বড় সমস্যা
প্রায় সারাদিন লেনিন লাইব্রেরীর প্রাচ্য গবেষণা বিভাগে কাটল ছবি ঝুলিয়ে। স্মিতা ছিল আর ছিল দানিল (দানিয়েল)। খুব করিৎকর্মা ছেলে। কোত্থেকে ১৯ টা ফ্রেম যোগার করে আনল। তবে সেগুলো ৩০x৪২ সাইজ। ফলে এতগুলো ছবি ক্রপ করতে হোল। আর যেকোন ক্রপিং কম্পোজিশন বদলে দেয়। তাই ওরা ভিন্ন রূপ পেল বলতে গেলে কোন ক্ষতি ছাড়াই। ১২ টায় শুরু করে ১৭ টায় শেষ। বাকি ১৭ টা ছবি ফ্রেম ছাড়া। দানিল নিজেই করবে।
মাঝে মনিকার মেসেজ এল। স্ট্রবেরির ভারেনিয়া (জ্যাম টাইপ) আর মুরগির ছবি সহ। মানে এগুলো কিনতে হবে। সেভা মেসেজ পাঠালো শুয়োরের মাংস আর আলু রান্না করছে সেই ছবি দিয়ে। মানে দুপুরের খাবার রেডি।
স্মিতার ওখান থেকে বেরিয়ে মনিকাকে ফোন করে জানলাম কোত্থেকে এসব কিনতে হবে। সেভাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম ও যাবে কি না?
দোকানে গিয়ে ছবি মিলিয়ে মুরগি নিলাম। জ্যাম খুঁজে না পেয়ে ফোন করলে মনিকা বলল যদি ডিসকাউন্ট থাকে অন্য জ্যাম নিতে। না পেয়ে শুধু মুরগি নিয়ে ক্যাশে যাচ্ছি তখন রুটির বায়না এল। এগুলো কিনে বাসার কাছে চলে এসেছি মনিকার ফোন - চীজ আর হ্যাম দরকার। তবে যেহেতু দোকান থেকে বেরিয়ে এসেছি আর যাবার যাবার দরকার নেই। আমারও সময় নেই। দুবনা ফিরতে হবে।
আমি যেটা বলছিলাম তুমি সেই মুরগি এনেছ?
হ্যাঁ।
ডিসকাউন্ট ছিল?
না।
কত করে কিনলে?
৪৩০ রুবেল কেজি।
ওদের সাইটে লেখা ছিল ২৭৯। আমি ৩৪০ করে নিতে পারতাম। বাসায় পৌঁছে দিত।
আমিও দেখলাম দামটা বেশি। নিজের জন্য হলে কিনতাম না। বাচ্চাদের না করতে পারি না। তাই কেনা। এখন কিনেও বিপদ।
শোন আমরা তো সব সময়ই ডিসকাউন্ট খুঁজি। মাঝেমধ্যে এসবও কিনতে হয়।
তোমারও কথা। তাই বলে বেশি দামে কিনবে?
আসলে মেয়েদের, তা সে বউ হোক আর মেয়ে হোক, মন রাখা এক দুরুহ ব্যাপার। এ ব্যাপারে গুলিয়ার সাথে মনিকার খুব মিল। কাপটা ওখানে কেন? এই হাতা এই ফ্রাই প্যানে ব্যবহার করলে কেন? গুলিয়ার কথা এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দেই। মনিকার সাথে পারি না। কিছু বললে পরে নিজেরই মন খারাপ করে। আসলে ছেলেমেয়েদের কাউকে বকতে পারি না।
রান্না করেছিস?
সেভা করেছে। খুব ঝাল আর নোনতা।
ঝালে অসুবিধা নেই। নুনে সমস্যা।
দেখি ভাত বা অন্য কিছু নেই। শুধু মাংস আর মাংস। মাঝেমধ্যে দুএক টুকরো আলু। যে ম্যারিনয়েড শশা নিলাম তাকেও হার মানিয়েছে। আর প্রচন্ড ঝাল। মনে হয় আমাকে খুশি করার জন্য ঝাল দিয়েছে বেশি করে। অথচ আমি এত ঝাল খাই না।
খেয়ে একটু টিভি দেখে উঠব। সেভার ঘর বন্ধ। ডাকলাম। কোন সাড়াশব্দ নেই। আসলে আমি ফেরার পর থেকেই ওর কোন সাড়া পাইনি। মনিকার হোম অফিস। কাজে ব্যস্ত। বেরুনোর সময় জিজ্ঞেস করলাম সেভা কোথায়। জানে না। ভাবলাম ঘুমে।
মনিকাকে বলে পথে নামলাম। মেট্রোতে এস্কেলেটর দিয়ে নামছি। দূরে দেখি পরিচিত মুখ।
সেভা। সেভ।
শুনতে পায়নি। দুই কানে ইয়ারফোন লাগানো। যাক। দেখলাম যে তাতেই আমি খুশি।
গতকাল ক্লাবে ভাসিলি জিজ্ঞেস করল
কী খবর?
সমস্যা। বিশাল সমস্যা।
কী হল আবার?
কিছুই না।
তাহলে?
তোমরাই তো বল "বড় বাচ্চা মানে বড় সমস্যা"। আমার চার চারটে বড় বাচ্চা। তার মানে এত্তগুলা বড় সমস্যা।
দুবনার পথে, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

Comments
Post a Comment