পাগল

অনেক দিন আগের কথা। ২০০১ - ২০০২ হবে মনে হয়। একদিন অফিস থেকে ফিরে দেখি বাসায় হট্টগোল। কী ব্যাপার? না, বাবুশকা, মানে গুলিয়ার মা গুলিয়াকে বলছেন তিনি নাকি ডেঞ্চার বা নকল দাঁত গিলে ফেলেছেন। গুলিয়া সেটা পাত্তাই দিচ্ছে না। সেই সময় বাসায় টেলিফোন ছিল না, সেল ফোন তখন আমাদের সামর্থ্যের বাইরে। কি করা? আমি গেলাম পাশের বাসা থেকে হাসপাতালে ফোন করে জানতে কি করা। হাসপাতাল থেকে বলল টেনশন না করতে আর বলল ভয় নেই, এটা প্রাকৃতিক উপায়েই বের হয়ে যাবে। বাবুশকাকে এটা বলায় তিনি সান্ত্বনা পেলেন কিনা জানি না, তবে গুলিয়া সুযোগ পেয়ে মাকে বলল, বাথরুমে গিয়ে দাঁতের অপেক্ষা করতে। কি মনে করে আমি বললাম অন্তত দেখাতে দাঁত জায়গা মত আছে নাকি সত্যি সত্যি গিলে ফেলেছেন। কারণ দাঁত হারিয়ে ভদ্রমহিলা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বসে ছিলেন। অনেক বলার পর তিনি যখন মুখ খুলেন, দেখি দাঁতের পাটি তাঁর মুখে বসে মিটিমিটি হাসছে। এরপর অনেক দিন এটা ছিল আমাদের গল্পের বিষয়।

কয়েকদিন আগে গুলিয়া জিজ্ঞেস করল ওর দুট গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট কোথায়। 
- আমি কি করে জানব? 
- শেষ বার আমি তোমাকে পাসপোর্ট দিয়েছিলাম। ঐ ডকুমেন্ট দুটো পাসপোর্টে ছিল। 
মনে পড়ল, পিটার থেকে ভালাম যাওয়ার পথে পুলিশ ডকুমেন্ট চেয়েছিল। এরপর কিছুই মনে নেই। মানে আমি পুলিশকে ডকুমেন্ট দেখিয়েছিলাম কিনা বা দেখালে ঐ ডকুমেন্ট দুটো বের করেছিলাম কিনা। আসলে আমি প্রায়ই জিনিষপত্র এদিক সেদিক রেখে ভুলে যাই। তাই গুলিয়া যদি কোন বিষয়ে আমার দোষ দেয় দৃঢ়তার সাথে না করতে পারি না। যাহোক, গতকাল অনলাইনে সেই দুটো ডকুমেন্টের ই-ভার্সন নামিয়ে নিয়েছি। আজ গেলাম ডাক্তার দেখাতে। কেন যেন মনে হল, আচ্ছা ঐ ডকুমেন্ট যদি অন্য কারও হাতে পড়ে সে তো এসব ব্যবহার করতে পারে। যাহোক, ডাক্তার আমার নাম লেখার জন্য কোন ডকুমেন্ট চাইলে আমি পাসপোর্ট থেকে ইন্স্যুরেন্স বের করতে গিয়ে দেখি এটা পুরানো একটা, তাই অন্য আরেকটা ডকুমেন্ট দিলাম। 
- এটা তো গুলনারার নামে। 
এতক্ষনে বুঝলাম গুলিয়ার ডকুমেন্ট দুটো এত দিন আমার পকেটে বসে ভোলগার হাওয়া খেয়েছে। তাহলে আমার ডকুমেন্ট কোথায়? পাসপোর্টের অন্য মলাটে ওদের দেখা মিলল। এখন ভাবছি গুলিয়াকে কীভাবে হ্যান্ডওভার করব। ওর ব্যাগে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। তবে সেটা ঠিক হবে না। আবার যদি ওকে বলি, বলবে - সেটা তো আমি আগেই জানতাম যে তোমার মাথার সমস্যা। আর এই নিয়ে ছেলেমেয়েদের সাথে হাসাহাসি করবে। অবশ্য মানুষকে হাসাতে পারার মত ভাল কাজ আর কি আছে?

হ্যাঁ, বাড়ি ফিরে যখন গুলিয়াকে বললাম ডকুমেন্ট দু'টো আমার পকেটে ছিল, প্রত্যাশিত ভাবেই ও বলল
- আমি অনেক আগেই জানতাম যে তুমি একটা আস্ত পাগল। 
এতে অবশ্য লাভ হল। এখন থেকে যা খুশি তাই করার সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম আর যেহেতু আগে থেকেই উত্তর সঠিক ভাবে প্রেডিক্ট করতে পেরেছি তাই সময় সুযোগে জ্যোতিষ হিসেবে পার্ট টাইম কাজ করার কথা ভেবে দেখতে পারি।

দুবনা, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

Comments

Popular Posts