ছোট থাকা

মস্কো থেকে দুবনা ফিরছি। আসলে কী মস্কো যাওয়া, কী দুবনা ফেরা - দুটোই আমার বাড়ি ফেরা। মস্কোয় মনিকা আর সেভা, গতকাল অবশ্য ক্রিস্টিনাও ছিল। দুবনায় কাজ, গুলিয়া, ভোলগা, বন। আর বাড়ি ফেরা মানেই আনন্দ। 

গতকাল মস্কো আসার পরেই সেভা বলল ঘুরতে যাবে। ভারাবিওভি গরি। মনিকা আর ক্রিস্টিনা গেল মিশার সাথে কলোমেনস্কায়া ভিডিও ক্লিপ করতে। ভারাবিওভি গরির যে দিকটায় মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি ছাত্রজীবনে আমরা সেখানটাতে ঘুরতাম। কাকুকে মনে পড়ছিল। গতকাল আমরা গেলাম পার্ক কুলতুরির দিকে। বনের ভেতরে কাঠ দিয়ে রাস্তা, আমাদের দেশের কাঠের পুলের মত। কোথাও কোথাও এখনও বরফ জমে আছে। প্রায় ঘন্টা দেড়েক হেঁটে বাসায় ফিরলাম। সাড়ে নয়টার দিকে মনিকারা ফিরল। রাত দুটোর ট্রেণে ক্রিস্টিনা পিটার যাবে। ও ব্যাগ গোছাতে শুরু করল। আমি আর মনিকা দোকানে গেলাম হাল্কা কিছু কিনতে যাতে সহজেই রান্না করা যায়। দশটার দিকে সেভা গেল হাঁটতে - পার্ক কুলতুরির দিকে। রান্না শেষের আগেই সেভা ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়ল। ও সকালে খাবে। মেট্রো রাত একটায় বন্ধ হয়ে যায়। তাই রাত বারোটা তেপান্নতে (ক্রিস্টিনা একা গেলে আরও দুই মিনিট বসে থাকত) ক্রিস্টিনাকে নিয়ে বেরুলাম। ওকে ট্রেণে তুলে দিয়ে বাসায় অপেক্ষায় রইলাম ওর ফোনের। পিটারের ট্রেণে উঠে ফোন বা মেসেজ করলে নিশ্চিন্তে ঘুমানো যাবে। 

সকালে উঠে দেখি সেভার ঘর ফাঁকা। বুঝলাম হাঁটতে বেড়িয়েছে। দশটার দিকে রওনা হলাম ভার্সিটির দিকে। আজ পরীক্ষা। দু একজন ছাত্রের উত্তর শুনে মনে হল এই সাবজেক্ট ওদের সুপার মার্কেটে হঠাৎ দেখা কোন মানুষের মত - এই প্রথম দেখা এই শেষ।

এর মধ্যে ক্রিস্টিনার মেসেজ পেলাম - ঠিক মত পৌঁছে গেছে। ডিয়ানার সাথে কথা হয়েছে। রবিবার কোন এক কনসার্ট দেখতে যাবে। পরীক্ষার পর ছিল ডিপার্টমেন্টের সাপ্তাহিক সেমিনার - আজ বেলের অসাম্যের উপরে। ভার্সিটির কাজ শেষে বাসার দিকে হাঁটছি, এক বন্ধুর ফোন এল
- দাদা, ভেদেনখায় চলে আসেন। অনেক দিন দেখা হয় না। 
খুব ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধুর সাথে দেখা হল। অনেক দিন পরে। সংগঠন সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হল। খুব ভালো লাগলো ওদের সাথে দেখা হওয়াতে। বিদায়ের সময় বললাম
আপনাদের চায়ের দাওয়াত রইল। রবিবার বা সোমবার বিকেলে মন চাইলে জানাবেন। কোথাও বসা যাবে। 
ইতিমধ্যে অবশ্য মনিকা আর সেভা ফোন করেছিল। আমাকে ফিরতে না দেখে টেনশন। আমাকে নিয়ে ওদের টেনশন করতে দেখলে বেশ লাগে। বাসায় ফিরতেই দেখি মনিকা নুডলস্ রান্না করে রেখেছে। আমার অবশ্য সময় ছিল না। সেভা চা করে বলল মাংসের পাইটা খেয়ে নিতে। মনিকা এগিয়ে দিল কেকস। আমাকে অনেকেই বলে আমি নাকি বাচ্চা রয়ে গেছি। অন্ততঃ ছোট ছোট প্রাপ্তি আমাকে সব সময়ই খুব আনন্দ দেয়। মনে পড়ে আমাদের সংগঠনের প্রথম দিককার কথা। সবাই যখন বড় বড় প্রোগ্রাম করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে চাইত আমি বলতাম ছোট কিন্তু সফল অনুষ্ঠান করার জন্য। আমি ছোট রয়ে গেছি বলে ছোট ছোট ঘটনায় আনন্দিত হয়ে উঠি নাকি ছোট ছোট ঘটনায় উল্লাসিত হই বলে ছোট রয়ে গেছি সেটা ঠিক জানা হয়নি। মনে হয় দুটো একে অপরের সম্পূরক।

দুবনার পথে, ০৮ এপ্রিল ২০২৪

Comments

Popular Posts