রোদের চাদর
এবছর প্রথম বারের মত ভোলগায় সাঁতার কাটতে গেলাম। এর আগে বেশ কয়েক জন সাঁতার সঙ্গিনীর সাথে দেখা হয়েছে। সবার এক প্রশ্ন সাঁতারের সিজন শুরু করেছি কি না? আমার অবশ্য এ রকম অনেকগুলো সার্কেল আছে। কাজের বাইরেও ফটোগ্রাফি, সুইমিং পুল প্লাস সাওনা, ভোলগা সাঁতার ইত্যাদি। আর শীত হোক গ্রীষ্ম হোক, যখন যে সার্কেলের মানুষের সাথে দেখা হয় তখন মূলত সেই বিষয়ে কথা হয়। আর তাই ভোলগা গ্রুপের কারো সাথে যখনই দেখা হয়, এমনকি সেটা যদি ঘোর শীতেও হয়, একটাই প্রশ্ন - সাঁতার কাটছ?
যাহোক, আজ ছুটির দিন, তাই গেলাম ভোলগায়। যদি ওরা ইতিমধ্যে জল গরম করে থাকে তাহলে সাঁতার কাটব না হলে ভোলগার সাথে কুশল বিনিময় করে চলে আসব। তাপমাত্রা বেশ ভালোই। ২২ দেখাচ্ছে। সূর্যের মেজাজ এখনও তেমন খারাপ না। গিয়ে দেখি নদীতে তেমন কেউ নেই। একজন রোদে শুয়ে আছে, আরেকজন দাঁড়িয়ে আছে রোদের চাদর গায়ে দিয়ে। নাতাশা শুয়ে আছে ওর দুই কুকুরের সাথে। আরেকজন নদীর তীরে বসা। ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না ওরা নদীর জলে স্নান করছে না সূর্যের আলোয়।
নাতাশাই শুরু করল
- তুমি আজ প্রথম এলে?
- হ্যাঁ।
- আমি মে মাসেই শুরু করেছি।
- তাই?
- দেখছ না তোমার চেয়েও কালো হয়ে গেছি। তোমাকে তো ধবধবে সাদা মনে হচ্ছে।
- তাই? বল কি? রক্তশূন্যতায় ভুগছি মনে হয়।
নাতাশা সারাদিন রোদে পড়ে থাকে চামড়া কালো করতে। আমার রং ওর আদর্শ। অন্ততঃ তাই বলে।
- সাঁতার কাটবে না?
- এখনও ঠিক জানি না।
- যাও যাও। সাঁতার কাট।
- লোকজন খুব কম। অন্যেরা আসে না?
- এখনও শুরু করে নাই।
হাত দিয়ে জলের তাপমাত্রা বোঝার চেষ্টা করলাম। টি শার্ট খুলে রোদে দাঁড়িয়ে শরীরটা একটু গরম করলাম। এবার নামা যায়। হাঁটু জলে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে বুঝলাম সাঁতার কেটে আনন্দের চেয়ে বেদনাই বেশি হবে। কাঁধের ব্যথাটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই উপরে উঠে আজকের মত রোদের আলোয় স্নান করলাম বেশ কিছুক্ষণ। চাঁদের আলোর মত স্নিগ্ধ না হলেও রোদটা বেশ আদুরে আর আরামদায়ক ছিল। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যেই সৌর চুল্লির তাপে ভোলগার জল না ফুটলেও খানিকটা গরম হবে।
বাসায় ফেরার পথে মনিকা ফোন করল। বলল, প্লেন এয়ারে যাচ্ছে ছবি আঁকতে। সাঁতার না কাটলেও মনিকা ছবি আঁকতে যাচ্ছে জেনে মনটা ভরে গেল আনন্দে।
দুবনা, ০৬ জুন ২০২৬
Comments
Post a Comment