অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী

গত সোমবার মস্কোয় মেডিক্যাল চেক আপ করালাম। কাজ থেকে এটা প্রতি বছর করাতে হয়। যেহেতু আমি দুবনা আর মস্কো দুই জায়গায় কাজ করি তাই দুটো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্লিনিকে এসব করাই। চেষ্টা করলে হয়তো একটাতেই হয় তবে এর জন্য কাগজ পত্র জোগাড় করার চেয়ে নতুন করে চেক আপ করালে সময় বেঁচে যায়। নিউরোলজিস্ট, ডেন্টিস্ট, ইএনটি স্পেশালিস্ট ইত্যাদির সাথে ইসিজি, কম্পিউটার টমোগ্রাফির রেজাল্ট সাথে সাথে পাওয়া যায় তবে ব্লাড, ইউরিন, স্টুলের রেজাল্ট আসে পরে। ওরা এজন্যে কাউকে আটকিয়ে রাখে না। পরে সেই রেজাল্ট দেখে রিপোর্ট পাঠায় ইনস্টিটিউটে। আগে এসব টেস্টের রেজাল্ট আমাদের হাতে দিত না, সেটা থাকত আমাদের অসুখের ইতিহাসে (নিজের আত্মজীবনী না থাকলে কি হবে, আমার অসুখদের আত্মজীবনী ঠিকই আছে ক্লিনিকে)। এখন সব ডিজিটাল। তাই চাইলে রিপোর্ট হাতে দিয়ে দেয়। এটা ডাক্তার নিজেই করেন। গতকাল দুটো এসএমএস পেলাম। ল্যাবরেটরি থেকে রেজাল্ট পাঠিয়েছে। খুলে দেখি কয়েকটি জায়গায় নরমালের চেয়ে একটু বেশি আর তা লাল কালিতে মার্ক করা। এটা রক্তের তারল্য, সুগার এসবের সাথে জড়িত। আমি সাধারণত এসব দেখি না, কারণ এটা ডাক্তারদের সমস্যা। ওরাই দেখে বলে। কিন্তু কি মনে করে নেট ঘেটে দেখি বিষয়গুলো ভালো নয়। তাই আজ গেলাম কারডিওলজিস্টের কাছে। উনি আমার ডাক্তার নন, তবে বছরে এক বা দুইবার ওনার আণ্ডারে থাকি। আমাকে চেনেন। আসলে এখানে আমার অবস্থা অনেকটা বিশাল সাদা ক্যানভাসে কালো বিন্দুর মত, না চাইলেও মনে পড়ে যায়।

কী হল আপনার?
না। এই রিপোর্ট হাতে পেলাম।
কোন অপারেশন?
না। কয়েকটি বিষয়ে খটকা লাগছে। কিছু মেডিসিন চেঞ্জ করেছি, মানে কিছু দিন এটা কিছু দিন ওটা খাচ্ছি। এর প্রভাব নাতো?
কত দিন হল।
প্রায় মাস খানেক।
নিজে থেকেই করেছেন।
না। আমার কারডিওলজিস্ট বলেছেন।
দেখুন এটা আপার লিমিট থেকে ০.৭ আর ০.৬ বেশি। এটা নিয়ে আপাতত ভাবার কিছু নেই।
আর সুগার?
আপনি তো এই ওষুধটা খাচ্ছেন। এর জন্যে এটা নর্মাল।
আমি কি তাহলে আগের স্কীমে ফিরে যাব?
না। আরও এক মাস এভাবেই খান। এরপর আমরা আবার টেস্ট করব। যদি তখন কোন কিছু পাই তাহলে ওষুধ বদলে দেব।
স্পাসিবা।

যখন ওনার কাছ থেকে ফিরে আসছি মনে পড়ল ছোটবেলায় পড়া সেই কথাটি
অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী।

দুবনা, ২৪ জানুয়ারি ২০২৫

ছবি - সাশা কুলদসিন
দুবনা, অব্রাজ, ২১ জানুয়ারি ২০২৫

Comments

Popular Posts