মানুষ

গত রোববার সেভা আর আমি হাঁটতে গেলাম লুঝনিকির দিকে। ও সাধারণত ঘুরতে যায় নিস্কুশ্নি সাদে। পার্ক তুলতুরি সংলগ্ন এই বনটি আমাদের ছাত্রজীবনে অবহেলিত ছিল, ছিল ননফর্মালদের আড্ডা। তখন দুএকবার ওদিকে গেলেও মূল পার্কে ঘুরতেই পছন্দ করতাম। 

আজ ছুটির দিন। ওদিকে প্রচুর ভিড়। চল আমরা বরং ভারাবিওভি গরি যাই। 

আমি সায় দিলাম। 
লুঝনিকি দিয়ে হাঁটছি। সামনে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে নগ্ন গাছেরা। যেন অতন্দ্র প্রহরী। 

আমি ন্যাংটো গাছ একেবারে পছন্দ করি না। কিন্তু যখন পাতা গজায় তখন ওদের দেখতে খুব সুন্দর লাগে। বিশেষ করে হেমন্ত কালে, যখন ওরা বিভিন্ন রঙে সাজে। 
আমি ঐ পাতাহীন গাছগুলোর ছবি তুলতে তুলতে জিজ্ঞেস করলাম 
তাই? 
না, মানে আগে আমার এসব গাছ ভালো লাগত না।
এখন?
এখন পছন্দ হয়। 
কেন?
ওদের গ্রাফিক্স দেখে।
আমারও। আসলে অন্য সময় পাতার আড়ালে ডালপালার রূপ হারিয়ে যায়। তাছাড়া কোন কিছুর সৌন্দর্য নির্ভর করে দেখার উপর। 

আমরা হাঁটছি। বনে সারি সারি গাছ। কিন্তু কোনটা যে কি গাছ ঠিক বুঝতে পারছি না। গাছের নীচে ঝরা পাতা দেখে বুঝছি এখানে ওক, ম্যাপল, অ্যাস্পেন এসব গাছ আছে কিন্তু কোনটা যে কি তা বুঝতে পারছি না। অনেকটা যেন শুধু মানুষ দেখছি। কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ আর কে খৃষ্টান বা ইহুদি সেটা বুঝতে পারছি না। আসলে যতক্ষণ না পৈতা, টুপি, ক্রেস্ট এসব মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি না করে ততক্ষণ সবাই মানুষ, আর এসব পরলেই সে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খৃষ্টান।

দুবনা, ১১ এপ্রিল ২০২৪

Comments

Popular Posts