সহকারী

গ্রীষ্ষের সাথে সাথে এদেশে পড়ে বাগান করার হিড়িক। বিশেষ করে যাদের বাগান বাড়ি আছে তারা শুক্রবার শহর ছেড়ে চলে যায় প্রকৃতির কাছে প্রকৃতির ডাকে আর রবিবার দল বেঁধে মস্কো বা নিজ নিজ বড় শহরে ফেরে। এর মাশুল আমাকে দিতে হয় দুই ঘন্টার জায়গায় তিন ঘণ্টা রাস্তায় বসে থেকে। এছাড়াও গুলিয়া এখন বাসার সামনের জায়গায় গাছ লাগায়। সে সময় হয় আমাকে কুকুরদের সাথে বসে থাকতে হয় নয়তো গাছ কিনতে যেতে হয়। এই তো আজ কয়েকটা গাছ কিনে আনলাম। গতকাল এক মহিলা দিয়ে গেল সাতটি গোলাপের চারা ছয়টার দামে। আমি যখন নীচে গেলাম মহিলা গুলিয়াকে জিজ্ঞেস করল আমি সহকারী কি না। সহকারী বলতে সে কি বোঝাল জানি না, তবে মনে হয় তাজিকিস্তানের কেউ মনে করেছে যারা তুলনামূলক কম পয়সায় এসব অড জব করে। মহিলা অবশ্য ভুল করেছে কেননা এসব কাজের জন্য আমি কানাকড়িও পাই না। তাই মনে হয় শেষ মূহুর্তে গুলিয়াকে একটা গোলাপ ফাও দিয়ে গেছে। তবে এতে অন্য সুবিধাও আছে। আমাদের উপরের তলায় যে ভদ্রলোক থাকে আর যাকে সারাদিন বিশেষ করে রাতের বেলায় আমাদের কুকুরদের সমবেত সঙ্গীত শুনতে হয় সে আমাকে দেখলেই অসহায় ভাবে তাকিয়ে থাকে। তার ধারণা আমিও কুকুরদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ, কিন্তু কাজের লোক বিধায় এসব মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। আমিও ভাব দেখাই যে কুকুরদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তাই এ নিয়ে আমাকে বলে কোন লাভ নেই।

দুবনা, ১১ জুন ২০২৩

Comments

Popular Posts