে। এর জন্য দরকার স্বচ্ছতা। কারণ অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয় অস্বচ্ছতা থেকে। গত বারের নির্বাচনের সময় এমন অনেক তথ্য সামনে চলে এসেছিল যা হত না, যদি সেই কার্যকরী কমিটি সাবের রেজিস্ট্রেশন সহ অন্যান্য বিষয়ে সময় মত সদস্যদের অবহিত করত। মাত্র কয়েক দিন আগে জানলাম যে রাশিয়ান হাউজ কোন কারণে সাবকে সাংগঠনিক কাজে তাদের প্রেমিসি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। সাবের একাধিক গ্রুপ আছে, যেখানে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি হয়। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কেন আমাদের অবগত করা হল না সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।
গত নির্বাচনের সময় থেকেই অধিকাংশ সদস্য সাবের একটি নিজস্ব অফিস থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। অবশ্যই সাবের মত একটি সংগঠনের নিজস্ব অফিস থাকা প্রয়োজন। তবে তার আগে আমাদের অফিস নেবার প্লাস মাইনাস সব ভেবে দেখতে হবে। একসময় আমরা রাশিয়ান হাউজে বসতাম। যেহেতু এটা রাশিয়ান হাউজে ছিল, তাই আলাদা করে খোলার দরকার ছিল না। নিজস্ব অফিস নিলে তা খোলা রাখা ও দেখাশুনা করার জন্য লোক দরকার। এর বাইরেও নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে। সোভিয়েত আলুমনাই এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ শুধু নামের কারণেই অনেকের চক্ষুশূল। দেশে যেভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মবের দ্বারা আক্রান্ত হয় তাতে আমাদের অফিস যে নিরাপদ থাকবে সেটাই বা কে বলল? এছাড়া আমাদের সদস্যরা বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত, তাদের অনেকেই সরকার ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর কুনজরে থাকে। তারা কি অফিসে এসে নিজেদের নিরাপদ অনুভব করবে? তাই অফিস নেবার আগে এসব বিষয় খুব ভালো করে ভেবে দেখতে হবে। রাশিয়ান হাউজে অন্তত এই সমস্যা নেই। তাই সাময়িক ভাবে ওখানে আবার আমাদের বসার ব্যবস্থা করা যায় কি না সেটা নিয়েও রুশ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে হবে। কারণ, অনেকের লেখা পড়ে বুঝতে পারলাম যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন মতেই অনুকূল নয়। এক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়াই সমীচীন বলে মনে করি। তবে আমাদের লক্ষ্য হবে নিজস্ব অফিস। এখানেও সমস্যা হতে পারে। সাব একটি অলাভজনক, নির্দলীয় সংগঠন। আমি মনে করি এটা অরাজনৈতিক সংগঠন নয়, কেননা সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আমাদের অঙ্গীকার – এটাও রাজনীতি। যতদূর জানি সাবের কোন নিয়মিত আয় নেই। তাই নিজস্ব অর্থে অফিস কেনা বা ভাড়া করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোত্থেকে আসবে সেটাও ভাবতে হবে। অনেকেই এগিয়ে আসতে পারেন বা এগিয়ে আসবেন। কিন্তু যখন সাবের নামে কোন কিছু কেনা হবে সাবের প্রতিটি সদস্য হবে এর আইনসংগত মালিক। সেক্ষেত্রে যারা অর্থ দিয়ে অফিস প্রকল্পে অংশগ্রহণ করছে আর যারা শুধু নৈতিক সমর্থন দিচ্ছে তাদের মধ্যে যে আইনি সমস্যা দেখা দেবে না সেটাই বা কে বলতে পারে? যতক্ষণ পর্যন্ত আর্থিক স্বার্থ জড়িত না থাকে ততক্ষণ সবই ঠিক, কিন্তু একবার অর্থ নাক গলাতে শুরু করলে সেখানে হাজারটা অনর্থ জন্ম নেয়। এর মানে হচ্ছে এ ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে হতে ধীরে সুস্থ্যে, বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে এবং সব বিষয় প্রচলিত আইন অনুযায়ী নথিবদ্ধ করে। আর এই সিদ্ধান্ত নেবে কার্যকরী কমিটি সাধারণ সভার অনুমোদন সাপেক্ষে।
এখানে অনেকেই তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করছে। কেউ কেউ এতে আপত্তি জানিয়েছে। আমরা খুব ভাল ভাবেই জানি যে নির্বাচনের আগে যে যাই প্রতিশ্রুতি দিক না কেন, একমাত্র সাধারণ সভায় গৃহীত হলেই তা বাস্তবায়ন করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া যাবে। তারপরেও মনে করি প্রতিটি প্রার্থীর উচিৎ নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা। কারণ এর মধ্য দিয়ে আমরা কোন প্রার্থীর প্রায়োরিটি কি সেটা জানতে পারব। কেউ যদি কোন প্রতিশ্রুতি না দেয় তাহলে তার কোন দায় থাকে না সেটা পূরণ করার। সাবের সভাপতি বা কার্যকরী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা কোন চাকরিতে জয়েন করছে না যে তারা রুটিন মাফিক কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করেই দায়িত্ব সম্পন্ন করবে। আমরা চাই ডায়নামিক লিডারশীপ, যে সাবের সামনে বর্তমান যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে সেটা মোকাবিলা করতে পারবে। আর এটা করার জন্য দরকার প্ল্যান। আসলে নির্বাচনী ইশতেহার যতটা না প্রতিশ্রুতি তার চেয়ে বেশি পরিকল্পনা। তাই খুব ভাল হয় সবাই যদি সংক্ষেপে সাবের আশু কাজ হিসেবে তারা কি কি দেখছে বা করতে চাইছে সেটা ঘোষণা দেয়।
যে কথাটি আমাদের বিশেষ ভাবে মনে রাখতে হবে তা হল, আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের অতীতে নয়। অতীত আমাদের একটি ঠিকানা দিয়েছে, কিন্তু সেটাকে শক্ত ভিতের উপর দাড় করানোর উপর নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যৎ। কি সেটা? নতুনদের সাব সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলা, তাদের বরণ করে নেয়া। সেটা তখনই সম্ভব যখন তারা বুঝবে সাব তাদের কর্ম জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেক্ষেত্রে সাবকে হতে হবে সোভিয়েত ও রুশ গ্র্যাজুয়েটদের ট্রেড ইউনিয়নের মত, যে তার সদস্যদের পেশাগত জীবনে সমস্যায় পাশে দাঁড়াতে পারবে, আইনি সমর্থন দিতে পারবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বিভিন্ন সময়ে আমাদের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত গ্র্যাজুয়েট যখন রাজনৈতিক কারণে হেরাজমেন্টের শিকার হয় সাব সেসবের প্রতিবাদ করতে পারেনি, তাদের পাশে দাঁড়াতে পারেনি। আমি বলছি না যে সবাইকে বিনা কারণে জেলে রাখা হয়েছিল। সেটা আদালত ঠিক করবে। কিন্তু এদের বেশিরভাগ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত যেক্ষেত্রে এদের অনেকেই জামিন পেতে পারত। প্রায় সব আমলেই সাবের কেউ না কেউ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু না তারা, না কার্যকরী কমিটি কেউই এসব ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আমরা যদি সাবের প্রতিষ্ঠিত সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে না পারি, কীভাবে নতুনদের পাশে দাঁড়াবো? দাঁড়াবো যে সেটাই বা তারা বিশ্বাস করবে কিসের ভিত্তিতে?
গত নির্বাচনের সময় এসব বিষয় নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আবার বলছি। দেশের বাইরে সাবের যেসব সদস্য আছে তারা কীভাবে ভোট দান করতে পারে সেটা ভেবে দেখার সময় এসেছে। বছরে একবার হলেও এদের নিয়ে অনলাইন মতবিনিময় সভা করা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখা যায়। যেসব দেশে সোভিয়েত ও রুশ গ্র্যাজুয়েটরা সংগঠিত তাদের থেকে সাবে কোন বিদেশী প্রতিনিধি রাখা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আমেরিকা, কানাডা, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার নাম করা যেতে পারে। একই ভাবে দেশের যে সমস্ত জায়গায় যথেষ্ট পরিমাণ গ্র্যাজুয়েট আছে যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রুপপুর ইত্যাদি – সেখানে সাবের স্থানীয় কমিটি গঠন করার কথা ভাবা দরকার। কারণ সাব যদি সমাজকল্যাণ মূলক কিছু করতে চায়, যেমন স্বাস্থ্য বা চক্ষু শিবির, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ শিবির, শিক্ষা বিষয়ক কোন আলোচনা সভা ইত্যাদি আয়োজন করতে চায় তাহলে এসব আঞ্চলিক কমিটিগুলো সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সম্ভব যদি আমরা এমন একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করি যেখানে বিভিন্ন জেনারেশনের গ্র্যাজুয়েটদের প্রতিনিধিত্ব থাকে। যেহেতু আমাদের নতুন সদস্যের একমাত্র উৎস বিভিন্ন রুশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাই রাশিয়ান হাউজ, রুশ দূতাবাস – এদের সাথেও কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে রাশিয়ান হাউজ যখন নতুন ছাত্রদের রাশিয়া ভ্রমণের আগে ব্রিফিং-এর আয়োজন করে, সাব নিজদের উদ্যোগে সেখানে উপস্থিত হয়ে সাব সম্পর্কে তাদের জানাতে পারে, রাশিয়ান এলুম্নি এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা রাবের সাথে যোগাযোগ করতে বলতে পারে। একই ভাবে রাবকে অনুরোধ করতে পারে তারাও যেন রাশিয়ার গ্র্যাজুয়েটদের সাব সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। সাব ও রাবের যৌথ উদ্যোগে এমনকি মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে এসব সংগঠন সম্পর্কে তথ্য রাখা যায় কিনা সেটা নিয়েও ভাবতে পারে।
ইতিমধ্যে গ্রুপে সাবের জন্য কিছু শর্ত সাপেক্ষে জমি দানের প্রস্তাব এসেছে। সেটা নিয়েও সদস্যরা বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছে। অনেকের লেখা থেকে জানলাম যে এর আগেও একাধিকবার সাবের জন্য জমি দানের প্রস্তাব এসেছিল। তাই এবারকার প্রস্তাব নতুন কিছু নয়। যদি বর্তমানে কেউ জমি সংক্রান্ত কোন প্রস্তাব দিতে চায় তাহলে সেটা নিজের পাশাপাশি সাবের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমেও গ্রুপে দেয়াটা সমীচীন হবে। তাহলে সেটার গুরুত্ব বাড়বে আর সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক আসন্ন এজিএম-এ বিষয়টি আলোচনার জন্য তুলে ধরতে পারবে। আগে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কিছু তাৎক্ষণিক ভাবে করা সম্ভব হয়নি। এখন মনে হয় কার্যকরী কমিটি এসব প্রস্তাব অনলাইনে সবার বিবেচনার জন্য দিতে পারে এবং অফিস বা রিসোর্ট বিষয়ে একটি উপকমিটি গঠন করতে পারে। এই উপকমিটি গ্রুপের আলোচনার ভিত্তিতে এক বা একাধিক প্রস্তাব পেশ করবে কার্যকরী কমিটি বা সাধারণ সভার অনুমোদনের জন্য। আরও একটা বিষয়। আমাদের প্রথম দরকার অফিস। সেটা ঢাকা শহরে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যদি রিসোর্ট হয় সেটা শুধু পিকনিক বা ঐ ধরণের কোন পারপাস সার্ভ করবে কিন্তু সেটা অফিস হবে না। তবে আমরা যা-ই করি না কেন, সেটা করতে হবে কার্যকরী কমিটির মাধ্যমে। সমস্ত ধরণের আর্থিক লেনদেন কমিটির মাধ্যমেই হতে হবে। অন্তত অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের সেই দিকেই ঠেলে দেয়।
আমাদের সংগঠনের কতগুলো মূল কাজের মধ্যে রয়েছে গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, রাশিয়া ও বাংলাদেশের মৈত্রী দৃঢ় করতে সর্বাত্মক ভাবে চেষ্টা করা। অফিস, পিকনিক, পিঠা উৎসব এসবের মধ্যে দিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় করতে পারি, অন্যদিকে রাশিয়ান হাউজে আয়োজিত বিজয় দিবস, নারী দিস ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে ভিপুস্কনিকদের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক অটুট থাকতে পারে। কিন্তু আমরা যদি জনগণের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার পজিটিভ ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে চাই তাহলে কিছু কিছু সামাজিক কাজের বিকল্প নেই। আমাদের বন্ধুরা অনেকেই ব্যক্তিগত ভাবে সেটা করছে। সাব পারে এসব জনসেবা মূলক প্রকল্প নিজেদের উদ্যগে আয়োজন করতে। এক্ষেত্রে সাবের বিভিন্ন শাখা গড়ে তোলা অপরিহার্য। আসুন আমরা সেই সাব গড়ে তুলে যার সদস্য হয়ে সবাই নিজদের ধন্য মনে করবে, গর্বিত অনুভব করবে।
বিগত বিভিন্ন সময়ের কার্যকরী কমিটির সদস্যদের তালিকা দেখলে মনে হয় নির্বাচন অনেকটা চেয়ার খেলা। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রবণতা এড়াতে ও বেশি সংখ্যক সদস্যদের কার্যকরী কমিটির কাজে সম্পৃক্ত করতে নির্বাচন বিধিতে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আর তা হল একই ব্যক্তি পর পর দুই বারের বেশি একই পদে নির্বাচিত হতে পারবে না আর বিভিন্ন পদে তিন বা চারবারের বেশি নির্বাচিত হতে পারবে না। কারণ বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে সাবের কার্যকরী কমিটি একসময় সিপিএসইউএর পলিটব্যুরো হয়ে যাবে।
দুবনা, ৩০ জুন ২০২৬
দুবনা, ৩০ জুন ২০২৬

Comments
Post a Comment