উপলব্ধি

গতকাল স্ত্রাহিনা, ব্রনিস্লাভ ও রাসেলকে নিয়ে লিখেছিলাম। বলেছিলাম ওরা প্রোগ্রামার আর ইঞ্জিনিয়ার বিধায় দ্বিধা ছিল ওদের সাথে কাজ করার ফলাফল নিয়ে। এমনকি যারা এই স্কুলের আয়োজন করে তাদের বলেছিলাম যে এরপর থেকে যারা ফিজিক্স বা নিদেনপক্ষে ম্যাথম্যাটিক্সের শিক্ষার্থী তাদের যেন আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ওরা আমাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। আমি ওদের পারফর্মেন্সে খুব খুশি যা আগেই বলেছি। 

আজ হঠাৎ মনে হল আমরা যা করি সবই কি রেজাল্ট অরিয়েন্টেড হতে হবে? বা সবই কি আমাদের মূল পেশার সাথে সম্পর্কিত হতে হবে? আমি সুযোগ পেলেই পাহাড়ে বা সাগরে ঘুরতে যাই, যাই বিভিন্ন শহরে। কেন? ছবি তুলতে, নিজের জানার পরিধি বাড়াতে। তখন তো প্রশ্ন করি না এর সাথে আমার কাজের সম্পর্ক কী? জীবন বহুমুখী। মূল ফটকের বাইরেও যেমন ছোটখাটো অনেক দরোজা জানালা থাকে, মূল কাজের বাইরেও মানুষের আরোও অনেক ভালোলাগার ভালোবাসার বিষয় থাকে।‌ আসলে ঘুরতে যাওয়া, আড্ডা দেয়া, গল্পের বই পড়া, খেলাধুলা করা, ছবি তোলা, গান শোনা এসবই তো কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার। তাই ওরা যদি কখনও কসমোলজিতে ফিরে নাও আসে নিজেদের রুটিনের বাইরে অন্য কিছু করার এই সুযোগ সেই খোলা হাওয়া যা ওদের নিজেদের কাজে উৎসাহিত করবে। তাছাড়া আজকাল কসমোলজিতে নিউমেরিক্যাল মেথড ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। হতে পারে ওদের কেউ পরবর্তীতে এই লাইনে কাজ করবে। 

আমার মনে হত কাজের আনন্দে আমি কাজ করি, ফলাফল নিয়ে তেমন ভাবি না। কারণ নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে ফল আসবেই। কিন্তু এখন বুঝলাম মনের গভীরে ফলের আশা ঠিক লুকিয়ে আছে, আমিও চেয়েছি আমার ছাত্ররা যেন এই সংক্ষিপ্ত কোর্সটা সিরিয়াসলি নেই। ফলাফল নিয়ে নির্মোহ হওয়া তত সহজ নয়।

দুবনা, ১০ অক্টোবর ২০২৬

Comments

Popular Posts