আনন্দ
আজও ভোলগায় গেলাম সাঁতার কাটতে। মনে হয় দেশের মত ভোলগায়ও লোড শেডিং। কিছুতেই জল ফুটছে না। ১৫-১৬ ডিগ্রির জল রিফ্রেশিং কিন্তু সাঁতার কাটার জন্য আরামদায়ক নয়। অনেকেই শুধু রৌদ্র স্নান করেই চলে যায়। আমি শরীরটাকে একটু জলে ডুবিয়ে নেই।
আজ পাশের সাইক্লিং ট্র্যাক থেকে তিনটে ছেলে এলো। কতই বা বয়স? ১০-১২। হাঁটুতে আঁচড়। পড়ে গেছে বোঝা যাচ্ছে। ওরা যখন নদীতে নামল আমার লোম খাঁড়া হয়ে উঠল। ঠান্ডার জন্য নয়, রক্তাক্ত হাঁটুতে জল লাগবে বলে। এই বয়সে কত যে এমন হয়েছে! একজন সোজা ডুব। দ্বিতীয়টা ঠান্ডা বলে তীরে উঠে এল। তৃতীয়টা জলে দাঁড়িয়ে ভাবছিল কোন দিকে যাবে। তবে কিছু করাই আগেই প্রথমটার জলের ছিটায় ও ভেজা কাক। এরপর ও প্রথমটার কাঁধ থেকে লাফাতে শুরু করল। একসময় প্রথমটা আর সাঁতার কাটবে না জানিয়ে তীরে এল। ওটা ছিল ট্র্যাপ। তীরে এসেই দ্বিতীয় বন্ধুকে জল ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিল। এরপর শুরু হল তিন জনের ঝাঁপাঝাঁপি। ঠিক যেমনটা আমরা ছোটবেলায় করতাম।
ওরা একদিন বড় হবে। হাজার সমস্যা আর চাহিদার কাছে এসব ছেলেমানুষি হার মানবে। সরল জীবন হবে গরলে পরিপূর্ণ। সুখ পালাবে। অথচ আমাদের পড়াশুনা, আমাদের সব কাজকর্ম এই সুখকে পাওয়ার জন্য যা আমরা প্রতিদিন হারাচ্ছি নিজেদের চাওয়া পাওয়ার হিসেব মেলাতে গিয়ে। রুশরা বলে শুধু বোকাদের কোন সমস্যা থাকে না। হয়তো বুদ্ধিমান হবার, অন্যদের চেয়ে বেশি সফল হবার এই অন্তহীন দৌড় আমাদের নিজেকে চিনতে দেয় না, সুখী হতে দেয় না?
দুবনা, ১৭ জুন ২০২৩

Comments
Post a Comment