পরিচয়
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাইরে তাপমাত্রা মাইনাস ২৬। গুলিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম বেড়াতে যাবে কিনা। ও বলল ক্রিস্টিনা উঠলে ওর সাথে যাবে। আমি তাই ব্রেক ফাস্ট করে বেরিয়ে পড়লাম। আজ গন্তব্য ভোলগা। আসলে এমন আবহাওয়ায় ভোলগার বুক থেকে বুনো ঘোড়ারা বেরিয়ে আসে। আর সেই ঘোড়াদের নাক মুখ থেকে বেরোয় আগুনে ধোঁয়া। চারিদিক ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। তাই এ সময় ভোলগা আমায় খুব টানে।
হ্যাঁ, অনুমান মোটেই ভুল হয়নি। ভোলগা ফুঁসছে। ধোঁয়া বেরুচ্ছে ওর বুক থেকে। আর নদীর তীরে গাছগুলো রুপালি পোশাক পরে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি। তাপমাত্রা হুট করে কমে গেলে এমনটা হয়। জলীয় বাষ্প জমে আটকে যায় গাছের ডগায়। ওদের বলে ইনেই বা ফ্রস্ট। এর উপর যখন সূর্যের আলো পড়ে যখন প্রকৃতি যেন উল্লাসে ফেটে পড়ে।
প্রথমেই একটা ভিডিও করলাম বন্ধুদের জন্য। নীচে লিঙ্ক দেব। পরে শুরু করলাম ছবি তুলতে। ছবি তোলার সমস্যা হল কয়েকটা ছবি নেবার পর হাত জমে যায়। তাই হাত গরম করার জন্য আবার অপেক্ষা করতে হয়। এভাবেই ছবি তুলতে তুলতে যাচ্ছি - এক ভদ্রলোক বললেন
এই গাছটা খুব সুন্দর।
আমি তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে এগিয়ে গেলাম, তিনি পেছন থেকে বললেন
বার্চগুলো আজ খুব সুন্দর। ওদের ছবি তুলতে ভুলবেন না।
আসলে দুবনায় অনেকেই আমাকে চেনে। জানে ছবি তুলি। তাই ওদের চোখে কিছু ভালো লাগলে টিপস দেয়। তবে এই ভদ্রলোককে আগে দেখেছি বলে মনে হয় না।
ছবি তুলতে তুলতে যাচ্ছি, কিছুক্ষণ পরে পেছন থেকে উনি এসে হাজির। আসলে তাঁর সাথে আমার দেখা উল্টো পথে। বুঝলাম, তিনিও আমার মতই মনে হয় সুইমিং পুল পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসছেন।
আমাকে দিন, আমি আপনার ছবি তুলে দিচ্ছি।
ধন্যবাদ, আমি আসলে নিজের ছবি তুলতে পছন্দ করি না।
দিন, বাড়িতে পাঠাতে পারবেন।
আমার বাড়ি এখানেই। ওদের আর এসব তেমন আগ্রহ জাগায় না।
আপনি এখানে অনেক দিন?
১৯৮৩ থেকে।
তাই বলুন। আমি ভাবলাম বেড়াতে এসেছেন। আমি এখানে অলরেডি ৬ বছর।
আমি দুবনায় ১৯৯৪ থেকে।
আচ্ছা। আমি কাজ করতাম ইয়াকুতিয়ায়। ওখানে ৩৫ বছর কাজ করে এদিকে এসেছি।
ওহ।
আসলে ওখানে শীতে মাইনাস ৫০ - ৬০। তাই মাইনাস ২৫ - ৩০ আমাদের জন্য ভালো আবহাওয়া।
অনেকটা সামারের মত।
না, তা ঠিক নয়। তবে এরকম আবহাওয়া আমার প্রিয়।
আমার মাইনাস ১০। তখন তেমন ঠাণ্ডা না, আর ছবি তুলে আনন্দ পাই।
আমি এদিকে যাব, আপনি?
আমিও। স্থানীয় ভাষায় ইয়াকুতিয়ার নাম সাহা। আর আমার ফ্যামিলি নেম সাহা।
তাই?
হুম।
আমি এখানে থাকি। আপনি?
আমি এই বিল্ডিং-এ।
মানে আমরা একই বিল্ডিংএর বাসিন্দা।
তাই তো দেখছি।
আচ্ছা রাস্তার ওখানে গাছগুলো আপনার লাগানো?
আমাদের মূল বাগান পেছনের দিকে। এখানে শুরুতে কয়েকটি গাছ লাগিয়েছি।
তাই বলুন। আমি আপনাকে আগে দেখেছি।
মনে হয় সামারে। হালকা পোশাকে। এখন ভারী পোশাক বলে ঠিক চিনতে পারেননি।
উনি দরজা খুলে আমাকে ঢুকতে দিলেন। একই সাথে লিফতে উঠলাম।
আপনি কোন তলায়।
দুই তলায়।
আমি চার তলায়।
ইয়াকুতিয়ায় বেশ বড় একটা নদী আছে। নাম বিজন। আমার নামও বিজন।
এছাড়া রাশিয়ায় একটা শহর আছে বিরুবিজন নামে।
জানি।
আমার নাম আলেক্সান্দর - সাশা।
দেখা হবে। শুভ নববর্ষ।
শুভ নববর্ষ।
আমাদের দেশে লোকজন এক বাড়ি তো দূরের কথা যদি পাড়ায় কেউ আসে দুদিন পরেই তার হাঁড়ির ভাতের খবর জানে। আর এখানে আমরা এতদিন আছি, হতে পারে দেখাও হয়েছে, অথচ আলাপ হয়নি।
বছরের নতুন পরিচয়।
দুবনা, ০৬ জানুয়ারি ২০২৩
https://youtu.be/Yo3bAstfrbw

Comments
Post a Comment