বাবা টেনশন

গত সোমবার ক্রিস্টিনার পরীক্ষা ছিল। পিটারে। বেলা ৩ টায়। রোববার মস্কোর বাইরে লুপিনের মাঠে মনিকা আর ক্রিস্টিনার ছবি তুলে যাওয়ার কথা ছিল আমার সাথে। এক নামকরা ফটগ্রাফারের সাথে ফটোসেশন থাকায় ও গেল না, আমি আর মনিকা ঘুরে বেড়ালাম বাসার আশেপাশে। ছবি তুললাম। ফটসেশনের পরে ক্রিস্টিনা গেল ভোকালের প্রাইভেট ক্লাসে। আমি বলেছিলাম না যেতে, কেননা পরীক্ষার আগে এত দৌড়ঝাঁপের অর্থ নেই। তবে কে শোনে কার কথা! ও যখন বাসায় ফিরল রাত প্রায় বারোটা। আমার মতই কোন কিছুই গোছানো নেই। বলল, আমি ব্যাগ গুছিয়ে স্নান করে খেয়ে তারপর টিকেট দেখব। এসব করতে করতে বেজে গেল প্রায় একটা।  
আমি অবশ্য এখন যেতে পারি, তবে তাহলে খাওয়া হবে না।
খেয়ে নে, পরে না হয় ট্যাক্সি ডেকে দেব।
তুমি শিওর? অনেক টাকা লাগবে কিন্তু। 
এটা আগে ভাবলে রাত বারোতায় বাসায় ফিরতি না।
রাত একটা মানে মেট্রো বন্ধ। যাহোক, শেষ পর্যন্ত রাত পৌনে তিনটার ট্রেনে টিকেট কিনল। কি আর করা ট্যাক্সি ডাকলাম - না ট্যাক্সি নয়, এত রাতে উল্টাপাল্টা দাম, কার শেয়ারিং করে গেল ৭০০ রুবলে। ওর হাতে এ টাকা দিলে স্টেশনে অবশ্য বেশ ভালই খেয়ে নিতে পারত। আসলে ও খেল গত রাতের কেনা কেক। গত রাত দুটোর দিকে ক্রিস্টিনার ফোন
পাপ, তোমরা ঘুমে? 
কেন? 
কেক খেতে ইচ্ছে করছে। 
দে বুকিং। 
ওটাই খেতে ভুলে গেছিল। তাই আজকের বাবা দিবসে সেটার শ্রাদ্ধ করছি আমরা। 
হাতে সময় নেই। গাড়ি দাঁড়িয়ে। টেলিফোন খুঁজে পাচ্ছে না। 
আমি ফোন করি। 
লাভ নেই। মিউট করা। 
যাহোক, শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল। ও চলে গেল স্টেশনে। মনিকা অপেক্ষা করল না। ক্রিস্টিনা যে এসব ঘটনা ঘটাবে তাতে ও অভ্যস্ত। আমি বসে রইলাম। 
মনে হয় ট্রেন ফেল করব। - ওর মেসেজ। 
দেখ। 
আমি স্টেশনে। দৌড়ুচ্ছি। 
লাস্ট টাইম চলন্ত ট্রেনে উঠেছিল বলে বকা খেয়েছে। আমি অবশ্য ওদের বলিনি যে গত সপ্তাহে আমি বাস মিছ করেছি। পরে ফোন করে দুবনার বাইরে বাস দাড় করিয়ে ট্যাক্সি নিয়ে সেখানে গেছি। সাড়ে তিন শ রুবলের বাস ভাড়া বাঁচাতে গিয়ে সাড়ে চারশ রুবল ট্যাক্সি ভাড়া দিয়েছি। 
আমি ট্রেনে। 
আমি শেষ পর্যন্ত ঘুমুতে গেলাম। 
পরের দিন বেলা এগারোটার দিকে মেসেজ 
আমি পিটারে।
আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। 
আমি যখন ক্লাস নিচ্ছি আবার ওর মেসেজ। 
পাপ, আমার মনে হয় জাচতকা (পরীক্ষার নম্বর বসানোর বই) মস্কোয় ফেলে এসেছি। 
বল ভেদমস্তিতে (অফিসিয়াল ডকুমেন্টে) নম্বর বসাতে। পরে জাচতকায় তুলে নিস। 
কোন কোন শিক্ষক এ অবস্থায় ছাত্রকে বাড়ি ফিরিয়ে দিতে পারে। তাই টেনশন একটু ছিল। 
এসব মনে হয় বাবা টেনশন। 
 
দুবনা, ২১ জুন ২০২৩ 




Comments

Popular Posts