চুরি
আমাদের এখানে বসন্তের প্রথম ফুলের একটি প্রোলেস্কি বা সিলা ফুল। বনের ধারে এক বাড়ির পাশে ওরা ফোটে। ফোটে আসলে সমস্ত দুবনাতেই, তবে এখানেই মনে হয় সবার আগে ওদের দেখা যায়। অন্তত আমি দেখি। এক সময় মনে হয় কেউ যত্ন করে লাগিয়েছিল। এখন ওরা অযত্নে বাড়ছে। ছবি দেখে গুলিয়া বলল আমাদের বাগানে ওসব লাগাতে। নেট খুঁজে বের করল মস্কোয় কোথায় পাওয়া যায়। কিন্তু আমার অত সময় কোথায়? যেসব বন্ধুদের বাগান বাড়ি আছে ওদের লিখলাম। একজন জানাল ভোলগা তীরে কোথায় পাওয়া যায়। ওখানে এমনিতেই নেয়া যাবে। আসলে দুবনায় অনেক বাসা বা অফিসের সামনে ওরা অযত্নে গজায়। তাই বলে তো আর না বলে নেয়া যায় না। আবার বাড়িতে যখন ৫০-৬০ টা ফ্ল্যাট থাকে কে মালিক, কার কাছে চাইবো সেটাই বা কে জানে? তাই বিকেলে গুলিয়া আর আমি শহরের শেষ প্রান্তে যাব ঠিক করলাম। বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি। দেখে আমি বললাম বনের ধারে যেতে। ওখানে তুলব কয়েকটি গাছ। এটাকে আসলে বলে চুরি করা। দিন দুপুরে চুরি। বললাম ছবি তোলার ভান করে আমি গাছ খুঁড়ে নেব। ওখানে যাবার পর গুলিয়া বলল আমি যেন দূরে চলে যাই। কেননা কেউ দেখলে আমাকে সহজেই চিনতে পারবে। ও তুললে সাদা মানুষের ভিড়ে কেউ ধরতে পারবে না। কত মানুষ গায়ের রং কালো বলে মন খারাপ করে, আর এই কালো রঙই আমাকে বার বার সাহায্য করে। অবশ্য বৌকে জিজ্ঞেস করতে হবে কোনটা তাকে এটা করতে অনুপ্রাণিত করল - আমার ধরা পড়ার ভয় নাকি চোরের বৌয়ের চেয়ে চোর হওয়া সম্মানজনক এই বিশ্বাস?
পুনশ্চঃ পরের দিন সকালে আবহাওয়া ভালো ছিল। আমরা তাই ভোলগার তীর ধরে হাঁটতে হাঁটতে দুবনায় প্রায় শেষ প্রান্তে গিয়ে বেশ কিছু গাছ সংগ্রহ করেছিলাম।
দুবনা, ১৭ এপ্রিল ২০২৪
পুনশ্চঃ পরের দিন সকালে আবহাওয়া ভালো ছিল। আমরা তাই ভোলগার তীর ধরে হাঁটতে হাঁটতে দুবনায় প্রায় শেষ প্রান্তে গিয়ে বেশ কিছু গাছ সংগ্রহ করেছিলাম।
দুবনা, ১৭ এপ্রিল ২০২৪


Comments
Post a Comment